(প্রিয়.কম) নওগাঁর আত্রাইয়ে বন্যায় বিধ্বস্ত রাস্তা স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করছেন এলাকার যুব সমাজ। গত তিনদিন ধরে উপজেলার সন্যাস বাড়ি থেকে হাটকালুপাড়া পর্যন্ত ইট বিছানো রাস্তাটি সংস্কার করা হয়। এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এলাকাবাসী।

জানা যায়, এবারের স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় উপজেলার হাটকালুপাড়া ইউনিয়নের সন্যাসবাড়ি থেকে চকশিমলার ভেতর দিয়ে হাটকালুপাড়া পর্যন্ত ইট বিছানো রাস্তাটি বিধ্বস্ত হয়ে যায়। রাস্তার উপর দিয়ে পানি বয়ে হওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার ইট উঠে গিয়ে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে যায়। এতে ভোগান্তিতে পরেন স্কুল-কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থী, পথচারীরা ও ৫/৬টি গ্রামবাসি। গত এক মাস হলেও স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ ও স্থানীয় প্রশাসন থেকে রাস্তাটি মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, উপজেলার চকশিমলা গ্রামে রয়েছে একটি উচ্চ বিদ্যালয়, একটি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি এবতেদায়ী মাদ্রাসা ও একটি হাট। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও হাটুরে জনসাধারণ এবং ওই গ্রামের সর্বসাধারণের চলাচলের জন্য একমাত্র এই রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। বন্যায় বিধ্বস্ত হবার পর থেকে এ রাস্তাটি চলাচলের একেবারে অনুপযোগী হয়ে যায়। ফলে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় ওই এলাকার শিক্ষার্থীসহ সকল স্তরের জনগণকে। বন্যার পানি নেমে যাওয়ার পর রাস্তাটি সরকারিভাবে সংস্কারের উদ্যোগ না নেওয়ায় চকশিমলা গ্রামের যুব সমাজ স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে রাস্তাটি সংস্কার শুরু করেছেন। গত কয়েকদিন থেকে তারা এ সংস্কার কাজ দ্রুত এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। চকশিমলা গ্রামের ওমর ফারুক বলেন, তিন দিন ধরে বৃষ্টি উপেক্ষা করে আবেগপ্রবণ হয়ে বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে এ কাজ করছি। এটি মেরামত হলে এলাকার হাজার হাজার জনসাধারণেরও দুর্ভোগ লাঘব হবে।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস শুকুর সরদার বলেন, রাস্তাটি সংস্কারের জন্য আমি তালিকা প্রস্তুত করে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরে প্রেরণ করেছি। ইতোমধ্যে উপজেলা চেয়ারম্যান, ইউএনও এবং উপজেলা প্রকৌশলী এটি পরিদর্শণও করেছেন। এরপরও যতটুকু স্বেচ্ছাশ্রমে হচ্ছে এটাকে আমি সাধুবাদ জানাই।

আত্রাই উপজেলা প্রকৌশলী মোবারক হোসেন বলেন, এবারে আত্রাইয়ে স্মরণকালের বন্যায় উপজেলার আটটি ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। তার মধ্যে এটি একটি রাস্তা। আমরা এগুলোর তালিকা প্রস্তুত করে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের নিকট পাঠিয়েছি। সেই সঙ্গে সংস্কারের বরাদ্দ চাহিদাও দেয়া হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই সংস্কার কাজ শুরু করা হবে। আশাকরি খুব দ্রুত আমরা বরাদ্দ পাব এবং এসব রাস্তা সংস্কার কাজ শুরু করতে পারব। 

প্রিয় সংবাদ/কামরুল