ছবি সংগৃহীত

আমাদের অনেক কিছুই পরিবার থেকে শেখা: তানজির তুহিন

'শিরোনামহীন' ব্যান্ডের প্রসঙ্গ উঠলেই এর ভোকাল ‘তানজির তুহিন’এর নাম চলে আসে। প্রিয়.কমকে দেওয়া তানজির তুহিনের একটি সাক্ষাৎকারে উঠে আসে ব্যান্ড ও তার ব্যক্তিগত জীবনের বেশ কিছু তথ্য।

শিবলী আহমেদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২২ এপ্রিল ২০১৭, ০৮:১০
আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৪:০০


ছবি সংগৃহীত

তানজির তুহিন। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

(প্রিয়.কম) ‘প্রতিটি রাস্তায়, প্রতিটি জানালায়, হাসিমুখ, হাসিমুখে আনন্দধারা......’ ব্যান্ডসঙ্গীত যারা শুনে থাকেন, তারা এতক্ষণে বুঝেই ফেলেছেন যে এটি ‘শিরোনামহীন’ ব্যান্ডের কালজয়ী একটি গান। শিরোনামহীন ব্যান্ডের প্রসঙ্গ উঠলেই চলে আসে এর ভোকাল ‘তানজির তুহিন’এর নাম। ব্যান্ডটির সঙ্গে নতুন করে মানুষকে পরিচিত করিয়ে দেওয়ার দরকার কতটা রয়েছে জানি না, তবুও বলে রাখা ভালো যে- ১৯৯৬ সালে  জিয়াউর রহমান জিয়া, জুয়েল এবং বুলবুল কর্তৃক ব্যান্ডটি প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিষ্ঠার চার বছর পর, অর্থাৎ ২০০০ সালে ভোকাল হিসেবে এর সঙ্গে যুক্ত হন তানজির তুহিন। আরও চার বছর পর, ২০০৪ সালে বের হয় তাদের প্রথম অ্যালবাম জাহাজী। অ্যালবামটির প্রায় প্রতিটি গানই জনপ্রিয়তা লাভ করে এবং দীর্ঘ একযুগ পরও আজকের দিনে গানগুলো ধ্বনিত হয় মানুষের কণ্ঠে। ২০১০ সালে শিরোনামহীন ব্যান্ডের ওপর একটি তথ্যচিত্র প্রকাশিত হয় এবং ২০০৮ সালের পহেলা আগস্ট তারা বামবা (ব্যান্ড মিউজিক্যাল অ্যাসোসিয়েশন) এর সদস্যপদ লাভ করে। ‘জাহাজী’ অ্যালবামের পরবর্তীতে আরও চারটি অ্যালবাম- ইচ্ছে ঘুড়ি (২০০৬), বন্ধ জানালা (২০০৯), শিরোনামহীন রবীন্দ্রনাথ (২০১০) এবং শিরোনামহীন (২০১৩) বের হয়। তাদের প্রতিটি অ্যালবামই শ্রোতা কর্তৃক তুমুলভাবে প্রশংসিত হয়। জনপ্রিয় এ ব্যান্ডটির ভোকাল তানজির তুহিনের সাক্ষাৎপ্রার্থী হয়ে প্রিয়.কম উপস্থিত হয় তার অফিসে। তাকে ‘কেমন আছেন?’ জিজ্ঞাসা করতেই উত্তর দিলেন-‘আমি ভালো আছি, আপনার মতোই ভালো আছি।’ ‘কিন্তু কেন ভালো আছেন?’ উত্তরে তিনি একগাল হেসে বললেন- ‘আপনি ভালো আছেন, তাই আমিও ভালো আছি।’ কুশলাদি বিনিময়ের পর প্রিয়.কমের সঙ্গে ‘শিরোনামহীন’ প্রসঙ্গে কথা হলো তুহিনের।

প্রিয়.কম: ১৯৯৬ সালে প্রতিষ্ঠা কিন্তু প্রথম অ্যালবাম ‘জাহাজী’ বের হলো ২০০৪ সালে। মধ্যের এ দীর্ঘ বিরতির কারণ কী ছিল?

