(প্রিয়.কম) ওয়াহিদ ইবনে রেজা, বাংলাদেশি ‘সুপারম্যান’ বলা হয় তাকে। কাছের মানুষদের কাছে পরিচিত বাপ্পী নামে। সনি পিকচার্স ইমেজওয়ার্কসে কাজ করছেন। হলিউডের বিখ্যাত এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের অ্যাসোসিয়েট প্রোডাকশন ম্যানেজার তিনি। এদিকে নতুন খবর হচ্ছে, বাংলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কিছু গল্প নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্যর অ্যানিমেশন ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন বাংলাদেশের এ তরুণ। এসব প্রসঙ্গ ছাড়াও আরও বিভিন্ন প্রসঙ্গে প্রিয়.কমের সঙ্গে কথা বলেছেন তিনি।

প্রিয়.কম: আপনার কাজের অভিজ্ঞতা থেকে কী মনে হয়, বাংলাদেশে ভিএফএক্স ব্যবহার করে কি সিনেমা নির্মাণ সম্ভব?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: বাংলাদেশে কিন্তু ভিএফএক্স ব্যবহার করে কাজ হচ্ছে। হয়তো অত উঁচু মানের হচ্ছে না, কিন্তু হচ্ছে। সুতরাং সম্ভব তো বটেই। এ জন্য সঠিক বাজেট দরকার। পরিকল্পনা দরকার। এখন টেকনোলজি অনেক সহজলভ্য হয়ে যাওয়ায় অনেক কিছুই অনেক সহজে করা যাচ্ছে। ঠিক মতো পরিকল্পনা করে এগোতে হবে, এই যা।

প্রিয়.কম: যদি না হয়, তাহলে সেটি কেন সম্ভব নয়?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: উপরেই বলেছি যে সম্ভব।

প্রিয়.কম: তাহলে আমরা বাইরের দেশগুলোর সঙ্গে প্রযুক্তিগত দিক থেকে তাল মিলিয়ে চলতে পারছি না কেন?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমাদের দেশের সিনেমার মার্কেটটা খুব ছোট। যার ফলে চাইলেও আমরা বড় বাজেট নিয়ে নামতে পারছি না। চাইলেও ভিএফএক্স বিশ্বমানের করতে পারছি না। আরেকটা ব্যাপার দেখবেন, ভিএফএক্স মিডিয়ামটা কিন্তু বেশ নতুন। আমাদের পাশের দেশের এত বড় ফিল্ম মার্কেট থাকার পরও তারা কিন্তু খুব রিসেন্ট মুভিগুলোতে ভিএফএক্স নির্ভর কাজ করছে। ইনশাআল্লাহ কোনোদিন আমরাও পারব।

প্রিয়.কম: তারপরও একটা কথা, এ ধরনের একটি সিনেমা নির্মাণ করতে গেলে তো বহু অর্থ দরকার, সেটি কী করে সমন্বয় করা যায়?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: নানাভাবে সমন্বয় করতে হবে। নিশ্চিত করতে হবে যে বেশি সংখ্যক হলে রিলিজ হবে। মার্চেন্ডাইজিং ফ্র্যাঞ্চাইজিংয়ের দিকে নজর দিতে হবে। ওয়ার্ল্ডের অন্যান্য জায়গায় ডিস্ট্রিবিউশন নিশ্চিত করতে হবে। 

প্রিয়.কম: একটা বিষয়, বাইরের দেশগুলো তো এখন সুপার হিরো সিনেমা নির্মাণের একটি ট্রেন্ড চলছে, অদূর ভবিষ্যতে কি হোম মেড সুপার হিরো দেখেতে পাবার কোনো সম্ভাবনা আছে?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: সুপার হিরো তো অনেক রকম হয়। আমি তো মনে করি আমাদের নিজেদের সাহিত্যে অনেক সুপার হিরো আছে। আমরা হয়তো স্পাইডার ম্যান করতে না পারি কিন্তু নিজেদের সাহিত্য থেকে যেমন ধরুন হিমুকে নিয়ে তো করাই যায়!

