মঙ্গলবার বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস

ডাউন সিনড্রোম একটি শিশুর বংশানুগতিক সমস্যা। মানবদেহের ২১তম ক্রোমোজোম জোড়ায় অতিরিক্ত একটি ক্রোমোজোমের উপস্থিতির কারণে এটি হয়ে থাকে।

প্রিয় ডেস্ক
ডেস্ক রিপোর্ট
২১ মার্চ ২০১৭, সময় - ০৩:৪৪

ছবি সংগৃহীত

বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিকীর নেতৃত্বে ক্যাম্পাসে র‌্যালী। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) ‘আমাদের কণ্ঠস্বর, আমাদের সমাজে, সরকারের সব কাজে, ডাউন সিনড্রোমকে রাখবে পাশে’ স্লোগানকে ধারণ করে ২১ মার্চ মঙ্গলবার সারা বিশ্বে পালিত হচ্ছে বিশ্ব ডাউন সিনড্রোম দিবস। 

ডাউন সিনড্রোম একটি শিশুর বংশানুগতিক সমস্যা। মানবদেহের ২১তম ক্রোমোজোম জোড়ায় অতিরিক্ত একটি ক্রোমোজোমের উপস্থিতির কারণে এটি হয়ে থাকে। এর ফলে মৃদু বা গুরুতর মাত্রার বুদ্ধিপ্রতিবন্ধিতা, দুর্বল পেশীক্ষমতা, খর্বাকৃতি ও মঙ্গোলয়েড মুখাকৃতি পরিলক্ষিত হয়।

বাংলাদেশে প্রতিদিন গড়ে ১৫টি করে বছরে প্রায় পাঁচ হাজার ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত শিশুর জন্ম হয়। বর্তমানে দেশে প্রায় দুই লাখ ডাউন সিনড্রোম ব্যক্তি বাস করছে বলে ধারণা করা হয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বাংলাদেশের স্নায়ুবিকাশ জনিত প্রতিবন্ধীদের একটি ধরন ডাউন সিনড্রোম আক্রান্তদের সম্পর্কে এমন তথ্যই জানিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে এখনও ডাউন সিনড্রোম ধরনের প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা সম্পর্কে সঠিক কোনো তথ্য নেই। তবে সমাজসেবা অধিদফতরের অধীনে চলমান প্রতিবন্ধিতা শনাক্তকরণ জরিপে এখন পর্যন্ত ২ হাজার ৫৬০ জন ডাউন সিনড্রোম ধরনের প্রতিবন্ধী শনাক্ত হয়েছে বলে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা জানান, ডাউন সিনড্রোম কোনো রোগ নয়, এটি দেহের একটি জেনেটিক পার্থক্য। তাই এটি নিরাময় হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বিভিন্ন পরিচর্যার মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম আক্রান্ত ব্যক্তিদের শারীরিক সমস্যাগুলো নিয়ন্ত্রণে আনা যায়। পরিবারের সহযোগিতায় সঠিক যত্ন, পুষ্টিকর খাবার, কথা, ভাষা এবং শারীরিক বিভিন্ন থেরাপির মাধ্যমে ডাউন সিনড্রোম শিশুদের স্বাভাবিকভাবেই পড়ালেখা শিখিয়ে স্বনির্ভর ও কর্মক্ষম করা সম্ভব। এজন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ডাউন সিনড্রোম সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরি করা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, বর্তমান বিশ্বে প্রতি ৮০০ শিশুর মধ্যে একটি শিশু ডাউন সিনড্রোম বা ডাউন শিশু হিসেবে জন্ম নিয়ে থাকে। ধারণা করা হয় বিশ্বে ৭ মিলিয়ন ডাউন সিনড্রোম এ আক্রান্ত ব্যক্তির বসবাস রয়েছে। এ ছাড়া আমেরিকায় প্রতিবছর প্রায় ৬ হাজার ডাউন শিশুর জন্ম হয়। 

ব্রিটিশ চিকিৎসক জন ল্যাঙ্গডন ডাউন ১৮৬৬ সালে শিশুদের এই সমস্যা চিহ্নিত করেন বলে তার নামানুসারে ‘ডাউন সিনড্রোম’ কথাটি প্রচলিত হয়। ২০০৬ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী দিনটি পালিত হয়ে আসছে।

এ বছর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বাংলাদেশে ডাউন সিনড্রোম দিবস বিশেষভাবে পালিত হওয়ার কথা রয়েছে। এ উপলক্ষে সমাজসেবা অধিদফতর ১০০ জনের বেশি ডাউন শিশু নিয়ে র‌্যালি, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

প্রিয় সংবাদ/আশরাফ

জনপ্রিয়
আরো পড়ুন