তানজির তুহিন: তখন আমরা কিছু ছোট ছোট শো-তে গান গাইতাম। আমরা প্রথমে যাচাই করতে চেয়েছিলাম- আমাদের লিরিকগুলো মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায় কি না। আসলে মৌলিক গানতো, সবাই কীভাবে নেয়- সেটা বুঝতে চাইছিলাম। জানা ও বোঝার উপর পরীক্ষা-নিরিক্ষা করতে করতে অনেকগুলো বছর কেটে গেল। তখন আমরা শিওর হলাম যে- হ্যাঁ, এখন অ্যালবাম করা যায়। তাছাড়াও- একটি অ্যালবাম করলাম, হাস্যকর কিছু হলো, মানুষজন গ্রহণ করল না, এমন কিছু হলে- সেটা হতো বেদানাদায়ক ও কষ্টদায়ক। তাই একটু শিওর হওয়ার জন্য মধ্যখানে এতোগুলো বছর লেগে গিয়েছে।

প্রিয়.কম: আপনাদের গানে দোতরা-সরোদ ব্যবহার করার আইডিয়া কীভাবে এসেছিল?

তানজির তুহিন: জিয়া প্রথম থেকেই শিরোনামহীন ব্যান্ডটি চালিয়ে নিয়ে এসেছে। স্বভাবতই তার মতো করেই একটি শিরোনামহীনিয় ধারা এক সময় তৈরি হয়েছিল। আমরা যাওয়ার পর, শিরোনামহীন নতুন করে রিপাবলিস্ট হওয়ার পর হয়তো আরেকটি স্টাইল এসেছে। সরোদ-দোতারা নিয়ে কাজ করব এটা আমাদের শিরোনামহীন ব্যান্ডের একটি সম্মিলিত প্রয়াসেই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছে।

প্রিয়.কম: আপনি শিরনামহীন ব্যান্ডের ভোকাল হয়ে এলেন ২০০০ সালে। এর আগে ব্যান্ডটির সঙ্গে আপনি সম্পৃক্ত হলেন কীভাবে?

তানজির তুহিন: আমি বুয়েটে পড়তাম। জিয়ার সঙ্গে আর্কিটেকচারে পড়তাম একসঙ্গে। আমি আমার মতো করে কালচারাল প্র্যাকটিসটা করতাম। জিয়া একদিন অফার দেয় যে- একসঙ্গে গান করব কি না আমরা। আমি বললাম- ‘ঠিক আছে, চেষ্টা করে দেখতে পারি।’

তানজির তুহিন। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

প্রিয়.কম: জিয়াউর রহমান জিয়া কেন আপনাকেই সিলেক্ট করলেন?

তানজির তুহিন: কারণ ছিল একসঙ্গে পড়ি। চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে। তাছাড়াও আমাকে সিলেকশন করার কারণ ও-ই (জিয়া) ভালো করে বলতে পারবে। এটাতো আমি বলতে পারব না। হয়তো আমাকে হাতের কাছে পেয়েছে, তাই হয়তো সিলেকশন করেছে।

প্রিয়.কম: এমনকি হয়েছিল যে- আপনি হয়তো গুনগুন করে গান গাইতেন, সেটা শুনে জিয়াউর রহমান জিয়া আপনাকে সিলেকশন করলেন?

তানজির তুহিন: না, এরকম ব্যাপারটি মনে হয় নেই। জিয়া খুব প্রফেশনাল একজন মানুষ- নিজের মিউজিকের ক্ষেত্রে। খুব পেশাদারি মানুষ এবং ও খুব সচেতন ভাবে মিউজিক করে আরকি। হয়তো কাছের বন্ধু হিসেবে আমাকে পেয়েছে, ওর হয়তো ভালো লেগেছে, হয়তো ভেবেছে যে- একসঙ্গে আগানো যায়।

প্রিয়.কম: পারফর্ম করার সময় আপনার হাত কানের সামনে চলে যায়...

তানজির তুহিন: আসলে পারফর্ম করার সময় প্রচণ্ড সাউন্ডের মধ্যে থাকতে হয়। আশেপাশে অনেক উচ্চশব্দ থাকে। তখন আমি যেই সাউন্ডগুলো দিচ্ছি সেগুলো শোনার জন্য হাত কানের কাছে নিয়ে ওভাবে করলে, সাউন্ড রিভার্ব হয়ে কানে আসে। তখন সুরটা ঠিক হচ্ছে কি না- সেটা শিওর হওয়া যায়।

প্রিয়.কম: আপনাদের গানের কম্পজিশনের প্ল্যাকিংগুলো ব্যতিক্রমী। চমৎকার এই প্ল্যাকিংগুলো কীভাবে করেন আপনারা?