প্রিয়.কম: আচ্ছা, আপনাকে তো হলিউডের সুপার হিরোদের পেছনের কারিগর বলা হয়। যে কয়েকজন বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দেশের বাইরে নিজেদেরকে উজ্জ্বলভাবে মেলে ধরেছেন, তাদের মধ্যে আপনি একজন; বিষয়টি ভাবতে আপনার কেমন লাগে, আপনি তো বাংলাদেশের ‘সুপারম্যান’!

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমাকে এই নামটা আপনারা দিয়েছেন, মিডিয়াতে। আমি সত্যি কথা বলতে লজ্জাই পাই। আসলে এ কথা ঠিক আমি যেই ফিল্ডে কাজ করছি সেখানে বাংলাদেশি কর্মীদের সংখ্যা হাতে গোনা। সেই হিসেবে ভাবতে ভালো লাগে। কিন্তু সুপারম্যান হতে মনে হয় আরও অনেক দূর যাওয়া বাকি (হা হা হা হা)। 

প্রিয়.কম: কোনো তরুণ যদি সুপার হিরোদের পেছনের কারিগর হতে চায়, সে আসলে কীভাবে তার সামনের পথটির দিকে এগিয়ে যেতে পারে?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: ঠিক করতে হবে কোন লাইনে কাজ করতে চায় সে। সাধারণত এই জাতীয় কাজে স্পেশালাইজড স্কিল সেট থাকলে ভালো। একটু ইন্টারনেটে রিসার্চ করে কোন ফিল্ডের কাজটা বা কোন ধরনের কাজটা ভালো লাগে- সেটা আগে বুঝতে হবে। তারপর সেই কাজটা শিখতে কী সফটওয়্যার লাগে সেটা জেনে তা শিখতে হবে। প্রচুর অনলাইন টিউটোরিয়াল আছে। খুব সহজেই শেখা সম্ভব। তারপর প্রচুর প্র্যাকটিস করতে হবে। কাজের মান ভালো হলে লোকাল বা কাছে ধারের কোনো দেশে চাকরিতে ঢুকতে হবে। কাজের মান অত ভালো না হলে ডিপ্লোমা করতে ঢুকে যেতে হবে। তারপর আস্তে আস্তে কাজের মান ভালো করে, শো-রিল উন্নত করে হলিউডের সিনেমায় কাজ করে এমন কোম্পানিতে ঢুকে যেতে হবে।   

প্রিয়.কম: আরেকটি বিষয় যে কোনো কাজে সফলতা পেতে গেলে তো একনিষ্ঠতা জরুরি। সুপার হিরোদের পেছনের কারিগরদের ঠিক কতটা ধৈর্যশীল হতে হয়?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: এই মাধ্যমটায় কাজ করতে প্রচুর ধৈর্য লাগে। বিশেষ করে আর্টিস্টদের অনেক ধরে ধরে কাজ করতে হয়, ফ্রেম বাই ফ্রেম। সুতরাং অনেক ধৈর্যশীল হতে হবে।

প্রিয়.কম: আচ্ছা, আপনি যে যে তারকা অভিনয়শিল্পীদের নিয়ে কাজ করেছেন, তাদের মধ্যে কার কার সঙ্গে আপনার সরাসরি দেখা হয়েছে, কিংবা আড্ডা হয়েছে-এর মধ্য থেকে স্মরণীয় একটি ঘটনা শুনতে চাই...

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমাদের কাজের জায়গা অতটা রঙিন না। আমরা যেহেতু কাজ শুরু করি শুটিং হবার পর, তারকাদের সাথে আমাদের দেখা হয় না বললেই চলে। তারপরও যেমন ব্র্যাডলি কুপার আর ক্লিনট ইস্টউড এসেছিলেন আমাদের অফিসে। ডক্টর স্ট্রেঞ্জে কাজ করার সময় টিলডা সুইনটন এসেছিলেন। আমাদের এক আর্টিস্ট তার এক শটে কাজ করছিলেন। তিনি পাশে দাঁড়িয়ে বললেন, আরে এটা তো আমার মাথা মনে হচ্ছে! আর্টিস্ট খুবই বিরক্ত হয়ে বলল- জানি, আমি তিন মাস ধরে তোমার মাথার দিকে তাকিয়ে আছি!  

