আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে কেন?

কেন আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে? আর এই প্রবণতা কমাতেই বা কী করা যায়?

কে এন দেয়া
সহ-সম্পাদক
১১ জুন ২০১৮, সময় - ১৪:৩৪

ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) একই সপ্তাহে পাশ্চাত্যের দুই বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব অ্যান্থনি বোর্ডেইন এবং কেট স্পেডের আত্মহত্যায় নতুন এক প্রশ্ন উঠে এসেছে। কেন আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ছে? আর এই প্রবণতা কমাতেই বা কী করা যায়?

একে অপরের থেকে দূরত্ব, মানসিক অত্যাচার অনেক কিছুকেই আত্মহত্যার কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন গবেষকরা। কিন্তু আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ার কারণটা এখনো রহস্যই রয়ে গেছে।

কেন বাড়ছে আত্মহত্যা

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কনট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের (সিডিসি) এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বিশ বছরে সে দেশে আত্মহত্যার হার বেড়েছে ২৫ শতাংশের মতো। কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, এ সময়ে মানুষের মাঝে দূরত্ব বেড়েছে, আর্থিক সমস্যা এবং মানসিক সমস্যাও বেড়েছে।

কেউ কেউ দাবি করেন, এর পেছনে প্রযুক্তিগত উন্নতির প্রভাব রয়েছে। কিন্তু দিনশেষে এর সবই জল্পনা।

ইউনিভার্সিটি অব পিটসবার্গের অধ্যাপক ড. ক্যাটালিন স্যান্টো জানান, আত্মহত্যার বিষয়ে ঢালাও কোনো মন্তব্য করে দেওয়া যায় না। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের মাঝে মৃত্যুর দ্বিতীয় প্রধান কারণ হলো আত্মহত্যা। কিন্তু অনেক গবেষক মনে করেন, আগামী কয়েক বছরে বেবি বুমার অর্থাৎ ১৯৪৬ থেকে ১৯৬৪ বছরের মাঝে যারা জন্ম নিয়েছেন তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি দেখা যাবে।

সিডিসির অতীত গবেষণা থেকে দেখা যায়, মানসিক, শারীরিক বা শিশু নির্যাতনের শিকার হলে আত্মহত্যার প্রবণতা বাড়ে। অথচ গত দুই দশকে নির্যাতনের সংখ্যা বাড়েনি, বরং কমেছে।

একাধিকবার আত্মহত্যার ক্ষেত্রেও নিশ্চিত কিছু বলা যায় না। কেউ যদি প্রথম আত্মহত্যার চিন্তা করার পর কারো থেকে মানসিক সাহায্য পায়, তাহলে সে আর দ্বিতীয়বার আত্মহত্যার চিন্তা করে না। কিন্তু একবার আত্মহত্যার চেষ্টার পর বেঁচে গেলে তিনি বারবার চেষ্টা করতে থাকেন, এমনটা দেখা যায়।

আত্মহত্যা ঠেকানো

কিছু ক্ষেত্রে আত্মহত্যা ঠেকানো সম্ভব। ডেট্রয়েটের এক ১০ বছরব্যপী গবেষণার ফলাফল হিসেবে দেখা যায়, ডাক্তার এবং থেরাপিস্টদের চেষ্টায় আত্মহত্যার হার কমিয়ে আনা যায় ৮০ শতাংশ।

একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আত্মহত্যার চিন্তা করছেন এমন মানুষ যদি এসব চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য চিকিৎসা না চান, তাহলে তাকে থামানো কঠিন। এ তথ্য জানিয়েছেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ক্যালিফোর্নিয়ার আত্মহত্যা বিশেষজ্ঞ সুসান লিন্ডো।

এ সমস্যাটি পুরুষদের মাঝে বেশি দেখা যায়। সাধারণত তাদের মানসিক সমস্যা থাকলেও তারা স্বীকার করতে চান না এবং এর জন্য চিকিৎসা নিতে চান না। ফলে তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি থাকে। অন্যদিকে, নারীরা মানসিক সমস্যার চিকিৎসা নিতে তেমন একটা পিছ পা হন না।

মানসিক সমস্যার ব্যাপারে অবশ্য সবার মাঝেই একটা খারাপ ধারণা কাজ করে। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবাই একে কিছুটা হলেও অস্বীকার করতে চান। এ কারণে পরে তাদের এ সমস্যা বেড়ে আত্মহত্যার প্রবণতা তৈরি করে।

সুসান লিন্ডো জানিয়েছেন, অ্যান্থনি বোর্ডেইন এবং কেট স্পেডের মত বিখ্যাত ব্যক্তিত্বের আত্মহত্যায় অনেক সাধারণ মানুষ ‘উদ্বুদ্ধ’ হন এবং তারাও আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। বেশিরভাগ মানুষের ক্ষেত্রে আত্মহত্যার চিন্তা আসার পর প্রথম ২০টি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ। এ সময়ের মাঝে তারা যদি পরিবারের সদস্য বা বন্ধুস্থানীয় কারো সাথে যোগাযোগ করে এবং তাদের থেকে মানসিক সাহায্য পায়, তাহলে তাদের আত্মহত্যার প্রবণতা অনেকটা কমে আসে।

সূত্র: Live Science

প্রিয় সংবাদ/গোরা 

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


স্পন্সরড কনটেন্ট
৫ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা : ২ জনের মৃত্যু
৫ জনের আত্মহত্যার চেষ্টা : ২ জনের মৃত্যু
নয়া দিগন্ত - ৩ দিন, ৯ ঘণ্টা আগে
জনপ্রিয়
আরো পড়ুন