তানজির তুহিন: এ প্রশ্নের উত্তর ভালো দিতে পারবে জিয়া। গান সৃষ্টির বেশিরভাগ কাজই জিয়া করেছে। আমরা কিছু কিছু গান তার সঙ্গে তৈরি করার চেষ্টা করেছি। অসাধারণ যে প্ল্যাকিংগুলো আছে, এগুলোর জনক জিয়া।

প্রিয়.কম: ‘হাসিমুখ’ গানটি সম্পর্কে বলুন...

তানজির তুহিন: এটি জিয়ার লেখা। এর শাব্দিক যে ব্যাখ্যাটা ও ভালো দিতে পারবে আরকি। জিয়ার থিওরি অনুযায়ী হাসিমুখ গানটি একটি ম্যাজিক রিয়ালিজমের ব্যাপার। সব মানুষ হাসবে, কিংবা এভাবে বলা যায় যে- যেটা আসলে হওয়া উচিত কিন্তু হচ্ছে না, কিন্তু আমি চোখের সামনে দেখছি যে সেটা হচ্ছে।

প্রিয়.কম: ব্যান্ড মিউজিক অনেক সময় শো-অফের বিষয় হয়ে যায়। কিন্তু আপনারা পোশাক-পরিচ্ছদে ও পারফর্ম করার সময় বেশ সাধারণ থাকেন...

তানজির তুহিন: শো-অফ বিষয়টা একেজজনের কাছে একেক রকম ব্যাপার। আসলে এটা হয়তো ভালো লাগার জায়গা থেকেই হয়। মিউজিক হয়তো একেকভাবে একেকজনকে উৎসাহিত করে। আমরা হচ্ছি ঢাকার ছেলে, আমরা যে যেখান থেকেই এসেছি আমরা মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে। আমাদের অনেক কিছুই পরিবার থেকে শেখা। শো অফের জায়গা এটা না বা এখানে না।

প্রিয়.কম: আপনি প্রাতিষ্ঠানিকভাবে গান শিখেছেন কী?

তানজির তুহিন: হ্যাঁ, প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে শিখেছি। আমি চার বছর বয়স থেকে গান শিখি। আমি বাফায় গান শিখেছি- নজরুলগীতি আর উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত। আর কিছু শিখেছি প্রতিষ্ঠিত গুরুর কাছে, তাদের পদধুলি নেওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার।

প্রিয়.কম: আপনার গুরুজী ছিলেন কারা?

তানজির তুহিন: নারায়ন চন্দ্র বসাক,  আখাতার সাদমানি, কিরণ চন্দ্র রায়, রফিকুল ইসলাম স্যার, মান্নান স্যার, তপন মাহমুদ, প্রমুখ।

প্রিয়.কম: ‘বাফা’য় (বুলবুল ললিতকলা একাডেমী) যখন ভর্তি হন তখন আপনি কোন শ্রেণিতে পড়তেন?

তানজির তুহিন: যখন ক্লাস ফাইভ-সিক্সে পড়ি তখন থেকে শুরু করি।

প্রিয়.কমের প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাৎকাররত তানজির তুহিন। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

প্রিয়.কম: রবীন্দ্রসঙ্গীতের অ্যালবাম করেছেন আপনারা। ভবিষ্যতে লালন কিংবা নজরুলগীতি করার পরিকল্পনা আছে কি?

তানজির তুহিন: রবীন্দ্রসঙ্গীত নিয়ে কাজ করা ছিল আমাদের ব্যান্ডের সবার প্রয়াস আরকি। সবার স্বাধীনতা, সবার শক্তিটা আসলে রবীন্দ্রনাথের গানের মধ্যে আনার চেষ্টা। কারণ একটা কন্ট্রাস্ট জায়গা থেকে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে সাধারণ মানুষের কাছে ব্যান্ড থেকে বাংলা গানে রুপান্তর করে নিয়ে এসে দেওয়াটা খুব কঠিন একটি কাজ। এর মধ্যে আমাদের ব্যান্ডের সকলের কাছে কৃতজ্ঞ আরকি। কারণ তারা রিসার্চ করেছে বা প্রতিটি গান শুনেছে তারা, ফিল করার চেষ্টা করেছে। এবং তাদের যেই যুদ্ধের হাতিয়ার, সেটার মধ্যে দিয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে ফুটিয়ে আনার চেষ্টা করেছে। পরবর্তীতে লালন বা নজরুলগীতি হয়তো ব্যান্ডের থেকে পাওয়া যাবে না, কেন না- আমরা কিছু মৌলিক গান নিয়ে চিন্তা করছি। কেন না- এই গানগুলো তো গাইছে মানুষ। কিছু মৌলিক নতুন গান নিজেদের মতো করে চেষ্টা করছি।

প্রিয়.কম: প্রেম করেছেন কখনো?

