(প্রিয়.কম) মিয়ানমার সফররত যুক্তরাষ্ট্রের উপ-সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্যাট্রিক মারফিকে রাখাইনের রোহিঙ্গা অধ্যুষিত এলাকা মংডুতে পরিদর্শনে যেতে অনুমতি দেয়নি দেশটির সরকার। রাখাইনে দমন-পীড়নের মধ্যে মানবিক সঙ্কট তৈরির প্রেক্ষাপটে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ জানাতে এবং সেখানে ত্রাণ ও মানবাধিকারকর্মীদের ঢুকতে দিতে চাপ তৈরির উদ্দেশ্যে মিয়ানমার সফর করছেন প্যাট্রিক মারফি।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, রোহিঙ্গাদের ওপর দমন-পীড়ন চলার মধ্যে মিয়ানমার সফররত যুক্তরাষ্ট্রের উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী রাখাইনের মংডু জেলার কোনো স্থানে যেতে দেওয়া হবে না বলে শুক্রবার দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

মিয়ানমারের নেত্রী অং সান সুচির প্রতি সমর্থন প্রকাশ করলেও রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর সেনা নির্যাতন বন্ধের দাবি জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

মিয়ানমারের কর্মকর্তারা বলছেন, প্যাট্রিক মারফি রাজধানী নেপিদোতে সরকারি নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং মঙ্গলবার জাতির উদ্দেশে সুচির ভাষণ অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন।

রাখাইন রাজ্যের রাজধানী শিডউয়েও সফর করতে পারবেন যুক্তরাষ্ট্রের এই উপ সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে রাজ্য গভর্নরের সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হতে পারে বলে রয়টার্সকে জানান রাজ্য সরকারের সচিব তিন মং স্যি। কিন্তু সেনা অভিযান চলা রাজ্যের উত্তরাঞ্চলের মংডু জেলা পরিদর্শনের বিষয়ে মং স্যি বলেন, ‘(যাওয়ার) অনুমতি পাবেন না।’

মংডুতে ত্রাণ কর্মীদের যাওয়া নিষিদ্ধ করা হয়নি বলে শুক্রবার মিয়ানমার বললেও সরকারের একজন মুখপাত্র বলেছেন, পরিস্থিতির কারণে ত্রাণকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে কর্তৃপক্ষের উদ্বেগ রয়েছে।

বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা বলছেন, রাখাইনে সেনা সদস্যরা তাদের নির্বিচারে হত্যা করছে, জ্বালিয়ে দিচ্ছে ঘর। সাম্প্রতিক সেনা অভিযান শুরুর পর গত তিন সপ্তাহে প্রায় চার লাখ রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। এ ধরনের সেনা অভিযানকে ইতোমধ্যে ‘জাতিগত শুদ্ধি অভিযানের যথাযথ দৃষ্টান্ত’ বলেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত