(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর চলমান নির্মম নির্যাতনের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে। 

১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান মিয়ানমারে সেনাবাহিনী ‘জাতিগত নিধন’ প্রচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্যের পর সংস্থাটির পক্ষ থেকে এ সিদ্ধান্ত এলো।

এর আগে যুক্তরাজ্য এবং সুইডেন ক্রমবর্ধমান এ মানবিক সংকট নিরসনে নিরপত্তা পরিষদের কাছে বৈঠকে বসার আর্জি জানিয়েছিল। সম্প্রতি সহিংসতা শুরুর পর থেকে রাখাইন অঞ্চলের প্রায় ৩ লক্ষ ৭০ হাজারেরও বেশি সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা মিয়ানমার থেকে প্রতিবেশী দেশ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। গত ২৪ আগস্ট গভীর রাতে বেশ কিছু পুলিশ পোস্টে একযোগে হামলার পর থেকে দেশটির সেনাবাহিনী নজিরবিহীন অমানবিক অভিযান শুরু করে। এর পর থেকেই বাংলাদেশমুখী শরণার্থীর ঢল নামে। 

জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান যাইদ রাআ’দ আল হোসাইন সহিংসতার জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করে গৃহীত পদক্ষেপকে ‘স্পষ্ট বৈষম্য’ আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক বিষয়গুলোর তোয়াক্কাও করছে না বলে দাবি যাইদ।

তিনি মিয়ানমার সরকারের প্রতি চলমান এ সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানান। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার কথাও বলেছেন যাঈদ।

এদিকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গৃহীত পদক্ষেপগুলো আশাব্যঞ্জক। তিনি ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার উখিয়ায় রোহিঙ্গাদের বর্তমান অবস্থা পরিদর্শনে গিয়ে মিয়ানমারের প্রতি ‘রোহিঙ্গাদের দেশে ফিরিয়ে নিতে পদক্ষেপ গ্রহণের অহ্বান’ জানান। তিনি বলেন, ‘মিয়ানমার এ সমস্যার সৃষ্টি করেছে এবং তাদেরকেই এ সমস্যার সমাধান করতে হবে। আমরা আমাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সম্পর্ক চাই।’

অন্যদিকে, বৌদ্ধপ্রধান রাষ্ট্র মিয়ানমারের কর্তৃপক্ষ দাবি করছে তাদের সেনাবাহিনী অস্ত্রধারী রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের সঙ্গে লড়াই করছে। ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে জানানো হয়, ‘কর্তৃপক্ষ সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সাম্প্রতিক সময়ের বিশৃংখলা নিয়ে সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্বেগের বিষয়ে অবগত রয়েছে।’

তবে ইতোমধ্যে ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার থেকে বাংলাদেশ রোহিঙ্গা শরণার্থীদের বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে তালিকাভূক্ত করা শুরু করেছে।

সূত্র: আল জাজিরা

প্রিয় সংবাদ/শান্ত