ফাইল ছবি

ইয়াবা ‘নির্মূলে’ আসছে মৃত্যুদণ্ডের বিধান

গেল বছর থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছিল। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়।

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৫ মে ২০১৮, ২২:০৪ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২১:১৭


ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) দেশে হেরোইন, প্যাথেড্রিন, মরফিন, কোকেনসহ আরও কিছু মাদক ব্যবসায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড। এবার ইয়াবা ব্যবসায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি আইন হতে যাচ্ছে। চলতি বছরেই এই আইনটি পাস হতে পারে।

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ প্রিয়.কমকে বিষয়টি জানিয়েছেন।

‘চলো যাই যুদ্ধে, মাদকের বিরুদ্ধে’ স্লোগানে গত ১৪ মে থেকে সারা দেশে মাদকবিরোধী অভিযান চালাচ্ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। এই অভিযানে কথিত বন্দুকযুদ্ধে সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ৫৮ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাদের বেশির ভাগই মাদক ব্যবসায়ী ও সরবরাহকারী বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

কয়েকদিনে সন্দেহভাজন বহু লোক নিহত হওয়া নিয়ে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অভিযানের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের কেউ কেউ বলছেন, হত্যা করে মাদক প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। এমন বাস্তবতার মধ্যেই ইয়াবা ব্যবসায়ীদের মৃত্যুদণ্ডের বিধান সংবলিত আইনের কথা জানাল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর।

দেশে প্রচলিত আইনে মাদক গ্রহণ, বহন ও ব্যবসার সর্বোচ্চ শাস্তি তিন মাস থেকে শুরু করে ১৫ বছর পর্যন্ত রাখা হয়েছে। তবে কিছু ক্ষেত্রে আইন থাকার পরও মাদক ব্যবসায় জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার ঘটনা বিরল।  

এ বিষয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের মহাপরিচালক জামাল উদ্দীন আহমেদ প্রিয়.কমকে বলেন, ‘ইয়াবা ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিষয়টি আমরা আগে থেকেই ভাবছিলাম। এ জন্য আইনটি প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছিল। আশা করা যাচ্ছে, চলতি বছরই সেটি পাস হবে। আর পাস হলেই একজন ইয়াবা ব্যবসায়ীর সাজা হবে মৃত্যুদণ্ড।’

অভিযান চালিয়ে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব কি না এমন প্রশ্নের জবাবে জামাল উদ্দীন বলেন, ‘অভিযান দিয়ে তো মাদকের রোধ সম্ভব নয়। অভিযান আগেও চলেছে, এখনো চলছে। তবে আগের থেকে কিছুটা জোরদার করা হয়েছে। মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। এ জন্য সচেতনতা দরকার, যাতে মানুষ উদ্ধুদ্ধ হয়ে একজন মাদক ব্যবসায়ীকে ঘৃণা করতে হবে। তাকে আইনের আওতায় আনার জন্য মাদক নিয়ে কাজ করেন, এমন সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তুলতে হবে।’

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একটি সূত্র জানায়, গেল বছর থেকে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের সর্বোচ্চ শাস্তির বিষয়টি নিয়ে ভাবা হচ্ছিল। এ লক্ষ্যে কাজও শুরু হয়। তবে নানা জটিলতায় তা সে বছর চূড়ান্ত করা সম্ভব হয়নি। এবার আইনের প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, মন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে। প্রস্তাবটির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

আগে প্রচলিত আইনে মাদক ব্যবসায়ী, পাচারকারী, সরবরাহকারী ও ব্যবহারকারীর বিষয়ে আলাদা কোনো ধরনের ধারা  ছিল না। কিন্তু প্রস্তাবিত আইনে আলাদা সব ধারা উল্লেখ থাকবে। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের এক কর্মকর্তা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘শুধু মাদক নিয়ন্ত্রণে কাজ করলেই চলবে না, এর পাশাপাশি পুলিশ, র‌্যার, বিজিবি ও কোস্ট গার্ডকেও কাজ করতে হবে। বিজিবিকে সীমান্ত এলাকাগুলোতে কড়া নজর রাখতে হবে, যাতে কোনোভাবেই সীমান্ত গলিয়ে মাদক ঢুকতে না পারে।

অন্যদিকে কোস্ট গার্ডও সতর্ক থাকতে হবে। কারণ দেশের সিংহভাগ ইয়াবার চালান আসে নদীপথে। একদিকে ভারত সীমান্তে ফেনসিডিলের কারখানা বসিয়ে তা বাংলাদেশে ঢুকিয়ে দেয়, অন্যদিকে মিয়ানমার ইয়াবা তৈরি করে তা নাফ নদী হয়ে টেকনাফ দিয়ে সারা দেশে ছড়িয়ে দেয়। শুধু আইন পাস করেই তো মাদক নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়, এ জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর সহযোগিতা ও আন্তরিকতা দরকার।’

প্রিয় সংবাদ/আজহার

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন
স্পন্সরড কনটেন্ট
সিডনি আসছেন অদিতি মুন্সী
সিডনি আসছেন অদিতি মুন্সী
https://www.prothomalo.com/ - ১ দিন, ৯ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের যতগুলো দেশে চালু আছে মৃত্যুদণ্ড
বিশ্বের যতগুলো দেশে চালু আছে মৃত্যুদণ্ড
নয়া দিগন্ত - ৪ দিন, ২০ ঘণ্টা আগে
বিশ্বের যেসব দেশ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে
বিশ্বের যেসব দেশ মৃত্যুদণ্ড বাতিল করেছে
যুগান্তর - ৪ দিন, ২২ ঘণ্টা আগে
প্রাক-প্রাথমিকে বড় নিয়োগ আসছে
প্রাক-প্রাথমিকে বড় নিয়োগ আসছে
জাগো নিউজ ২৪ - ৪ দিন, ২২ ঘণ্টা আগে
মৃত্যুদণ্ড: বিশ্বের কতগুলো দেশে এখনো চালু আছে
মৃত্যুদণ্ড: বিশ্বের কতগুলো দেশে এখনো চালু আছে
বিবিসি বাংলা - ৪ দিন, ২৩ ঘণ্টা আগে
১৯ নভেম্বর আসছে 'স্বপ্নের ঘর'
১৯ নভেম্বর আসছে 'স্বপ্নের ঘর'
সমকাল - ৫ দিন, ৪ ঘণ্টা আগে