শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

স্লোগানে উত্তাল বিশ্ববিদ্যালয়গুলো

সোমবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

ইতি আফরোজ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:০৪ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১১:০০
প্রকাশিত: ০৯ এপ্রিল ২০১৮, ১৭:০৪ আপডেট: ১৯ আগস্ট ২০১৮, ১১:০০


শাহবাগ অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের হামলার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। দেশের বিভিন্ন মহাসড়ক অবরোধ করে দফায় দফায় আন্দোলন করছেন তারা।

৯ এপ্রিল, সোমবার সকাল থেকে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ক্যাম্পাসে ছাত্র ধর্মঘট ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা।

সোমবার সকাল ১০টার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা’র ব্যানারে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। পরে দুপুর পৌনে ১টায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ হঠাৎ জলকামান, টিয়ারশেল এবং রাবার বুলেট ব্যবহার করে। পুলিশের ছোড়া গুলি এবং টিয়ারশেলের আঘাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সিকদার মো. জুলকারনাইনসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। আহতদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার এবং সাভারে অবস্থিত এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

 
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আহত এক শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছেন সহপাঠীরা। ছবি: প্রিয়.কম

এদিকে সকাল ১০টা থেকে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন ঢাকা-খুলনা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয় গেট থেকে এক কিলোমিটার দূরে মহাসড়কে অবস্থান নিয়ে আন্দোলনকারীরা ‘বঙ্গবন্ধুর বাংলায় বৈষম্যের ঠাঁই নাই’, ‘পিতা তুমি ফিরে এসো, বৈষম্য দূর করো’সহ নানা স্লোগান দেন।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ওই মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। ফলে মহাসড়কের দু’পাশে কয়েক কিলোমিটার অংশে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকাল ৮টার দিকে ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়কে বিক্ষোভ করেন। তিন সহস্রাধিক শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে প্রধান ফটকের সামনে সড়ক অবরোধ করেন। এতে করে উভয় দিকেই যানজটের সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়েও (চবি) ক্লাস বর্জন কর্মসূচি চলছে। সোমবার সকাল থেকে অধিকাংশ বিভাগে ক্লাস হয়নি। ক্যাম্পাসেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি ছিল কম। এদিকে ষোলশহর এলাকায় সকালে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেও পরে তা স্থগিত করা হয়।

অন্যদিকে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবি) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ধর্মঘটে বাধা দিয়েছে ছাত্রলীগ।

শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে কথা বলতে রওনা দিয়েছেন কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরতদের একটি প্রতিনিধিদল। ২০ সদস্যের এ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্বে রয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন। ৯ এপ্রিল, সোমবার বিকেল ৩টার দিকে রওনা দেন তারা।

উল্লেখ্য, ৮ এপ্রিল, রবিবার শাহবাগ মোড়ে অবস্থানরত আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হটানোর জন্য রাত ৮টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ শুরু করে। এরপর শুরু হয় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া। এরপরই শাহবাগ এলাকাসহ দেশজুড়ে ক্ষোভ তৈরি হয় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ভেতর।

এর আগে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি থেকে সরকারি চাকরিতে কোটাব্যবস্থার সংস্কারসহ পাঁচ দফা দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষার্থী। 

প্রিয় সংবাদ/আজাদ চৌধুরী