সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, মামলা হচ্ছে কিন্তু হিসাব নাই কারো কাছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

হিসাব রাখে না কেউ

আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিম কোর্ট, এমনকি ঢাকা জজকোর্ট ও মহানগর আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার হিসাব দিতে পারেননি।

আমিনুল ইসলাম মল্লিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:৫৩ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩২
প্রকাশিত: ২৯ এপ্রিল ২০১৮, ০৭:৫৩ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ০৪:৩২


সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, মামলা হচ্ছে কিন্তু হিসাব নাই কারো কাছে। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) দেশে প্রতিদিনই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা। এতে আহত-নিহত হচ্ছেন বহু মানুষ। মামলাও হচ্ছে। কিন্তু সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় এ পর্যন্ত মামলার সংখ্যা কত, বিচারাধীন রয়েছে কতগুলো, সাজা দেওয়া হয়েছে কতগুলোতে; তার সঠিক কোনো হিসাব নেই সরকারের সংশ্লিষ্ট কোনো দফতরে। আইন মন্ত্রণালয়, সুপ্রিম কোর্ট, এমনকি ঢাকা জজকোর্ট ও মহানগর আদালত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলার হিসাব দিতে পারেননি।  

অবশ্য বছরে কী পরিমাণ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, সে বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে বেসরকারি সংস্থা নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের (নিসচা) কাছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে দুই হাজার ৬২৬টি। এতে পাঁচ হাজার তিনজন নিহত এবং ছয় হাজার ১৯৭ জন আহত হয়েছেন।

সংস্থাটি জানায়, ২০১৬ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে দুই হাজার ৩১৬টি। এতে নিহত হন চার হাজার ১৪৪ জন। আর আহত হন পাঁচ হাজার ২২৫ জন। ২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তিন হাজার ৩৪৯টি। এতে নিহত হন পাঁচ হাজার ৬৪৫ জন। আর আহত হন সাত হাজার ৯০৮ জন। 

২০১৭ সালের সড়ক দুর্ঘটনার মধ্যে বাস, মিনিবাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকার দুর্ঘটনা নয়শ ৬৩টি, পণ্যবাহী ট্রাক, মিনি ট্রাক, (ইট-বালু-মাটি) বহনকারী যানবাহনের দুর্ঘটনা নয়শ ৪১টি, মোটরসাইকেলের দুর্ঘটনা সাতশ ২০টি, কাভার্ড ভ্যান ও এ ধরনের যানবাহনের দুর্ঘটনা ১০৭টি। আর নসিমন, করিমন, ভটভটি, অটোবাইক, সিএনজি চালিত অটোরিকশা, ইজিবাইক, লেগুনা, টেম্পু, আলমসাধু, মহেন্দ্র, ইঞ্জিনচালিত রিকশাসহ অবৈধ যানবাহনের দুর্ঘটনা ঘটেছে ছয়শ ১৮টি।

প্রতিদিনই দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটছে, মামলাও হচ্ছে। কিন্তু সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে কতগুলো মামলা হচ্ছে, নিষ্পত্তি হচ্ছে কতগুলোর, সাজা দেওয়া হচ্ছে কতজনকে, খালাস পাচ্ছেন কতজন, তার কোনো পরিসংখ্যান নেই দায়িত্বশীলদের কাছে।  

এ বিষয়ে ঢাকা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) খোন্দকার আব্দুল মান্নান প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বা নিহত ব্যক্তিদের বিষয়ে মামলা হয় পেনাল কোড (দণ্ডবিধি) অথবা ফৌজদারি কার্যবিধি (সিআরপিসি) আইন অনুযায়ী। এসব মামলা পরিচালনার জন্য আলাদা কোনো ট্রাইব্যুনাল বা আদালত নেই। যখন কোনো দুর্ঘটনা ঘটে, তখন ভুক্তভোগীরা আদালতে মামলা করেন ক্ষতিপূরণ চেয়ে। আদালত শুনানি শেষে মামলার রায় ঘোষণা করে।’

সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনার ঠিক কতগুলো মামলা বিচারাধীন আছে, এ প্রশ্নের জবাবে রাষ্ট্রপক্ষের এ কৌঁসুলি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমার কাছে হিসাব নেই।’

এ বিষয়ে আইন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ড. রেজাউল করিম প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘সড়কে যানবাহন দুর্ঘটনায় মামলার সঠিক হিসাব আমাদের কাছে নেই। সুপ্রিম কোর্ট এসব হিসাব সংরক্ষণ করেন।’