তানজির তুহিন: হ্যাঁ প্রেম করেছি। দেশের সঙ্গে প্রেম করেছি, নিজের গাড়ির সঙ্গে প্রেম আছে, আমার বাইকের সঙ্গে প্রেম আছে।

প্রিয়.কম: আপনি এবং আপনার ব্যান্ড মেম্বাররাতো এখন স্টার...

তানজির তুহিন: জানি না আপনি কোন মাপ কাঠিতে আমাকে স্টার বললেন। আমাদের ব্যান্ড বা আমাদের এই মানুষগুলো এখনও স্টার হয়ে ওঠেনি। স্টার হচ্ছে- মাশরাফি বিন মর্তুজার মতো যে মানুষগুলো আমাদের দেশে কষ্ট করে বা মাশরাফির বলা মানুষগুলোর মতো- যারা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন যুদ্ধ করেছেন, তারা হচ্ছেন স্টার। আমরা স্টার হবো, আরও পাঁচ থেকে সাত বছর লাগবে আরকি।

প্রিয়.কম: ক্ষ্যাপ মারা বিষয়টিকে কীভাবে দেখেন আপনি?

তানজির তুহিন: ক্ষ্যাপ হচ্ছে দুই রকম। একটা হচ্ছে রেগুলার ক্ষ্যাপ, যারা বিয়ে বা বৌভাত অনুষ্ঠান যারা পারফর্ম করলেন। আরেকটি হচ্ছে শিল্পীদের ক্ষ্যাপ। যত শ্রদ্ধেয় শিল্পীরা আছেন, তারা তাদের শক্তি দিয়ে যেই শিল্পটি পারেন সেটি করে তার বিনিময়ে টাকা নিয়ে আসবেন- এটাকে যদি ক্ষ্যাপ বলা হয় তাহলে ক্ষ্যাপ, আর যদি পারিশ্রমিক বলা হয়, তাহলে পারিশ্রমিক। ক্ষ্যাপ মারা ভালো। ক্ষ্যাপ মারলে তো টাকা আসে। শিল্পচর্চাও হয়, টাকাও আসে।

প্রিয়.কম: জ্যামিংয়ের পেছনে কতটা সময় ব্যয় করেন?

তানজির তুহিন: আমরা যার যার মতো প্র্যাকটিস করে নিই আমাদের বাসায়। আর প্রোগ্রাম থাকলে একদিন, দুইদিন, তিনদিন- যতদিন সম্ভব প্র্যাকটিস করে নিই।

প্রিয়.কম: আপনাদের করা দুটি শ্রুতিমধুর গান হচ্ছে- ‘দেহের ভিতর রাখলাম যারে’ এবং ‘হয় না এমন তো হয় না- এ দুটি গান কোন ঘরানার?

তানজির তুহিন: এ দুটি গান হচ্ছে একটু ফোক ফিউশনের গান। আমরা একেকজন একেক ধারা থেকে এসেছি। আমি এক রকমের পছন্দ করতাম, জিয়া এক রকমের পছন্দ করত, শাফিনের ভালো লাগা এক রকম। বিভিন্ন ধারার মিশ্রণ ঘটে শিরোনামহীনের পাত্রের মধ্যে আরকি। আমরা যে যেই ধরনের গানই নিয়ে আসি, চেষ্টা করি যে সন্তানটিকে (গানটি) বাঁচানোর। এই গান দুটি হচ্ছে- ঐ রকমই বেঁচে যাওয়া দুটি সন্তান।

তানজির তুহিন। ছবি: শামছুল হক রিপন; প্রিয়.কম।

প্রিয়.কম: আপনাকে শুধু ভোকাল হিসেবেই দেখি, বাদ্যযন্ত্র বাজাতে দেখি না...

তানজির তুহিন: আমি পারি না, আমি অনেক কিছুই পারি না। সেই না পারাটা হচ্ছে আমার একটি সার্থকতা বা ব্যর্থতা। সবাইকে সব কিছু পারতে হবে এমনটি দরকার নেই। যদি পারতাম, তাহলে হয়তো অন্য কেউ হয়ে যেতাম।

প্রিয়.কম: 'ফারহান' নামক একজন শিরোনামহীন ব্যান্ডের কিছু গানে ভোকাল ছিলেন,  তাকে আর ভোকাল হিসেবে পাওয়া যাচ্ছে না...

