নিউ ইয়র্কের সিটি ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক সি. ডব্লিউ. অ্যান্ডারসন, অ্যারিজোনা স্টেট ইউনিভার্সিটির জার্নালিজম বিভাগের অধ্যাপক লিওনার্ড ডাউনি জুনিয়র এবং কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটির জার্নালিজমের অধ্যাপক মাইকেল শাডসন দ্য নিউজ মিডিয়া: হোয়াট এভরিওয়ান নিডস টু নো নামের একটি বই লিখেছেন। ২০১৬ সালে বইটি প্রকাশ করে অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস। বইটিতে লেখকরা সাংবাদিকতার অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা করেছেন, বিশ্লেষণ করেছেন। সেই বই অনুসারে ধারাবাহিকভাবে অনুলিখন করছেন মিজানুর রহমান

আজকের বিষয়: কী পরিবর্তন হয়নি? কী পরিবর্তন হওয়া উচিত নয়?

(প্রিয়.কম) প্রচলিত সংবাদের গুরুত্ব এখনও আছে। বর্তমান বিশৃঙ্খল ডিজিটাল মাধ্যম সাংবাদিকতায় আমাদের জীবন, সমাজ এবং বিশ্বে প্রচলিত সংবাদের গুরুত্বকে অস্বীকার করা যাবে না। চলতি শতকের গোড়ার দিকে যখন ডিজিটাল পরিবর্তন শুরু হচ্ছিল, তখন লিওনার্ড ডাউনি জুনিয়র এবং জি. কায়সার নফ ‘দ্য নিউজ’ নামে একটি বই লিখেছিলেন (২০০২), যেটি এখনকার বাস্তবতায়ও প্রযোজ্য। বইটির একটি অংশ ছিল এমন, ‘প্রয়োজনীয় তথ্য ও বিশ্বের সঙ্গে নিজেদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে যেকোনো মাধ্যমেই ভালো সাংবাদিকতা আমেরিকানদের সমৃদ্ধ করছে। ‘আদর্শ সাংবাদিকতা’ নাগরিকদের মধ্যে সুস্থ বোঝাপড়া নিশ্চিত করে যেটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকরা একসঙ্গে একটি সমাজ হিসেবে কাজ করতে পারে না, যদি না তারা তাদের চারপাশের তথ্য, প্রতিবেশী, সরকারি প্রতিষ্ঠান, ক্রীড়া দল এমনকি আবহাওয়ার তথ্য সবাই সবার সঙ্গে শেয়ার না করছে। এসব খবরের গভীর ঢোকা এবং প্রত্যেকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই হচ্ছে সর্বোত্তম সাংবাদিকতা।’

আদর্শ সাংবাদিকতায় খবরের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা, ব্যাখ্যা, অংশগ্রহণ, জানানো, তথ্যের যথার্থতা যাচাই, বিশ্লেষণ, অনুসন্ধান, তথ্য উন্মোচন করা, এসব থাকবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে আদর্শ সাংবাদিকতা সবসময় সত্য অন্বেষণ করবে। খবরটি যেভাবেই তৈরি করা হোক বা যে মাধ্যমেই পরিবেশন করা হোক না কেন, আদর্শ সাংবাদিকতায় এসব মৌলিক রীতি-নীতি কখনও পরিবর্তনযোগ্য নয়।

ভুলভাবে, অন্যায়ভাবে, পক্ষপাতদুষ্টভাবে, মিথ্যা কিংবা ভুল তথ্য দিয়ে সংবাদ পরিবেশন করা হচ্ছে নীতিহীন সাংবাদিকতা। এমন সাংবাদিকতার উদাহরণ এখনও বিরাজমান এবং বর্তমান ডিজিটাল মিডিয়ায় এর প্রভাব খুবই ভয়ঙ্কর। নীতিহীন সাংবাদিকতা পাঠককে ভুল তথ্য জানাতে পারে, সমাজকে কলুষিত করতে পারে, মানুষের জীবন বিপন্ন করতে পারে এবং পুরো জাতিকে বিপদে ফেলতে পারে।

তাই সংবাদের গুরুত্ব এখনও কমেনি। ইন্টারনেটে সমুদ্র সমান ভুল তথ্যের সমাহারে বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতাই একমাত্র আশার আলো। বিশ্বাসযোগ্য সাংবাদিকতায় সংবাদ নিষ্ঠতা, বিশ্বাসযোগ্যতা, সততা, ক্ষমতার স্বাধীনতা, আদর্শ, নিষ্ঠার প্রতিফলন ঘটবে। প্রতিটি সংবাদমাধ্যম এবং সাংবাদিক যারা সংবাদ তৈরি করছে, প্রত্যেককেই সাংবাদিকতা এবং সংবাদের এসব চাহিদা পূরণ করতে হবে।

এটা সবসময় করা ততটা সহজ নয়। ডিজিটাল মাধ্যমে দ্রুত ও সবার আগে পাঠকের কাছে সংবাদ পৌঁছে দিতে গিয়ে অনেক ক্ষেত্রেই সংবাদের যথার্থতা হুমকির মুখে পড়তে পারে। মিডিয়া মালিকদের চাপ কিংবা বাইরের আতঙ্ক সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ক্ষুন্ন করতে পারে। সংবাদের উৎসের (নিউজ সোর্স) জীবনও হুমকির মধ্যে পড়তে পারে কিংবা তাদের জীবন ধারণের ওপর বিরুপ প্রভাব পড়তে পারে। সততা, উন্মুক্ত চিন্তা-ভাবনা, গ্রহণযোগ্যতা এবং মানুষের চাহিদা, এগুলোকে বিভিন্নভাবে সংজ্ঞায়িত করা গেলেও সংবাদের নিষ্ঠতা ও সত্যের সঙ্গে আপোষহীনতার মনোভাব হতে হবে অত্যন্ত পরিষ্কার। এমনকি অনেক সময় এগুলো মানতে অনেক কষ্ট স্বীকার করতে হলেও কোনোভাবেই এসবের সঙ্গে আপোষ করা যাবে না।

দ্য এলিমেন্টস অব জার্নালিজম বইয়ে লেখক বিল কোভাচ ও টম রোসেন্সটেইল লিখেছেন, ‘সত্য হচ্ছে সাংবাদিকতার প্রথম বাধা’। লেখকদ্বয় লিখেছেন, বর্তমান মুক্তকণ্ঠের যুগেও আলোচনা, সমালোচনা, বিতর্ক, মন্তব্য, সবকিছুর ভিত্তি হচ্ছে সঠিক সংবাদটা পাওয়া।