প্রিয়.কম: নতুন খবর শুনলাম, বাংলাদেশের একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কিছু গল্প নিয়ে স্বল্পদৈর্ঘ্যর অ্যানিমেশন ছবি নির্মাণ করতে যাচ্ছেন?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: জ্বী ঠিকই শুনেছেন। ছবিটির ওয়ার্কিং টাইটেল, ‘সারভাইভিং ৭১’।

প্রিয়.কম: ছবিটি নির্মাণের প্রস্তুতি কেমন চলছে?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমাদের স্ক্রিপ্টিং মোটামুটি শেষ। ফাইনাল পলিশ হচ্ছে। এখন শুরু হয়েছে ডিজাইনের কাজ।

প্রিয়.কম: শুনেছি ছবিটি নাকি পূর্ণদৈর্ঘ্যও হবে...

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমাদের সেই রকমই ইচ্ছা। আমরা যদি বিশ্বমানের স্বল্পদৈর্ঘ্য অ্যানিমেশন ছবি বানাতে পারি, আমরা আশা রাখছি যে আমরা এনাফ ফাইন্যানশিয়াল অ্যান্ড লজিস্টিক সাপোর্ট পাব যা দিয়ে আমরা একটি ফিচার ফিল্ম তৈরি করতে পারব। স্বপ্নটা সেই রকমই।

প্রিয়.কম: কিছুদিন আগে খবর দিয়েছিলেন, হলিউডের খ্যাতনামা অ্যানিমেশন ছবির পরিচালক গেন্ডি টারটাভস্কির সঙ্গে হোটেল ট্রানসিলভেনিয়া থ্রি-তে কাজের সুযোগ পেয়েছেন, এর মধ্য দিয়ে অ্যানিমেশন ছবির জগতের নতুন সব বিষয় শিখতে যাচ্ছেন। সেখানকার অভিজ্ঞতা কতটুকু ‘সার্ভাইভিং ৭১’ তৈরিতে আপনাকে সাহায্য করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান করছেন?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমি আসলে খুবই ভাগ্যবান যে আমি সরাসরি গেন্ডি টারটাভস্কির সঙ্গে কাজ করতে পারছি। উনি আমার চাইল্ডহুড আইডলদের মধ্যে একজন। এটা আমার জন্য শেখার একটা বড় জায়গা। এই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের অ্যানিমেশন ছবি ট্রানসিলভেনিয়া থ্রি তে কাজ করছি। সুতরাং প্রতিদিনই আমি শিখছি কী করে একটি অ্যানিমেশন ছবি আস্তে আস্তে গড়ে ওঠে। আমি মনে করছি এটা আমাকে ভীষণভাবে সাহায্য করবে। বিশেষ করে আমাদের অ্যানিমেশন স্টাইলটা হবে অনেকটা গেন্ডি টারটাভস্কির কাজ সামুরাই জ্যাক এর মতো। আমার ইচ্ছা আছে আমাদের কাজটা একটু দেখানোর পর্যায়ে গেলে আমি সরাসরি গেন্ডি টারটাভস্কিকে দেখাব। তার সাজেশন নেব। এরকম সুযোগ মনে হয় পাওয়া খুবই দুর্লভ। 

প্রিয়.কম: আপনার বাবার জীবনের গল্প থেকে ছবির চিত্রনাট্য লেখা হবে, এরজন্য ঠিক কী ধরনের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছেন?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: ছবির চিত্রনাট্যের একটি অংশের গল্পটি আমার বাবার জীবনী থেকে নেয়া। তবে আমি ইন্সপায়ার হয়ে বলব। অবলম্বনে বলব। হুবাহুব বলতে যাবনা। যাতে একটু কম সতর্ক থেকেও কাজটি করা যায়। একটু শিল্পীর স্বাধীনতা যেন থাকে। তবে পুরো প্রজেক্টটা করতে গেলে বাড়তি সতর্ক তো থাকতে হবেই। 

প্রিয়.কম: সেদিক থেকে এ ছবিটি তো এক ধরনের বিশেষ তাৎপর্য্যও বহন করছে...

