মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত অবসানে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানায় নিরাপত্তা পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত

রোহিঙ্গা সমস্যার দ্রুত অবসান চায় জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ

বৈঠকে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রই রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সম্মত হয়। নিরাপত্তা পরিষদ বিগত ৯ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম একমত পোষণ করেছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একে ‘বিরল ঐকমত্য’ আখ্যা দিয়েছে।

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:৫৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২
প্রকাশিত: ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ২০:৫৬ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৩২


মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা সমস্যা দ্রুত অবসানে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে আহ্বান জানায় নিরাপত্তা পরিষদ। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) আরাকানে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো। 

নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘের সদর দফতরে স্থানীয় সময় ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে এক জরুরি বৈঠক শেষে পরিষদের সদস্যদের পক্ষ থেকে এ আহ্বান জানানো হয়। এর আগে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য এবং অস্থায়ী সদস্য সুইডেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে বৈঠকের আনুরোধ জানিয়েছিল।

বৈঠকে ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রই রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে সম্মত হয়। নিরাপত্তা পরিষদ বিগত ৯ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম একমত পোষণ করেছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ একে ‘বিরল ঐকমত্য’ আখ্যা দিয়েছে।

বৈঠকের পর এক বিবৃতিতে বলা হয়, “১৫ সদস্যের এই কাউন্সিল মিয়ানমারের রাখাইনে পরিচালিত নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ‘অতিরিক্ত সহিংসতা’র খবরে উদ্বেগ জানিয়েছে। চলমান সহিংসতা বন্ধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং পরিস্থিতির উত্তরণ ঘটাতে হবে। একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বেসামরিক নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হচ্ছে।”

যুক্তরাজ্যের পাশাপাশি নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ফ্রান্স। এই দেশগুলোর প্রতিটির যে কোনো প্রস্তাব আটকে দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

এদিকে মিয়ানমারের ঘনিষ্ঠ দেশ হিসেবে পরিচিত চীন। বাংলাদেশে চীনের রাষ্ট্রদূত রোহিঙ্গা সমস্যার জন্য দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি’কে (এআরএসএ) দায়ী করেছিলেন। এমনকি মিয়ানমারের সরকারও বিদ্রোহী গোষ্ঠিটির সঙ্গে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠির সংশ্লিষ্টতার রয়েছে বলে অভিযোগ উঠে। এর মধ্যেই মিয়ানমারকে চলমান সহিংসতা বন্ধের আহ্বান জানিয়ে ‘শাস্তি’র হুমকি দিয়েছে অাল-কায়েদা

তবে সকল ধরনের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করে একটি বিবৃতি প্রদান করেছে দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সলভেশন আর্মি’কে (এআরএসএ)। একইসঙ্গে তারা রোহিঙ্গাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চলবে বলে ঘোষণা দেয়।

এ দিকে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে ১২ জন নোবেলজয়ী এবং বিশ্বের ১৮ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের কাছে মানবিক এ সংকট নিরসনে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে খোলা চিঠি পাঠিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ২৪ আগস্ট রাতে সহিংসতা শুরুর পর থেকে রাখাইন থেকে ৪ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের প্রধান যাইদ রাআ’দ আল হোসাইন সহিংসতার জন্য মিয়ানমারের সেনাবাহিনীকে অভিযুক্ত করে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তাদের গৃহীত পদক্ষেপকে ‘স্পষ্ট বৈষম্য’ আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তারা আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক বিষয়গুলোর তোয়াক্কাও করছে না বলে দাবি যাইদ। তিনি মিয়ানমার সরকারের প্রতি চলমান এ সংকট দ্রুত নিরসনের দাবি জানান। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের নির্যাতনে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। 

উল্লেখ্য, রোহিঙ্গা একটি নৃগোষ্ঠীর নাম। এর মধ্যে প্রায় ৮ লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের বসবাস করে। পুরো অঞ্চলের জনসংখ্যার মধ্যে তারা শতকরা প্রায় ৯০ ভাগ। রোহিঙ্গাদের আদি আবাসস্থল মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্য। শত শত বছর ধরে রাজ্যটিতে বাস করা রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বের স্বীকৃতি না দিয়ে মিয়ানমার সরকার এ জাতিগোষ্ঠীকে নির্মূল করতে ‘ক্লিয়ারেন্স অপারেশন’ চালাচ্ছে। পুড়িয়ে দেওয়া, হত্যা, ধর্ষণসহ নানা অত্যাচারের পরিপ্রেক্ষিতে জনমানবশূন্য হয়ে গেছে প্রায় ১৭৬টি গ্রাম। ইতিমধ্যে প্রায় তিন হাজার রোহিঙ্গা প্রাণ হারিয়েছে। 

সূত্র: আল জাজিরা

প্রিয় সংবাদ/শান্ত