(প্রিয়.কম) হঠাৎ রুবি সুলতানা এক ভিডিও বার্তায় বোমা ফাটালেন সালমান শাহ হত্যা বা আত্মহত্যা রহস্য ইস্যুতে। তিনি দাবি করেন তিনি সালমান শাহর খুনিদের চেনেন জানেন। এরপর গণমাধ্যমগুলোতো তোলপাড় শুরু হয় এই ভিডিও নিয়ে। কিন্তু দিন ঘুরতে না ঘুরতেই পুরোই ভোল বদলে ফেলেন আমেরিকান প্রবাসী এই রুবি। ঘটনাটা ঘটে ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে। কিন্তু পাঠক আপনি অবাক হবেন যে ঠিক একই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল ১৯৯৭ সালে। 

ঐ বছরের ১৯ জুলাই সালমানের বাবার ডিওএইচএস এর বাসায় রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ নামের এক যুবকের উদয় হয়। সালমান শাহর বাবা তখন ঐ যুবককে ক্যান্টনমেন্ট থানা পুলিশের কাছে সোপার্দ করেন। পরে ঐ যুবক ২২ জুলাই  ১৯৯৭ আদালতে জানায় যে, সে এবং তার সহযোগিরা সালমান শাহকে হত্যা করে। তার সেই স্বীকারোক্তি রেকর্ড করা হয়েছিল তখন। 

রিজভী ১৬৪ ধারায় দেওয়া তার জবানবন্দিতে বলেছিল, 'সালমানকে ঘুমাতে দেখে তার ওপর ঝাপিয়ে পড়ে, ফারুক পকেট থেকে ক্লোরোফোমের শিশি বের করে এবং সামিরা তা রুমালে দিয়ে সালমানের নাকে চেপে ধরে। ধস্তাধস্তির এক পর্যায়ে মামলার তিন নম্বর আসামি আজিজ মোহাম্মদ এসে সালমানের পা বাঁধে এবং খালি ইনজেকশন পুশ করে। এতে সামিরার মা ও সামিরা সহায়তা করে। পরে ড্রেসিং রুমে থাকা মই নিয়ে এসে, ডনের সাথে আগে থেকেই নিয়ে আসা প্লাস্টিকের দড়ি আজিজ মোহাম্মদ ভাই সিলিং ফ্যানের সাথে ঝোলায়।' 

রিজভী আরো বলেছিল যে, সালমানকে হত্যা করতে সামিরার মা লাতিফা হক, ডন, ডেভিড, ফারুক, জাভেদের সঙ্গে ১২ লাখ টাকার চুক্তি করেন। চুক্তিতে উল্লেখ ছিল, সালমানকে শেষ করতে কাজের আগে ৬ লাখ ও কাজের পরে ৬ লাখ দেয়া হবে।

কিন্তু দু:খের বিষয় এই যে পরবর্তীতে যখন তদন্তকারী কর্মকর্তা রিজভীকে জেলখানায় জিজ্ঞাসাবাদ করে তখন সে জানায় যে সালমান শাহ হত্যা বিষয়ে কিছুই জানে না সে। রিজভী এখন কোথায় আছে কেমন আছে কেউ বলতে পারছে না। 

বলে রাখা ভালো, ৬ সেপ্টেম্বর ১৯৯৬ সালে সালমান শাহর মৃত্যুর পর তারা বাবা কমরউদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করেন। ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই তিনি আদালতে মামলাটি করেছিলেন। একই বছর ৩ নভেম্বর সিআইডি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাখিল করে জানায় সালমান শাহর অপমৃত্যু হয়েছিল। বর্তমানে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন' (পিবিআই) তদন্ত করছে।