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: অবশই! দিন শেষে এটা আমাদের মহান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি আমাদের ট্রিবিউট। বিশেষ তাৎপর্য্য তো নিশ্চয়ই বহন করবে!

প্রিয়.কম: এ ধরনের সিনেমা নির্মাণ করতে গেলে তো বড় ধরনের বাজেটের একটি বিষয় চলে আসে, সেটিকে কীভাবে ব্যালেন্স করছেন, ছবিটি প্রযোজনা করছে কোন প্রতিষ্ঠান?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমরা এখন পর্যন্ত প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান খুঁজছি। চেষ্টা করছি বিদেশের ফান্ড এ এপ্লাই করার জন্য। আসলে একাধিক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয় করে মনে হয় কাজটা করতে হবে।

প্রিয়.কম: মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে তো আমাদের বাঙালি জাতির ইমোশন জড়িত রয়েছে, আপনি তো হলিউডের ভীষণ জনপ্রিয় সব ছবির কারিগরি দলে ছিলেন। সেদিক থেকে আপনার প্রতি প্রত্যাশাটাও বেশিই থাকবে, এতে করে কী আলাদা করে কোন চাপ অনুভব করছেন?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আসলে দেখেন আমরা জাতি হিসেবে ইমোশনাল। আমরা খুব সহজেই খুব খুশি হয়ে যাই। আবার খুব সহজেই হতাশ হয়ে পরি। আমার ইচ্ছা থাকবে আমার কল্পনায় যা আছে, তা যেন শতভাগ ফুটে ওঠে পর্দায়। এরপর মানুষ সেটা পছন্দ করবে কি করবে না সেটা তো আগে থেকে বলা মুশকিল। প্রত্যাশার যেই পরিমাণ দেখছি তাতে কাজ অপছন্দই মনে হয় হবে, কারণ আমরা সরাসরি মনে হয় তুলনা করে ফেলব ডিজনির মুভির সাথে! হা হা হা হা হা। তারপরও আমি কোন চাপ অনুভব করছি না। আমি আমার মত শতকরা ১১০ ভাগ দিয়ে কাজ করে যাব। এবং আমি কোন কাজে কম্প্রোমাইজ করবো না। অন্তত এই প্রজেক্টে না। তারপর বাকিটা সময়ই বলে দেবে। 

প্রিয়.কম: এবার অন্য কিছু প্রসঙ্গ নিয়ে কথা বলতে চাই, হলিউডের মতো ইন্ডাস্ট্রিতে আপনি যে ধরনের কাজ করছেন, নিশ্চয়ই বাংলাদেশের অনেক তরুণ এ ধরনের কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চায়। আপনি তাদের কাছ থেকে আগ্রহবোধের জায়গা থেকে ঠিক কী ধরনের সাড়া পান?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: অনেকেই প্রচণ্ড আগ্রহী। কিন্তু মুশকিল হচ্ছে যে কেউ ঠিক নিজে থেকে রিসার্চ করতে চায় না। এখন কিন্তু প্রায় যে কোন কিছুই ইন্টারনেটে রিসার্চ করে জানা সম্ভব। আমার মনে হয় আমরা অনেকেই বসে থাকি যে কেউ এসে করে দেবে এই আশায়। আগ্রহবোধের সাথে সাথে কাজটাও করতে হবে কিন্তু নিজেকেই।

