(প্রিয়.কম) সম্প্রতি রাখাইনে পুলিশ পোস্টে হামলাকে কেন্দ্র করে পুনরায় অভিযানে নেমেছে মিয়ানমারের নিরাপত্তাবাহিনী। এতে ঘরবাড়ি ভাঙচুর, জ্বালিয়ে দেওয়ার মধ্য দিয়ে নতুন করে শরণার্থী সংকট ঘনীভূত হয়েছে প্রতিবেশী দুটো রাষ্ট্রের মধ্যে। হাজার হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে ঢুকে পড়ছে বাংলাদেশ সীমান্তে। আর এই ইস্যুতে ফেসবুকে মৃত ভাসমান এক শিশুর ছবি ভাইরাল হয়েছে। ফেসবুক ব্যবহারকারীরা বলছেন মৃত শিশুটি রাখাইন রাজ্যে সহিংসতার শিকার। 

৩০ আগস্ট বুধবার ভোরেও নাফ নদীতে রোহিঙ্গা বোঝাই নৌকা ডুবির ঘটনায় ৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। আর বুধবার রাতে ফের রোহিঙ্গাবোঝাই নৌকাডুবির ঘটনা ঘটে। এতে ৩১ আগস্ট বৃহস্পতিবার সকাল পর্যন্ত কূলে ভেসে আসা ১৯ নারী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মেরিনা নাসরিন নামে একজন তার ব্যক্তিগত পাতায় লিখেছেন- 

‘এই তাঁদের অহিংস নীতি ?

ছবির ভাসমান শিশুটির লাশ কোন এক রোহিঙ্গা মায়ের কন্যা সন্তান। মায়ানমারে আরাকানীদের অত্যাচারে এমন মৃত্যু সেখানে অহরহ ঘটছে অথচ বিশ্বমানবতা এখানে নিরব। যদি হতো শ্বেত বালিকা?’

মেরিনা নাসরিনের ফেসবুক স্টাটাস।

মেরিনা নাসরিনের ফেসবুকে দেওয়া স্টাটাস। সংগৃহীত ছবি

তিনি আরও লিখেছেন, বর্তমানে পৃথিবীতে সবথেকে নিপীড়িত জনগোষ্ঠী সম্ভবত রোহিঙ্গারা। মায়ানমারের আরাকান ষ্টেটে অন্তত আট লক্ষ রোহিঙ্গা বাস করে। এরা মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত। মায়ানমার সরকার ১৩৫টি জাতিকে সংখ্যালঘু জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দিলেও রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয়নি। তাঁদের মতে এরা বাংলাদেশী । কিন্তু ইতিহাস বলে তারা কয়েক শতাব্দী ধরে আরাকানে বাস করছে। 

আরাকানের এক তৃতীয়াংশ অধিবাসী রোহিঙ্গা। সরকারী স্বীকৃতি না পাওয়ায় এই জাতির মানুষ সরকারের সকল সুবিধা হতে বঞ্চিত। তারা নিজেদের পরিচয়ে স্কুলে ভর্তি হতে পারেনা, হাসপাতালে চিকিৎসা পায়না,ব্যাংকে লেনদেন, বিদ্যুৎ, বা অন্যান্য কোন সেবার জন্য আবেদন করতে পারেনা। বিয়ের জন্য সরকারের অনুমতি নিতে হয়, দুটি সন্তানের অধিক সন্তান জন্মগ্রহণ করলে নানা হ্যাপা সইতে হয়।

মেরিনা নাসরিনের কাভার ফটো।

মেরিনা নাসরিনের কাভার ফটো। ছবি: সংগৃহীত

শ্রমিকের কাজে তাদেরকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়োজিত করা হয়। এর থেকে অন্যায় অমানবিক কাজ একটা সরকারের জন্য আর কি হতে পারে? তারপরে কতবছর ধরে চলছে রোহিঙ্গা হত্যা, নিপীড়ন,ধর্ষণ । প্রায়ই সেনাবাহিনী, পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় হানা দিয়ে ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দিচ্ছে, হত্যা করছে ধর্ষণ করছে নির্বিচারে। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে তারা স্রোতের মত বাংলাদেশের দিকে পালিয়ে আসছে। 

সে দেশের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদেরকে পুশইন করছে বাংলাদেশে। নৌপথে পালাতে গিয়ে অসংখ্য রোহিঙ্গা ডুবে মরছে। অথচ বিশ্ববিবেক এখানে নিরব। যে নারী শান্তিতে নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন সেই অং সা্ন সুচি অহিংস গণতন্ত্রবাদী নেত্রী ছিলেন অথচ তিনিই এখন রোহিঙ্গা নিপীড়নে আরাকানী বৌদ্ধদেরকে উস্কানি দিচ্ছেন। এই কি তার শান্তির নমুনা?।

বৌদ্ধ সম্প্রদায়কে আমরা অহিংস সম্প্রদায় হিসেবে জানি। তারা বলেন জীব হত্যা মহাপাপ। এই মানুষগুলো জীব নয়? অং সান সুচির শান্তি পুরষ্কার ছিনিয়ে নেওয়া হোক, জাতিসংঘ কর্তৃক মায়ানমার সরকারের প্রতি চাপ সৃষ্টি করা হোক নিপীড়ন বন্ধে, রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিতে। বিশ্ব নেতাদের দৃষ্টি এদিকে ফেরানো হোক। মোটকথা বন্ধ হোক এই নির্মমতা, জিঘাংসা!

মেরিনা নাসরিন তার কাভার ফটোতেও এই ভাসমান শিশুর ছবি দিয়েছেন।

পিন্টু রহমানের স্টাটাস।

পিন্টু রহমানের ফেসবুকে দেওয়া স্টাটাস। সংগৃহীত ছবি

এ ছাড়া পিন্টু রহমান নামে একজন লিখেছেন-

‘মা,

আমরা অপরাধী।

আমাদের অবহেলায় তোমার মতো ফুলগুলো অসময়ে ঝরে যাচ্ছে। অভাশাপ দাও।

অভিশাপে অভিশাপে ধ্বংস হোক কাচমহল!!!’

হোসাইন মিঠুর স্টাটাস।

হোসাইন মিঠুর ফেসবুকে দেওয়া স্টাটাস। সংগৃহীত ছবি

হোসাইন মিঠু লিখেছেন-

‘এ কেমন শান্তি! 

এ কেমন মানবতা! 

ধিক্কার পৃথিবী..

এখানে মজলুমের চিৎকার কেউ শোনে না!

এখানে মানবতা ভেসে যায় কেউ দেখে না!’

রোহিঙ্গাদের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে এর মধ্যেই মিয়ানমারের সঙ্গে বাংলাদেশের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিত্ব প্রদান এবং অধিকার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ‘দ্য আরাকান রোহিঙ্গা সালভেশন আর্মি’ (এআরএসএ)-এর মুখপাত্র পরিচয় দেওয়া আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি।

চলতি মাসে ২৫ আগস্ট শুক্রবার ভোরে উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ঢুকার চেষ্টাকালে ১৪৬ জন রোহিঙ্গাকে ফেরত পাঠিয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। ২৬ আগস্ট শনিবার সকালে মানবিক সহযোগিতা দিয়ে ফেরত পাঠানো হয় ৭৩ জন রোহিঙ্গাকে

২৬ আগস্ট শনিবার রাত নয়টায় ও রোববার ভোর সাড়ে পাঁচটায় বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকালে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফ থেকে ৯১ জন এবং ২৯ আগস্ট মঙ্গলবার সকালে নাফ নদীর বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে আরও ৪৭৫ জন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়। 

প্রিয় সংবাদ/মিজান