(প্রিয়.কম) গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গা শিশুদের জন্য আরও এক হাজার ৩০০টি শিক্ষাকেন্দ্র তৈরির ঘোষণা দিয়েছে জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফ। ২৯ সেপ্টেম্বর শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ ঘোষণা দেয় ইউনিসেফ। 

সংস্থাটির বাংলাদেশ প্রতিনিধি এডওয়ার্ড বেগবেডার বলেন, ‘এই সংকটপূর্ণ সময়ে রোহিঙ্গা শিশুরা অনেক বেশি ভুক্তভোগী, এই সময়ে তাদের নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে শিক্ষার সুযোগ দেওয়া উচিত। এখনই তাদের পর্যাপ্ত স্বাভাবিক জ্ঞানের প্রয়োজন, যাতে তারা তাদের ভবিষ্যত গড়তে পারে।’
 
তিনি জানান, ইউনিসেফ কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প ও অস্থায়ী বসতিগুলোয় বর্তমানে ১৮২টি শিক্ষাকেন্দ্র পরিচালনা করছে, যাতে ১৫ হাজার শিশু নিবন্ধিত রয়েছে। শিশুদের এই শিক্ষাকেন্দ্রের সংখ্যা দেড় হাজারে উন্নীত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে ইউনিসেফ। যাতে আগামী বছরের মধ্যে অন্তত দুই লাখ রোহিঙ্গা শিশুর কাছে মৌলিক শিক্ষা পৌঁছাতে পারে।
 
ইউনিসেফের শিক্ষাকেন্দ্রে চার থেকে ছয় বছর বয়সী শিশুদের প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এবং ছয় থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের অনানুষ্ঠানিক মৌলিক শিক্ষা দেওয়া হবে। সেখানে ইংরেজি, গণিত, বার্মিজ, বিজ্ঞান, কলা ও সংগীত বিষয়ে শিখতে পারবে রোহিঙ্গা শিশুরা। তারা সেখানে কাউন্সেলিং নেওয়ার সুযোগও পাবে।
 
প্রত্যেকটি শিক্ষাকেন্দ্র তিন শিফটে চলবে। যার প্রতি শিফটে ৩৫ জন করে শিশুকে পাঠদান করা হবে। আর এসব শিক্ষাকেন্দ্রে আসা শিশুদের বই, খাতা-কলম, রঙিন পেন্সিল ও স্কুল ব্যাগসহ অন্যান্য শিক্ষা উপকরণও সরবরাহ করবে ইউনিসেফ।
 
এর আগে ২৬ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হা‌সিনার নি‌র্দেশনা অনুযায়ী রোহিঙ্গা শিশুদের স্মার্ড কার্ড দেয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হ‌য়ে‌ছে বলে এক সংবাদ স‌ম্মেলনে জানান সমাজকল্যাণ প্র‌তিমন্ত্রী নুরুজ্জামান আহ‌মেদ।

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে। ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে রোহিঙ্গার সংখ্যা ৪ লাখ ৮০ হাজারে গিয়ে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থাগুলোর সমন্বয় কমিটি।

সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআর কতৃক নিবন্ধিত ১৭.২ মিলিয়ন শরণার্থীর ৩০% এখন বাংলাদেশে। এরই মধ্যে চলমান রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ।

গত ১৩ সেপ্টেম্বর বুধবার মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সরকারি বাহিনীর চলমান নির্মম নির্যাতনের প্রেক্ষিতে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়। রোহিঙ্গা ইস্যুতে এ বৈঠকের অনুরোধ জানিয়েছিল নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য যুক্তরাজ্য এবং অস্থায়ী সদস্য সুইডেন।

তবে ১২ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইউ কিউ জেইয়া দেশটির সংবাদমাধ্যমকে জানান, এই বৈঠকে অংশ নেবেন না মিয়ানমারের ক্ষমতাসীন দলের নেত্রী অং সান সু চি

আর বুধবার বৈঠক শেষে আরাকানে চলমান রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলো।

এ ছাড়া রোহিঙ্গা ইস্যুতে আলোচনার জন্য ফের বৈঠক ডাকতে অনুরোধ করেন জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সসহ সাত দেশ। নিরাপত্তা পরিষদের তিন স্থায়ী সদস্য ছাড়া অন্য দেশগুলো হচ্ছে- মিসর, কাজাখস্তান, সেনেগাল ও সুইডেন।

প্রিয় সংবাদ/মিজান