রাখাইনে ফের সহিংসতায় ১২ সেনাসহ নিহত ৮৯

মিয়ানমার আনুষ্ঠানিকভাবে রাখাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রোহিঙ্গা বলে না। এদের সাধারণত উত্তর রাখাইনের মুসলিম বলা হয়।

আশরাফ ইসলাম
সহ-সম্পাদক
২৬ আগস্ট ২০১৭, সময় - ০৯:১২

প্রাণ বাঁচাতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবারও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করা হচ্ছে। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে ‘জঙ্গিদের’ সমন্বিত হামলায় কমপক্ষে ৮৯ জন নিহত হয়েছে। ২৪ আগস্ট বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত একটা থেকে ২৫ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত কয়েকটি স্থানে এ ঘটনা ঘটে। 

এই হামলায় নিরাপত্তা বাহিনীর ১২ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। অন্য ৭৭ জনকে ‘জঙ্গি’ বলে দাবি করা হয়েছে। মিয়ানমারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অং সান সু চির দপ্তর গতকাল শুক্রবার এ কথা জানিয়েছে। প্রাণ বাঁচাতে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর আবারও বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের আশঙ্কা করা হচ্ছে। গতকালই ১৪৬ জনকে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

এদিকে রাখাইনে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন রোহিঙ্গা ইস্যুতে গঠিত কমিশনের প্রধান ও জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব কফি আনান। 

দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি (এআরএসএ) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে এবং আরও হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছে। এই সংগঠনটি আগে হারাকাহ আল-ইয়াকিন বা ‘ফেইথ মুভমেন্ট’ নামে পরিচিত ছিল।রাখাইনের পরিস্থিতি নিয়ে গঠিত কফি আনান কমিশনের প্রতিবেদন প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে বড় ধরনের এই সমন্বিত হামলার ঘটনায় সংকট নতুন মাত্রা পেল। ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল রাখাইন রাজ্য। 

এই হামলার মাধ্যমে রাজ্যটিতে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলো। গত বছরের অক্টোবরে ওই সংগঠনের একই ধরনের একটি হামলায় নয় পুলিশ নিহত হওয়ার পর রাজ্যটিতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সহিংস অভিযান চালায় দেশটির সেনাবাহিনী।

ওই সেনা অভিযানে বেসামরিক লোককে হত্যা, ধর্ষণ ও বাড়িঘরে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। সেনাবাহিনীর ওই সহিংস অভিযানের কারণে ৮৭ হাজার রোহিঙ্গা বাড়িঘর ছেড়ে বাংলাদেশে পালিয়ে যায়। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী সে সময় মানবতাবিরোধী অপরাধে লিপ্ত হয় বলেও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়।

রাখাইন রাজ্যে ৩০টি পুলিশ ফাঁড়ি ও একটি সেনাঘাঁটিতে ‘জঙ্গিদের’ সমন্বিত হামলার ঘটনা ঘটে। ছবি: সংগৃহীত

চলতি মাসে মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনী রাখাইনের দুর্গম পাহাড়ি এলাকাগুলোয় নতুন করে দমন অভিযান শুরুর পর থেকে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।

দেশটির ক্ষমতাসীন দলের প্রধান অং সান সু চির কার্যালয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংবাদ বিভাগ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, হামলাকারীরা ‘বাঙালি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘উত্তরাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের মংডু এলাকার একটি পুলিশ স্টেশনে হাতে তৈরি বোমা নিয়ে চরমপন্থী বাঙালি বিদ্রোহীরা আক্রমণ করে। রাত ১টার দিকে আরও কয়েকটি পুলিশ পোস্টে তারা সমন্বিত হামলা চালায়।’

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ১৫০ জন রোহিঙ্গা আক্রমণকারী একটি সেনা ক্যাম্প ভাঙার চেষ্টা চালিয়েছিল। সেনাবাহিনী পাল্টা হামলা চালিয়ে তা ভেস্তে দিয়েছে।

 বৃহস্পতিবার রাতে এ হামলা শুরুর পর কিছু কিছু এলাকায় সেনা ও বিদ্রোহীদের মাঝে এখনও সংঘর্ষ চলছে। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তা কায়াউ উইন তুন বলেন, রোহিঙ্গা বিদ্রোহীরা পুলিশ ফাঁড়ি পুড়িয়ে দিয়েছে। সদর দপ্তর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ পাঠাতে বলা হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিয়ানমার আনুষ্ঠানিকভাবে রাখাইনের মুসলিম জনগোষ্ঠীকে রোহিঙ্গা বলে না। এদের সাধারণত উত্তর রাখাইনের মুসলিম বলা হয়। এবারের সংঘর্ষের পর মিয়ানমার সন্ত্রাসীদের পরিচয় দিতে গিয়ে উত্তর রাখাইনের মুসলিমদের পরিবর্তে ‘বাঙালি’ শব্দটি ব্যবহার করেছে। এ বিষয় দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে বাংলাদেশের সরকারি কর্মকর্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। 

সূত্র: টাইমস অফ ইন্ডিয়া

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন