(প্রিয়.কম) বর্তমান সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রেফতারের প্রতি নিন্দা ক্ষোভ ও আতঙ্কের কথা জানিয়ে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) প্রধান সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, যদি অপহরণের ঘটনা একটিতে শেষ হতো, তাহলে অপহরণের শিকার ব্যক্তি ও তাদের স্বজনেরা মুখ খুলতেন।

১২ আগস্ট শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির আয়োজিত ‘আইনের শাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা’ শিরোনামে এক আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।

রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘টেলিভিশন টকশোতে দেখলাম খুব কথা। যারা অপহৃত হয়ে যাচ্ছেন, তারা আর কথা বলেন না। এটা বুঝবার বুদ্ধি নেই আপনাদের? কথা কেমন করে বলবে? যদি একটা অপহরণের ঘটনাই হতো শেষ অপহরণের ঘটনা, তাহলে অবশ্যই যারা অপহৃত হয়েছেন, তারা এবং তাদের পরিবার কথা বলতেন। একটা অপহরণের ঘটনা সারতে না সারতেই যদি দেখেন সাতজন অপহরণ হয়েছেন, তা–ও আবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দিয়ে এবং এমন পর্যায় থেকে যাকে আপনি ফেলে দিতে পারবেন না। এটা তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কালচারের ভেতরে ঢুকে গেছে।’

উল্লেখ্য যে, তিন বছর আগে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের স্বামী আবু বকর সিদ্দিককে অজ্ঞাতপরিচয়ের লোকজন অপহরণ করে। অপহরণের পরপরই থানায় মামলা করলেও কারা এর পেছনে ছিল, সে সম্পর্কে তদন্তে কিছু জানা যায়নি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ একটা ‌‘বিপদে পড়ার কালচারের’ মধ্যে ঢুকে গেছে। মানুষ এখন প্রতিবাদ করতে গেলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়, প্রতিবাদ করতে গিয়ে বিপদে পোড়ো না। জনগণের অনাস্থা, অবিশ্বাসের জায়গাগুলো শনাক্ত করে, আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

বেলার নির্বাহী প্রধান বলেন, ‌‘যেসব আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আস্থাহীনতা চরম, অবিশ্বাস চরম, সেখান থেকে মুক্তি পেতে হলে, কোনো আইন বাতিল করতে হলে আমাদের বাতিল করতে হবে। যদি বিডিআরের নাম বদলে যেতে পারে, যে সে মূল্যবোধ নিয়ে ব্যাজ পরতে পারছে না, তাহলে র‌্যাবের ব্যাপারেও আসলে আমাদের চিন্তা করতে হবে।’

মৌলিক অধিকার সুরক্ষা কমিটির অন্যতম সদস্য এবং আইন ও সালিস কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক নূর খান লিটন বলেন, ‘স্বজ্ঞানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পরিবর্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলা হয়েছে। কারণ বাহিনীর সঙ্গে রক্ষাকারী শব্দটা আর যায় না।’

আলোচনা সভায় সাতক্ষীরার জেসমিন নাহার নামে এক নারী উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, তার স্বামীর তিন দিন হাজতে অবস্থানের সুস্পষ্ট প্রমাণ আছে। জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিমের প্রতিবেদনে বিষয়টি পরিষ্কার হওয়ার পরও পুলিশ অস্বীকার করছে। তাকে ‌‘জঙ্গি’ বলে প্রচার করছে।

আলোচনা সভার সমন্বয়ক সুপ্রিম কোর্টের অ্যাডভোকেট জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, আইনে অপহরণের ব্যাপারে বিধান আছে যখন কোনো ব্যক্তি কোনো ব্যক্তিকে উঠিয়ে নিয়ে যায়, তখন সেটা অপহরণ হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠছে, তারা কোনো আইনি প্রক্রিয়া ছাড়াই গ্রেফতার করছে। সে কারণে গ্রেফতারের পরিবর্তে তুলে নিয়ে যাওয়া, উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার মতো বেআইনি শব্দগুলো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যবহার হচ্ছে। যেহেতু আইনি প্রক্রিয়া না মেনে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত প্রতিকার আসলে নেই বলে মন্তব্য করেন জ্যোতির্ময় বড়ুয়া।

প্রিয় সংবাদ/হিরা