(প্রিয়.কম) কেউ কেউ একে কটেজ চিজ বলেন, আবার কেউ কেউ বলেন এটি অনেকটা কমলার খোসার মত। কিন্তু সেলুলাইটকে যে নামেই ডাকা হোক না কেন এটি যে কারো ত্বকের নীচেই থাকতে পারে। নিউ ইয়র্ক সিটির লেনক্স হিল হাসপাতালের ডারমাটোলজিস্ট ডা. মাইকেল গ্রিন বলেন, মূলত সেলুলাইট হচ্ছে ত্বকের নীচে থাকা চর্বির অংশ যা সংযোগ কলার মধ্য দিয়ে ফুলে ওঠে।

গ্রিন লাইভ সায়েন্সকে বলেন, তরুণ অবস্থায় এই সংযোগ কলার বেশিরভাগ অংশ কোলাজেন নামক প্রোটিন দ্বারা গঠিত হয় এবং এদের মধ্যে ফ্যাট থাকে। কিন্তু বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই চর্বিগুলো বের হয়ে আসতে শুরু করে টিস্যুর মধ্য দিয়ে। এ কারণেই ত্বকের মধ্যে টোল পড়ে বা ফোলা অংশ দেখা যায়।

এটা আরো ভালোভাবে বোঝার জন্য আপনার দেহের চর্বিগুলোকে একটি জাল দ্বারা আবদ্ধ অবস্থায় চিন্তা করুন। যদি এই জালের তন্তু খুব বেশি ঢিলা বা টাইট হয় তাহলে জালের ছিদ্রের মধ্য দিয়ে চর্বি বের হয়ে আসতে পারে।

গ্রিন বলেন, বয়স্ক মানুষের শরীরে সেলুলাইট কেন দেখা যায় তা আসলে অজানা। কখন এবং কীভাবে এটি দেখা যাবে তা হরমোন এবং জিন দ্বারাই প্রভাবিত হয়। এটি পুরুষের চেয়ে নারীদের ক্ষেত্রেই হয়ে থাকে বেশি। যদিও সেলুলাইট হচ্ছে ফ্যাট, তবে এর ওজনের সাথে কোন সম্পর্ক নেই।

সেলুলাইটের অন্য আরেকটি ফ্যাক্টর হচ্ছে বয়স। বয়ঃসন্ধি কালের পর থেকেই এটি হতে দেখা যায়। গ্রিন বলেন, দুর্ভাগ্যবশত এটিকে এড়িয়ে যাওয়ার কোন উপায় নেই। গ্রিন বলেন, যদি একবার সেলুলাইট হয়ে যায় তাহলে এটি থেকেই যায়। সেলুলাইট দূর করার জন্য অনেক ক্রিম পাওয়া যায় বাজারে। কিন্তু এগুলো তেমন কার্যকরী না।

লিপোসাকশন এর মত প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে শরীর থেকে ফ্যাট কমানো হয় তার দ্বারাও সেলুলাইট থেকে মুক্ত হওয়া যায় না। ন্যাশনাল লাইব্রেরী অফ মেডিসিন এর মতে, লিপোসাকশন সেলুলাইটের অবস্থা আরো খারাপ করে দেয়।

গ্রিন বলেন, নির্দিষ্ট কিছু প্রক্রিয়া হয়তো সেলুলাইট কমতে সাহায্য করে কিন্তু তা অস্থায়ীভাবে।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

সম্পাদনা: কে এন দেয়া