প্রিয়.কম: দূর দেশ থেকে কী অনুভব করছেন, আমাদের দেশের তরুণরা এ ধরনের কাজকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে কতটা নির্ভার চিত্তে রয়েছে?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমার মনে হয় গত কয়েক বছরে মিডিয়া লাইনে পেশা হিসেবে অনেকই বেছে নিয়েছেন এবং খুব ভালও করেছেন। দেশে এখন প্রচুর টিভি স্টেশন, রেডিও স্টেশন এবং নিউজ পোর্টাল। অনেকেই এখানে বেশ ভাল করছেন। ভিএফক্স হয়তো নেই, কিন্তু মূল সিনেমা বা টেলিভিশনে বা বিজ্ঞাপনে কাজ করার অনেক সুযোগ রয়েছে।

প্রিয়.কম: এরমধ্যে বাণিজ্যিক হিসাব-নিকাশের কথা চলে আসে, যদি বলি বাংলাদেশের বাজারের কথা, ঠিক কতটা উপযোগি?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমাদের বাজার এখনো বড় হচ্ছে। সিনেমা হলের পরিস্থিতি যদি পাল্টায়। মার্কেটে মার্কেটে যদি মাল্টিপ্লেক্স চলে আসে, ইন্ডাস্ট্রি দাঁড়িয়ে যাবার কথা।

প্রিয়.কম: আপনার পেশাগত কাজের দর্শন সম্পর্কে জানতে চাই?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: ব্যক্তি জীবনে খুব অলস হলেও কাজে আমি অসম্ভব পরিশ্রমী। আমি সবসময় নিশ্চিত করি যেন আমি সবচেয়ে বেশি কাজটা করি। আমি রেস্পন্সিবিলিটিও এই জন্য অনেক বেশি নেই। আমার এভাবেই কাজ করতে ভাল লাগে। 

প্রিয়.কম: এমনটা কী কখনও ঘটেছে, একটি কাজ করতে গিয়ে আপনার আদর্শিক জায়গার সঙ্গে সাংঘর্ষিক হওয়ার পরও কাজটি করতে হয়েছে?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমি ভাগ্যবান, আমার তেমন কখনো করতে হয়নি।

প্রিয়.কম: আমি আপনার পেশার একেবারে শুরুর দিনগুলো জানতে চাই, ‘লাইফ ইজ নট এ বেড অব রোজেস’-ক্যারিয়ারের এই সময়ে এসে আপনার পেছনের দিনগুলোর কথা মনে হলে কী মনে হয়?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমি তো অনেক রকম পেশায় নিযুক্ত ছিলাম। লেখালেখি করেছি উন্মাদে, বিজ্ঞাপনে কপিরাইটার ছিলাম, টিভিতে নাটক লিখেছি, রেডিও তে অনুষ্ঠান করেছি, কণ্ঠ দিয়েছি বিজ্ঞাপনে, অভিনয় করেছি, এখন ভিএফেক্স এ কাজ করি। কোনটার শুরুটা বলবো বলেন? এইটুকু বলতে পারি যে যখন যেই কাজই করেছি ১০০ ভাগ মনোযোগ দিয়ে সবচেয়ে বেশি পরশ্রম দিয়েই করেছি।

এইজন্যই মনে হয় ফলটাও এসেছে। প্রথম যখন ভ্যাকুভারে পাশ করে প্রডাকশন অ্যাসিস্ট্যান্ট হিসেবে কাজ করি, খুব কম বেতন পেতাম। ছুটির দিনে তাই পার্ট-টাইম আরেকটা চাকরি করতাম। নাহলে টানাটানি পড়ে জেত। একবার কি যেন একটা ভুলের কারণে দুই কাজের জায়গা থেকেই বেতনের চেক আসেনি। অনলাইন ব্যাংকে গিয়ে দেখি আমার একাউন্টে মাত্র ২৫ পয়সা আছে! হো হো হো করে হেসে ফেলেছিলাম তখন বাস স্টপে। ঘটনাটা প্রায়ই মনে পরে। মনে হলে সাহস পাই।