তানজির তুহিন: ও উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে চলে গিয়েছে। আমরাও ওকে আটকে রাখিনি, আর আটকে রাখার কথাও নয়। কারণ মিউজিক করে খাওয়ার চেয়ে ও যদি অন্য কোনো ওয়েতে আরও বেটার লাইফ লিড করতে পারে, আমরা অবশ্যই তাকে ছেড়ে দিই। ইন্সপায়ারড করব- যদি সে যেতে চায়।

প্রিয়.কম: তার চলে যাওয়ায় আপনার প্রতিক্রিয়া কী? মানে- আপনি জায়গা পেয়ে গেলেন এমন কিছু?

তানজির তুহিন: কেউ কাউকে জায়গা দেওয়া বা না দেওয়া কোনো ব্যাপার নয়। বরং আমার কষ্ট বেড়েছে।

প্রিয়.কম: আপনার পছন্দের কিছু দেশিয় ব্যান্ডের নাম বলুন।

তানজির তুহিন: আমার পছন্দের ব্যান্ডের মধ্যে আর্টসেল আছে, ওয়ারফেস আছে, অর্থহীন আছে, জেমস ভাই আছেন, বাচ্চু ভাই আছেন।

প্রিয়.কম: গান আপনার সাধনা নাকি কেবলই বিনোদন?

তানজির তুহিন: গান থেকে আমি টাকা উপার্জন করি। এটা আমার সাধনা, এটা আমার পেশা। মানুষের জন্য বিনোদন, আমার জন্য পেশা।

প্রিয়.কম: আপনি মধ্যখানে অভিনয় জগতে এলেন, আবার চলেও গেলেন। কেনই বা আসা, চলে যাওয়াই বা কেন?

তানজির তুহিন: যাওয়া আসার কারণ হচ্ছে- শেষ বয়সে আমি কিছু ফিল্ম নিয়ে কাজ করতে চাই। অভিনয়ে যাওয়ার বিষয়টা হচ্ছে জাস্ট দেখা যে- বাংলাদেশের মানুষগুলো বা আমাদের যে সহকর্মীরা রয়েছেন, সেই প্রেক্ষাপটে- এতো নেগেটিভইজমের মধ্যে থেকেও, কীভাবে তারা কাজ করে একটি প্রোডাক্ট বের করে নিয়ে আসছে- সেগুলো দেখা আর সহশিল্পীদের সঙ্গে পরিচিত হওয়া।

প্রিয়.কম: আমার শেষ প্রশ্ন- আপনার ছোটবেলা ও বেড়ে ওঠা সম্পর্কে কিছু বলুন।

তানজির তুহিন: ছোট বেলায় আমি বেইলি রোডে বড় হয়েছি, সোবাহানবাগে থেকেছি, ঢাকা কলেজে পড়েছি। এইতো, ছোট থেকে বড় হয়ে গেলাম।

প্রিয়.কম: আপনাকে অনেক ধন্যবাদ আমাদের সঙ্গে কিছু সময় কাটানোর জন্য।

তানজির তুহিন: আপনাকেও অনেক ধন্যবাদ। দেখা হবে আবার।

সম্পাদনা: গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
আরিফিন শুভর ‘মিশন এক্সট্রিম’
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
নৌকায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানালেন শাকিব খান
নিজস্ব প্রতিবেদক ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
সাইদুল আনাম টুটুল আর নেই
প্রিয় ডেস্ক ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮
সিয়ামের বিয়ের কিছু ছবি
তাশফিন ত্রপা ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮
স্পন্সরড কনটেন্ট
চ্যানেল আই ‘ব্যান্ড ফেস্ট’ : থাকছে ১৭ দল
চ্যানেল আই ‘ব্যান্ড ফেস্ট’ : থাকছে ১৭ দল
নয়া দিগন্ত - ২ সপ্তাহ, ৪ দিন আগে
ব্যান্ড ফেস্ট ১লা ডিসেম্বর, থাকবে এলআরবি
ব্যান্ড ফেস্ট ১লা ডিসেম্বর, থাকবে এলআরবি
মানবজমিন - ২ সপ্তাহ, ৪ দিন আগে
ব্যান্ড ফেস্ট মঞ্চে আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে
ব্যান্ড ফেস্ট মঞ্চে আইয়ুব বাচ্চুর ছেলে
https://www.prothomalo.com/ - ২ সপ্তাহ, ৪ দিন আগে
ব্যান্ড ফেস্টে এলআরবি ও তাজোয়ার
ব্যান্ড ফেস্টে এলআরবি ও তাজোয়ার
বাংলা ট্রিবিউন - ২ সপ্তাহ, ৫ দিন আগে

loading ...