সুপ্রিম কোর্টের স্পেশাল অফিসার সাইফুর রহমান প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘সুপ্রিম কোর্টে এরকম নির্দিষ্ট কোনো হিসাব নেই। সড়ক দুর্ঘটনায় দায়ের করা মামলার হিসাব আমরা সংরক্ষণ করি না। আমরা সারা দেশের বিচারিক আদালত ও হাইকোর্টে যতগুলো ফৌজদারি, দেওয়ানি ও রিট মামলা হয়, সেগুলোর হিসাব রাখি।’

সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে বাসচালক সোহরাব হোসেন প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার বড় কারণ হলো চালকদের ঘুম ঘুম ভাব। আঞ্চলিক রাস্তায় দুর্ঘটনা ঘটে ছোট ছোট গাড়ির সংখ্যা বেশি হওয়ায়। এসব ছোট গাড়িগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থেকে রাস্তায় চলাচল করে।’

সোহরাব আরও বলেন, ‘গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে সাবধান থাকতে হয়। সামান্য অসচেতন হলেই দুর্ঘটনার সম্ভাবনা থাকে। রাস্তার সংস্কার না হওয়ায় অনেক সময় গাড়ি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এতে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয়।’

এই বাসচালক অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) অনেক দিন হলো গাড়ির লাইসেন্স দিচ্ছে না। অনেকেই লাইসেন্স ছাড়াও গাড়ি চালাচ্ছেন। অনেকে আবার নেতাদের মাধ্যমে লাইসেন্স নিয়ে থাকেন, যোগ্যতা কম থাকলেও।

যান্ত্রিক ত্রুটির কারণেও অনেক সময় আমাদের দেশে যানবাহনগুলো দুর্ঘটনার শিকার হয় বলে মন্তব্য করেন সোহরাব হোসেন। রাস্তায় চলাচলের ক্ষেত্রে গাড়িচালকের পাশাপাশি যাত্রীদেরও সাবধানে চলাচল করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

রাজধানীর এক নারী প্রাইভেটকারচালক আসমা আক্তার প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘আমরা যখন রাস্তায় গাড়ি নিয়ে যাতায়াত করি, তখন দেখতে হয় আমাদের গাড়ির প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ঠিকঠাক আছে কি না। তেল, মবিল, গাড়ির  প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, ড্রাইভিং লাইসেন্সসহ সবকিছু।’

‘রাজধানীর অনেক এলাকা আছে যেখানে গতির কথা চিন্তা করে গাড়ি চালাতে হয়। যেমন ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় গাড়ি চালানোর জন্য ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে গাড়ি চালাতে হয়। এরকম প্রতিটি এলাকাভেদে গাড়ি চালানোর জন্য গতি মেপে মেপে গাড়ি ড্রাইভিং করা উচিত। নিয়ম কানুন মেনে গাড়ি চালালে দুর্ঘটনা কম হয়। নিয়মের বাইরে গেলে অনেক সময় দুর্ঘটনায় অনেকেই আহত ও নিহত হন’, যোগ করেন আসমা। 

অবশ্য সড়ক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও শাস্তি কতটুকু কার্যকর হয়েছে, সেটিও জানেন না কেউ। সম্প্রতি তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজীব হাসানের বাস দুর্ঘটনায় আহত হয়ে মৃত্যুর খবরটি সবার মনে নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনার বিচার কবে নাগাদ হবে, সেটি নিযেও প্রশ্ন জনমনে।

২০১৭ সালে সড়ক দুর্ঘটনায় চলচিত্র নির্মাতা তারেক মাসুদের নিহত হওয়ার ঘটনায় ঐতিহাসিক রায় দিয়েছেন আদালত।কিন্তু হাইকোর্টের সে রায় এক পক্ষ মানলেও আরেক পক্ষ আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন। আদালত এ রায় ঘোষণা করার সময় মতামতে বলেছেন, জরিমানা দিয়ে একজন মানুষের জীবন ফেরত পাওয়া যায় না।

এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইসরাত জাহান প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘এটি একটি মামলা, ঐতিহাসিক রায়। এ রায় বাস্তবায়ন সকলের জন্যই জরুরি।’ এই আইনজ্ঞের আশা, হাইকোর্টের রায় আপিল বিভাগ বহাল রাখবেন।  