প্রিয়.কম: বিশ্বের সবচেয়ে বড় এবং পেশাদার সিনেমা ইন্ডাস্ট্রির মানুষজনদের সঙ্গে কাজ করছেন আপনি, সেখান থেকে কী মনে হয়, আমাদের দেশের ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে যদি তুলনা করেন-আমরা কোন অবস্থায় আছি?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমাদের পেশাদারিত্বটা অনেক বাড়াতে হবে। আমি জানি আমাদের অনেক লিমিটেশন। কিন্তু তারপরও এর মধ্যে থেকেও ভাল কাজ করা যায়, সদিচ্ছা থাকলে। আমাদের ইন্ডাস্ট্রি যেহেতু নতুন, স্বাভাবিক ভাবেই আমরা পিছিয়ে আছি অনেক। কিন্তু এখন যদি আমরা প্রফেশনাল না হতে পারি, আমরা মনে হয় কখনোই পারবো না। আমরা যখন এখানে ফিল্ম স্কুলে পড়েছি, একদম স্কুলের শূন্য বাজেটের কাজের সাথে হলিউডের মাল্টি মিলিয়ন ডলারের প্রজেক্ট এর কাজের প্রফেশনালিজিমের কোন পার্থক্য থাকতো না। এই পুরো ব্যাপারটা আসলে মানসিক এবং প্র্যাকটিস।   

প্রিয়.কম: জীবনের একটা সময় লেখালেখির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, এছাড়া মডেল ও অভিনেতা হিসেবে কাজ করেছেন, আবার নাটকও লিখেছেন একটা সময়। এখন তো সময়ের পালাবদলে এসব কিছু ছেড়ে নতুন এক জীবনের পথে হেঁটে চলছেন?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমি সব সময় গল্প বলতে চেয়েছি। নতুন পথ চলাও সেই গল্প বলারই একটা অংশ।

প্রিয়.কম: জীবনের গোলটা আসলে কী?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: নিজের গল্প সারা পৃথিবীর মানুষকে বলা।

প্রিয়.কম: নতুন কোন স্বপ্ন দেখছেন, যা আপনাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আপাতত মুক্তিযুদ্ধের সিনেমা। এছাড়া অন্যান্য যা ভাবছি, এখন বলবো না।

প্রিয়.কম: আপনি তো একজন কবিও বইও বেরিয়েছে কয়েকটি। এখন এতো ব্যস্ততার ভীড়ে কবিতা চর্চার সময় পান?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: কবিতা আমার খুব কাছের একটা জিনিস। হঠাৎ হঠাৎ দীর্ঘশ্বাসের সাথে যা বেরিয়ে আসে। কবিতা লিখতে না পারলে সত্যি কথা কষ্ট হয় খুব। শত ব্যস্ততায় কবিতা থাকে পুরনো বন্ধুর মত।

প্রিয়.কম: আপনার ফেসবুকের দেয়ালে ঘোরাঘুরি করছিলাম, একটা পোস্ট এ চোখ আটকে গেল। ‘রাতের বেড রুমটা যদি দিনের অফিসের মিটিং রুম হয়ে যেত, আমি নিশ্চিন্তে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ঘুমাইতে পারতাম..!’

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: হা হা হা হা, আসলে আমার রাতের ঘুমের সমস্যা আছে। ইন্সম্নিয়াক বলতে পারেন। কিন্তু যাবতীয় ঘুম আসে অফিসের মিটিংয়ে। ঐ জন্য ব্যাঙ্গ করে লেখা।

প্রিয়.কম: এই প্রশ্নটা কিন্তু হঠাৎ করেই মাথায় আসল, না করলেই নয়, মানুষ জাগ্রত থাকা অবস্থায় যেসব বিষয়গুলো চেতন কিংবা অবচেতন মনে ভাবে, সে সব নাকি স্বপ্নেও দেখা যায়, এরকম কোন ঘটনা আছে?

ওয়াহিদ ইবনে রেজা: আমি রেগুলার স্বপ্নে গল্প দেখি। উঠে লিখে রাখি নোটবুকে বা মোবাইলে। আমার স্বপ্ন বরাবরই সুপারহিরোময়!

প্রিয় বিনোদন/গোরা