(প্রিয়.কম) ২২ সেপ্টেম্বর শুক্রবারের স্যাটেলাইট ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল দাবি করেছে, রাখাইন রাজ্যে আরও বহু জায়গায় নতুন করে আগুন দেওয়া হয়েছে। 

স্যাটেলাইট চিত্র ছাড়াও শুক্রবার রাখাইন রাজ্যের তিনটি ভিডিও এসেছে অ্যামনেস্টির হাতে, যেখানে নতুন করে আগুন দেওয়ার চিত্র স্পষ্ট এবং এসব ভিডিওতে তীব্র ধোঁয়ার কুন্ডলী দেখা গেছে।

রাখাইনের স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাত দিয়ে অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী নতুন করে এসব আগুন দিয়েছে।

সংস্থাটির ক্রাইসিস রেসপন্স ডিরেক্টর তিরানা হাসান বলেন, গত ১৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা ইস্যুতে দেশটির নেত্রী অং সান সু চি বলেছিলেন ৫ সেপ্টেম্বরের পর থেকে রাখাইনে আর কোনো সেনা অভিযান হয়নি। নতুন ভিডিও ও স্যাটেলাইট চিত্র তার কথাকে অসাড় প্রমাণ করেছে।

স্যাটেলাইট

স্যাটেলাইট চিত্রে নতুন করে রাখাইনে আগুন দেওয়ার প্রমাণ। ছবি: অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল

তিনি বলেন, নতুন করে রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর প্রায় তিন সপ্তাহ পর এই প্রথম অ্যামনেস্টির হাতে এমন অকাট্য ভিডিও প্রমাণ এলো। সেনাবাহিনী শুধু রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করেই ক্ষান্ত থাকেনি, তারা রোহিঙ্গাদের বাড়িঘরও জ্বালিয়ে দিচ্ছে। তারা এটা নিশ্চিত করতে চাইছে যে, রোহিঙ্গাদের যেন ফেরার মতো আর কোনো আশ্রয় বাকি না থাকে। 

অ্যামনেস্টির হাতে থাকা ৩টি ভিডিওর একটি গত ২১ সেপ্টেম্বর তোলা হয়েছে। ওই ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, মংডুর কাছেই পার ওয়াত চং গ্রামে কৃষকের ক্ষেত খামার পুড়ছে, সেখান থেকে ব্যাপক ধোঁয়ার কুন্ডলী বের হচ্ছে।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেছেন, মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিপি ওইদিন বিকেলে এ আগুন দিয়েছে। 

অ্যামনেস্টি গত ১৬ সেপ্টেম্বর ও ২২ সেপ্টেম্বর ওয়াত চং গ্রামের স্যাটেলাইট চিত্রের তুলনামূলক বিশ্লেষখ করে দেখেছে। একই গ্রামের দুই সময়ের দুই চিত্র থেকে পুড়িয়ে গ্রামটিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রমাণ পাওয়া গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১১ আগস্টে রাখাইন রাজ্যে সেনা মোতায়েনের পর ২৫ আগস্ট রোহিঙ্গা ‘জাতিগত নিধন’ শুরু করে। ঘটনায় প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে লাখ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থী। পুরানো পাঁচ লাখ রোহিঙ্গার সাথে নতুন অভিযানে ইতোমধ্যে যোগ হয়েছে আরও প্রায় পাঁচ লাখ রোহিঙ্গা।

সারা বিশ্বে ইউএনএইচসিআর কতৃক নিবন্ধিত ১৭.২ মিলিয়ন শরণার্থীর ৩০% এখন বাংলাদেশে। এরই মধ্যে চলমান রোহিঙ্গা ঢল অব্যাহত থাকলে শরণার্থীর এ সংখ্যা ১০ লাখে পৌঁছাতে পারে বলেও সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। এত সংখ্যক শরণার্থীর দায়িত্ব তাদের পক্ষেও নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

প্রিয় সংবাদ/রিমন