(প্রিয়.কম) এক শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে ফার্টিলিটি রেকর্ড রাখা হচ্ছে আমেরিকায়, আর এই রেকর্ড অনুযায়ী সবচাইতে কম জন্মহার দেখা যাচ্ছে চলতি বছরে। ২০১৭ এর প্রথম ৩ মাসের মাথায় দেখা যায়, ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী নারীদের মাঝে প্রতি ১,০০০ জনে সন্তান জন্ম নিচ্ছে মাত্র ৬১,৫টি। গত মঙ্গলবার ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিকসের প্রকাশ করা রিপোর্ট থেকে তা জানা যায়। 

গত বছরের চাইতেও এই হার কমে এসেছে বলে দেখা যায় এই রিপোর্টে। ২০১৬ সালের এই সময়ে প্রতি ১,০০০ জন নারীতে সন্তান জন্ম নিচ্ছিল ৬২.৫টি। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় গত বছর থেকে এই পরিমাণ কমে আসাটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা, বলেন ব্র্যাডি হ্যামিলটন। তিনি  ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিকসে কর্মরত স্টাটিসটিশিয়ান-ডেমোগ্রাফার এবং ফার্টিলিটি সংক্রান্ত তথ্যের একজন বিশেষজ্ঞ।

এই তথ্য থেকে মোটামুটি ধরে নেওয়া যায় একটি নির্দিষ্ট সময়ে জনসংখ্যায় কী পরিমাণ নবজাতক শিশু যোগ দিচ্ছে। তথ্যটা থেকেই মোটামুটি ধারণা করে নেওয়া যায় তাদের সন্তান জন্মদানের হার কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে। 

“সন্তান জন্মের তথ্য থেকে আমরা জানতে পারি সমাজের সেইসব ভবিষ্যৎ সদস্যের ব্যাপারে যারা বর্তমানের কর্মশক্তিকে প্রতিস্থাপিত করবে এবং রাজস্ব আয় করবে,” বলেন হ্যামিলটন। “সুতরাং এই তথ্য থেকে দেখা যাচ্ছে আমেরিকার ডেমোগ্রাফি কীভাবে পরিবর্তন হয়েছে। এটাও দেখা যায় আমাদের বর্তমান অবস্থান কোথায়।“

এখানে একটা জিনিস উল্লেখ্য। যদিও জন্মহার এখন কম, কিন্তু আমেরিকায় অভিবাসী প্রবেশ করছে অনেক বেশি পরিমাণ। এটা জনসংখ্যা, ট্যাক্স এবং শিক্ষার খাতে প্রভাব ফেলবে। 

ন্যাশনাল সেন্টার ফর হেলথ স্ট্যাটিসটিকসের এই রিপোর্ট বার্থ সার্টিফিকেটের ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। এ কারণে এর থেকে বেশকিছু তথ্য জানা যায়না, যেমন মানুষ বাচ্চা নেওয়ার সময়ে কী কী ভাবে, কী সিদ্ধান্ত নেয়। জন্মহার বছরের পর বছর কেন কমে যাচ্ছে এ ব্যাপারে শুধু ধারণার ওপরেই নির্ভর করতে হয়। হয়তো অর্থনীতি এবং নারীর ক্যারিয়ার এবং শিক্ষার ওপরে জোর দেবার কোনো প্রভাব আছে এতে। 

ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর ওপর প্রভাব

মাউন্ট সিনাই হসপিটালের রিপ্রোডাক্টিভ এন্ডক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি ডিভিশনে ডিরেক্টর, ডঃ অ্যালান কপারম্যান জানান, জন্মহার আমাদেরকে সাহায্য করে রোগের ঝুঁকি জানতে, বন্ধ্যাত্বের পূর্বাভাস দিতে এবং বিভিন্ন বয়সের নারীর মাঝে গর্ভধারণের হারে পরিবর্তন এসেছে কিনা। 

“আমি মনে করি না যে ত্রৈমাসিক এই উপাত্তে খুব বেশি পরিবর্তন এসেছে, কিন্তু এটা স্বীকার করতেই হবে যে চল্লিশোর্ধ নারীদের জন্য গর্ভধারণ খুবই কঠিন,” বলেন কপারম্যান। 

ত্রৈমাসিক রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ৪০-৪৪ বছর বয়সী প্রতি ১,০০০ নারীর সন্তান জন্ম নেয় ১১.৪টি, যেখানে ৩০-৩৪ বছর বয়সী ১,০০০ নারীর সন্তান জন্ম নেয় ১০১,৯টি। জৈবিক এবং সামাজিক দুই দিক দিয়েই এই ট্রেন্ড দেখা হায়। 

“দিনে দিনে আরো বেশি নারী কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করছেন এবং সন্তান ধারণ করছেন দেরিতে। এর ফলে জন্মহার কমে আসছে,” তিনি বলেন। “কিন্তু চিন্তার বিষয় এটা না, চিন্তার বিষয় হলো সেসব সমস্যা যার কারণে নারীরা গর্ভধারণ করতে চাইছেন কিন্তু পারছেন না।”

এ সমস্যার সমাধান হিসেবে তিনি নারীদের পরিবার পরিকল্পনার ব্যাপারে আরো জানানোর কথা বলেন। এর অর্থ হলো, একজন নারী যখনই পরিবার বড় করতে চান, তখন যেন সন্তান ধারণের উপায় তার থাকে। এসব উপায়ের উদাহরণ হলো এগ বা এমব্রায়ো ফ্রিজিং।  তিনি আশা করছেন শীঘ্রই নারীরা এ ব্যাপারে আরো জানতে পারবে এবং ফ্যামিলি প্ল্যানিং এর সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে পারবে। 

সূত্র: CNN

সম্পাদনা : রুমানা বৈশাখী