তারেক মাসুদের মামলার বিবাদী পক্ষের (ইন্সুরেন্স) আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘এ মামলায় ইন্সুরেন্স কোম্পানি ইতোমধ্যে ৮০ হাজার টাকা নিহত তারেক মাসুদের স্ত্রী ক্যাথরিন মাসুদের ঠিকানায় পাঠিয়েছেন।’

এ ছাড়া হাইকোর্টের রায়ের অনুলিপি গত ২-৩ সপ্তাহ আগে প্রকাশিত হয়েছে বলে জানান এই আইনজীবী। 

আইনজীবী ইমরান এ সিদ্দিক বলেন, ‘রায়ের কপি হাতে পেয়ে ৬০ দিনের (দুই মাস) মধ্যে আপিল করবে বাস মালিকপক্ষ।’  

সড়ক দুর্ঘটনা প্রসঙ্গে নিসচার চেয়ারম্যান ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি জনবহুল দেশ। আর এর তুলনায় সড়ক ও পরিবহন ব্যবস্থা যথেষ্ট যথোপযুক্ত নয়। যার জন্য প্রতিনিয়তই ঘটছে নানা অনাকাঙ্ক্ষিত সড়ক দুর্ঘটনা। এর শিকার হচ্ছেন সর্বস্তরের জনগণ। পাবলিক থেকে প্রাইভেট, সব পরিবহনেই অহরহ দুর্ঘটনা ঘটছে।’ 

সংস্থাটির চেয়ারম্যান আরও বলেন, ‘টেলিভিশন চ্যানেল অথবা খবরের পাতা উল্টালেই চমকে উঠতে হয় সড়ক দুর্ঘটনার তথ্যে। অশিক্ষিত চালক, দুর্বল ট্রাফিক ব্যাবস্থাপনা, ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, জনগণের অসচেতনতা, অনিয়ন্ত্রিত গতি, রাস্তা নির্মাণে ক্রটি, আইন ও তার যথারীতি প্রয়োগ না থাকা, রাজনৈতিক সদিচ্ছার অভাবই মূল কারণ।’  

১৯৯৩ সালে সহধর্মিনী জাহানারা কাঞ্চনের মৃত্যুর পর ইলিয়াস কাঞ্চন সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলেন। নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) নামে একটি সংস্থা গড়ে তোলেন। এ চিত্রনায়ক বলেন, ‘কর্মীদের অক্লান্ত পরিশ্রমে দেশ ও বিদেশে সংস্থাটির ১২০টি শাখা সক্রিয়ভাবে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে।’

তারেক মাসুদের পরিবারকে চার কোটি ৬১ লাখ ৭৫ হাজার ৪৫২ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। তিন মাসের মধ্যে এ নির্দেশ পালন করতে বলা হয়েছে। বাসের মালিক, চালক ও ইনস্যুরেন্স কোম্পানি এই ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদান করবে। 

২০১১ সালে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার জোকা এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হন তারেক মাসুদ ও সাংবাদিক মিশুক মনির।

২০১২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি নিহত ব্যক্তিদের পরিবার মানিকগঞ্জ জেলা জজ আদালতে মোটরযান অর্ডিন্যান্সের ১২৮ ধারায় ঘাতক বাসের মালিক, চালক এবং ইনস্যুরেন্স কোম্পানির বিরুদ্ধে ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেন। পরবর্তী সময়ে সংবিধানের ১১০ আর্টিকেল (অনুচ্ছেদ) অনুযায়ী মামলা দুটি হাইকোর্টে বদলির নির্দেশনা চেয়ে আবেদন করার পরিপ্রেক্ষিতে নিম্ন আদালত থেকে মামলা দুটি স্থানান্তর করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দেন।

যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে হাইকোর্টে যে রায় ঘোষণা করেছে, তা ঐতিহাসিক। এ রায় বেপরোয়া পরিবহন খাতকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি আদালতের এ রায় প্রমাণ করেছে সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’

সড়ক দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রাজীব। ছবি: সংগৃহীত 

সড়ক দুর্ঘটনায় হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় রাজীব। ছবি: সংগৃহীত 

আর তিতুমীর কলেজের ছাত্র রাজিব বাস দুর্ঘটনায় গত ১৬ এপ্রিল, সোমবার রাতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ৩ এপ্রিল, রাজধানীতে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুটি বাসের রেষারেষির কারণে ডান হাত হারিয়েছিলেন রাজিব। পরদিন দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদনের আলোকে হাইকোর্ট স্বতঃপ্রণোদিতভাবে আদেশ দেন।

