(প্রিয়.কম) ম্যাক অ্যান্ড চীজ, খাবারটির নাম শুনলেই অনেকের ক্ষুধা লেগে যাবে। ম্যাকারনি এবং পনিরে মাখা মাখা খাবারটি পছন্দ হবে যে কারোই। পশ্চিমা দেশগুলোতে ম্যাক অ্যান্ড চীজ এতই জনপ্রিয় যে ম্যাকারনি এবং পনিরের গুঁড়ো একসাথে রেডিমিক্স বক্সে বিক্রি করা হয়, বাড়িতে নিয়ে খুব সহজেই রান্না করে ফেলা যায়। কিন্তু এই খাবারে থাকে এমন এক উপাদান, যার নাম সেই বক্সের ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্টে পাবেন না আপনি। এতে থাকে থ্যালেট নামের একটি রাসায়নিক, যাকে গবেষকেরা চিহ্নিত করেছেন শরীরের জন্য ক্ষতিকর হিসেবে। 

একটি গবেষণায় জানা যায় এই তথ্য। ছোট এই গবেষণাটিতে নেওয়া হয় ৩০টি পনিরের তৈরি পণ্য, যেমন স্ট্রিং চীজ, স্লাইসড চীজ, ম্যাক অ্যান্ড চীজের বক্সে থাকা চীজ পাউডার ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা যায়, এই ৩০টি পণ্যের মাঝে ২৯টিতেই থাকে থ্যালেট! সাধারণ পনিরে তা থাকে খুবই কম পরিমাণে। আর প্রক্রিয়াজাত পণ্যে থাকে সবচাইতে বেশি পরিমাণে গবেষণাটি করে কোয়ালিশন ফর সেফার ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্যাকেজিং নামের সংঘটি। তা কোনো জার্নালে এখনও প্রকাশিত হয়নি। 

থ্যালেট কী?

থ্যালেট হলো এক জাতীয় রাসায়নিক যা বেশি ব্যবহার করা হয় সাবান, আঠা, রাবার, কালি এবং সুগন্ধি তৈরিতে। এগুলোকে ইচ্ছে করে খাদ্য পণ্যে যোগ করা হয় না বটে। কিন্তু কারখানায় প্রক্রিয়াকরণের সময়ে খাবারে চলে আসে এসব উপাদান। 

“প্লাস্টিক টিউব, প্লাস্টিক গ্লাভস, ফুড সাপ্লাই চেইনের গ্যাসকেট- এসবে ব্যবহার হয় এই রাসায়নিক”, বলেন গবেষণার সাথে জড়িত একটি প্রতিষ্ঠান, এনভায়রনমেন্টাল হেলথ স্ট্র্যাটেজি সেন্টারের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মাইক বেলিভ্যু। 

আমেরিকার ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ হেলথ (NIH) এর মতে থ্যালেট শ্রেণীভুক্ত রাসায়নিক এন্ডোক্রাইন গ্রন্থির কাজে বাঁধা দেয়। চর্বি কোষ খুব সহজেই এ রাসায়নিকটাকে শুষে নেয়, ফলে প্লাস্টিক থেকে খাবারে চলে আসে তা। বেশি পরিমাণে থ্যালেট আপনার শরীরে গেলে তা থেকে নারীপুরুষ উভয়ের মাঝে বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে, এছাড়াও আচরণগত ও বিকাশগত সমস্যা দেখা দিতে পারে সেসব শিশুতে যারা গর্ভে থাকা অবস্থায় মায়ের শরীরে এসব রাসায়নিক প্রবেশ করে। এছাড়াও DEHP নামের থ্যালেটটি ক্যান্সার তৈরি করতে পারে, জানা যায় ইঁদুরের ওপর গবেষণা থেকে। 

শিশু পণ্যে নিষিদ্ধ থ্যালেট

মানুষের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে থ্যালেট, তার ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যায় না। তবে ২০০৮ সাল থেকে শিশুদের ব্যবহার্য পণ্য তৈরিতে থ্যালেট ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অ্যামেরিকা। ইউরোপেও কয়েকটি থ্যালেট খাবার প্যাকেটজাত করার ক্ষেত্রে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। 

কতখানি থ্যালেট থাকে খাবারে?

এই গবেষণায় নেওয়া খাবারগুলো বেলজিয়ামের এক পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়। এসব খাবার থেকে ফ্যাট আলাদা করে নিয়ে ১৩ ধরণের থ্যালেট আছে কিনা তা পরীক্ষা করা হয়। 

দেখা যায়, সাধারণ পনিরের তুলনায় প্রক্রিয়াজাত পনিরে ৪ গুণেরও বেশি থ্যালেট থাকে। আর ম্যাক অ্যান্ড চীজের গুঁড়ো পনিরে থাকে তার চাইতেও দেড় গুণ বেশি থ্যালেট। এসব পণ্যের অনেকগুলোই ছিলো Kraft Heinz ব্র্যান্ডের। সাড়া বিশ্বে ম্যাক অ্যান্ড চীজের সবচাইতে বড় বিক্রেতা তারা। এই গবেষণার ব্যাপারে তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলে তারা সিএনএনকে জানায়, “ আমাদের পণ্যে থ্যালেট মেশানো হয় না। গবেষণায় যে পরিমাণ শনাক্ত করা হয়েছে তা মানুষের খাওয়ার জন্য যে পরিমাণটি ক্ষতিকর তার চাইতে ১,০০০ গুণ কম। আমাদের পণ্য ক্রেতাদের জন্য নিরাপদ।”

জন্স হপকিন্স ব্লুমবার্গ স্কুল অফ পাবলিক হেলথের সহকারী অধ্যাপক জেসি বাকলি জানান, আমরা দৈনন্দিন জীবনে কী পরিমাণ থ্যালেটের সংস্পর্শে আসি তা নিশ্চিত করে বলা যায় না। এর ব্যাপারে তেমন তথ্য নেই। এই রাসায়নিকটি শরীর থেকে দ্রুত (কয়েক ঘন্টার মাঝে) বের হয়ে গেলেও তা চিন্তার কারণ হতে পারে, বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে।  কতটা থ্যালেট আমাদের জন্য নিরাপদ তা জানা যায় না, কিন্তু সুস্থ থাকার জন্য যতটা সম্ভব একে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। 

 সূত্র: সিএনএন

সম্পাদনা : রুমানা বৈশাখী