ফাইল ছবি

ত্রাণের জন্য হাহাকার

‘ও ভাইয়েরা ইলিপ নাই, সাংবাদিক আইছে। আপনেগরে এলাকার ছবি তুলবো। আপনেরা পানিতে ভিজে কষ্ট কইরেন না।’ তবু কে শোনে কার কথা।

সজিব ঘোষ
সহ-সম্পাদক, নিউজ এন্ড কারেন্ট অ্যাফেয়ার্স
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৭, ০৫:২১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৬
প্রকাশিত: ১৫ জুলাই ২০১৭, ০৫:২১ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৫:১৬


ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকা দেখলেই পানিবন্দি বন্যার্তরা দ্রুত ঘর থেকে বাইরে বেরিয়ে আসে। অনেকেই ঘর থেকে বেরিয়ে কোমর পানিতে নেমে পড়ে। নৌকা দেখলেই তারা মনে করে এই বুঝি কেউ তাদের সাহায্যে ত্রাণ নিয়ে আসছে। ত্রাণের জন্য এমনই হাহাকার চলছে ইসলামপুরের যমুনা তীরবর্তী বন্যাদুর্গত পানিবন্দি মানুষের ঘরে ঘরে। 

১৪ জুলাই শুক্রবার সিরাজগঞ্জের বেশ কিছু জায়গায় বন্যার্তদের ছবি তুলতে একটি শ্যালো ইঞ্জিন চালিত নৌকাযোগে যান সংবাদ কর্মীরা। ওই নৌকা দেখে দেওয়ানপাড়া গ্রামের শতাধিক পানিবন্দি নারী-পুরুষ মুহূর্তেই ঘর থেকে বেরিয়ে পড়ে। এ সময় গ্রামটির বাসিন্দা তাইজুদ্দিন, জবেদা বেগম, বাবলু মিয়া, তারাভানু, মালেকাসহ অনেকেই কোমর পানি ভেঙে সাংবাদিককে বহনকারী নৌকার কাছে ছুটে আসে।

তখন নৌকার চালক আব্দুস ছালাম তাদের উদ্দেশে চিৎকার করে বলেন, ‘ও ভাইয়েরা ইলিপ নাই, সাংবাদিক আইছে। আপনেগরে এলাকার ছবি তুলবো। আপনেরা পানিতে ভিজে কষ্ট কইরেন না।’ তবু কে শোনে কার কথা। এর পরও ওই গ্রামের ষাটোর্ধ্ব ফিরোজা বেগমকে কলাগাছের ভেলায় উঠিয়ে তাঁর স্বামী ষাটোর্ধ্ব বাহার আলী ত্রাণের জন্য ছুটে আসেন নৌকার কাছে।

সেখানে এসেই বাহার আলী বলেন, ‘ভাই, আপনেরা কিছু খাবার দেন। আমরা পানিবন্দি হয়ে ঘরে আটকে আছি। দুই দিন ধরে খাবার পাই না। ঘরে চাল নাই। পানির জন্য কোথাও যাবার পাই না। চেয়ারম্যান-মেম্বারও খোঁজ নেয় নাই।’

এভাবেই বন্যাকবলিত এলাকার বানভাসি ও নদীভাঙনের শিকার লাখো মানুষ মানবেতর জীবন যাপন করছে। খাবার বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট রয়েছে। দুর্গত এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় ত্রাণ কম থাকায় অর্ধাহারে রয়েছে বন্যাকবলিতরা। অনেকেই খোলা আকাশের নিচে অসহায় দিন যাপন করছে।

তথ্যসূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক

প্রিয় সংবাদ/সজিব

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...