আদেশে আদালত বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত রাজীবের চিকিৎসা করাতে সকল খরচ দেবে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের মালিকপক্ষ। আদালত রাজীবের ক্ষতিপূরণ বাবদ এক কোটি টাকা দিতে রুল জারি করেন।

হাইকোর্টের এই রুলের বিষয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর সঙ্গে এখনো যোগাযোগ করেনি বাসের মালিকপক্ষ। তারা উদাসীনতার পরিচয় দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ মামলার রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অরবিন্দ কুমার রায় আনন্দ প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘রাজীব হোসেনকে এক কোটি টাকার ক্ষতিপূরণের রুলের শুনানি হবে। আদালত চূড়ান্ত শুনানি করে রায় ঘোষণা করবেন। সে পর্যন্ত আমাদের সকলেরই অপেক্ষা করতে হবে।’

‘বাস মালিকরা এখনো আমার সঙ্গে এ মামলার ব্যাপারে কথা বলেননি, যোগাযোগও করেননি। হয়তো বলবেন। এখানে সরকারি বাস হলো বিআরটিসি, স্বজন পরিবহন হলো ব্যক্তি মালিকানার বাস। স্বজন পরিবহন আলাদাভাবে আইনজীবী নিয়োগ করতে পারে’, যোগ করেন অরবিন্দ।

হাত হারানোর পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া রাজীবের পক্ষে ক্ষতিপূরণ চেয়ে হাইকোর্টে দায়ের করা রিট মামলা চালানোর ঘোষণা দিয়েছেন ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি প্রিয়.কমকে  বলেন, ‘রাজীবের মৃত্যু অপ্রত্যাশিত ছিল। তার মৃত্যুতে আমি ব্যথিত, শোকাহত। রাজীব বেঁচে থাকা অবস্থায় তার হাত কাটার ঘটনার (অঙ্গহানি) জন্য এক কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে আমি হাইকোর্টে রিট করেছিলাম। শুনানি শেষে আদালত রুল জারি করেছিলেন।’

‘একজন মানুষের জীবন টাকা দিয়ে কিনতে পাওয়া যায় না। রাজীব মারা যাবে বিশ্বাস হচ্ছিল না। সকালে শুনলাম রাজীব আর নেই। এ খবর শুনে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আদালতে রাজীবসহ এ যাবৎ যারাই সড়ক দুর্ঘটনায় আহত-নিহত হয়েছেন, তাদের সকলের জন্য নির্দেশনা চেয়ে শুনানি করব’, বলেন রুহুল কুদ্দস কাজল।

এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘সাধারণ মানুষ যেন রাস্তা থেকে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারে, সেজন্য  নির্দেশনা চেয়ে আদালতে আইনি যুক্তি তুলে ধরব। জীবন টাকা দিয়ে কিনতে পাওয়া যায় না। আদালতে রাজীবের জীবনের রেফারেন্স দিয়ে বলব, যারা (সর্বস্তরের জনগন) রাস্তায় যানবাহনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তাদের সকলের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন দেওয়ার জন্য।’

গত ৩ এপ্রিল বিআরটিসি বাসের গেটে রাজীব দাঁড়িয়ে যাচ্ছিলেন এবং তার ডান হাতটি সামান্য বাইরে ছিল। পেছনে থেকে হঠাৎ করে আসা স্বজন পরিবহনের একটি গাড়ি বিআরটিসি বাসের গা ঘেঁষে ওভারটেক করার সময় রাজীবের হাত চাপা পড়ে। এতে তার ডান হাতের কবজির উপর পর্যন্ত বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মাথায় গুরুতর আঘাতের পাশাপাশি মস্তিষ্কেও আঘাত পান রাজীব। ঘটনার পরে ১৩ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে হার মানেন তিনি।

রাজীবের ঘটনায় সংশ্লিষ্ট বিআরটিসির বাসচালক ওয়াহিদ (৩৫) ও স্বজন পরিবহনের চালক খোরশেদকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ১৬ এপ্রিল সোমবার তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

১৯৮৯ সালে সড়ক দুর্ঘনায় নিহত হন সাংবাদিক মোজাম্মেল হোসেন মন্টু। তিনি দৈনিক সংবাদের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হওয়ার পর ২৬ বছর পর আপিল বিভাগে তার মামলা নিষ্পত্তি হয়। রায়ে চূড়ান্তভাবে এক কোটি ৬৯ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণের রায় দেওয়া হয়। কিন্তু সেই ক্ষতিপূরণের টাকা এখনো হাতে পাননি সাংবাদিক মন্টুর পরিবার।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত