হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ইয়েমেনের এক নাগরিক। ছবি: আলজাজিরা

সৌদি অবরোধে বিশ্বের ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষের মুখে ইয়েমেন

জাতিসংঘ বলছে, যদি অবরোধ তুলে নেওয়া না হয় তবে কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে সবচেয়ে ভয়াাবহ দুর্ভিক্ষ। মারা যাবে লাখ লাখ মানুষ।

হাসান আদিল
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:৪০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৭:০০
প্রকাশিত: ০৯ নভেম্বর ২০১৭, ১৮:৪০ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ০৭:০০


হাসপাতালে কাতরাচ্ছেন ইয়েমেনের এক নাগরিক। ছবি: আলজাজিরা

(প্রিয়.কম) বিমানবন্দরে ‘হুতি বিদ্রোহী’দের ছোড়া মিসাইলের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সৌদি আরব নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনের ওপর যে অবরোধ চাপিয়ে দিয়েছে তাতে ভয়াবহতম দুর্ভিক্ষ দেখা দিতে পারে বলে সতর্ক করেছে জাতিসংঘ। সংস্থাটি বলছে, যদি অবরোধ তুলে নেওয়া না হয় তবে কয়েক দশকের মধ্যে এটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বের সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।

শনিবার রাজধানী রিয়াদের বাদশা খালিদ বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকায় সৌদি আরব। এ হামলার জন্য ‘হুতি বিদ্রোহী’দের পাশাপাশি ইরানকে দোষারোপ করে আসছে দেশটি। এর ফলশ্রুতিতে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট ইয়েমেনে প্রবেশের আকাশ, নৌ ও স্থলপথে অবরোধ করে রেখেছে।

অবরোধের কারণ উল্লেখ করে একটি বিবৃতিও দিয়েছে সৌদি জোট। সেখানে বলা হয়েছে, তেহরান যেন ইয়েমেনে আর অস্ত্র পাঠাতে না পারে সেজন্য এই অবরোধ দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে ইয়েমেনে হুতিদের অস্ত্র দেওয়ার অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছে ইরান।

অবরোধের ছোবলে ইতিমধ্যে দেশটিতে খাদ্য সংকট দেখা দিয়েছে এবং জ্বালানির দাম হয়েছে ঊর্ধ্বমুখী। জাতিসংঘের মানবিক বিষয় সংক্রান্ত আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক লোকক ৮ নভেম্বর বুধবার নিরাপত্তা পরিষদে এই সংক্রান্ত এক ব্রিফিং শেষে মানবিক দিক বিবেচনায় সৌদি জোটের প্রতি অবরোধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি অভিযোগ করেন, অবরোধের কারণে যুদ্ধবিধস্ত ইয়েমেনে দ্রুত সাহায্য পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, ‘কাউন্সিলকে বলেছি ওই অবরোধ না সরলে ইয়েমেনে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হবে। দেশটির লাখ লাখ নাগরিক এই বৃহত্তম দুর্ভিক্ষের শিকার হবে, যা গত কয়েক দশকেও দেখেনি বিশ্ব।’

জাতিসংঘের মতে, বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ লোক দুর্ভিক্ষের ঝুঁকিতে আছে। 

সাহায্য সংস্থা রেড ক্রস বলছে, তাদের ক্লোরিন ট্যাবলেটের একটি চালান অবরোধে আটকে গেছে। কলেরা মহামারির ঝুঁকিতে থাকা অন্তত ৯ লাখ ইয়েমেনির জন্য এই ট্যাবলেট সরবরাহ করা জরুরি।

উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে ইয়েমেন গৃহযুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে সৌদি সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট হস্তক্ষেপ করে। যার ফলশ্রুতিতে পরিস্থিতি ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। এখন পর্যন্ত সৌদি জোটের হামলায় প্রায় ১০ হাজারেও বেশি ইয়েমেনি নাগরিক নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি। যার অধিকাংশিই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়াও সামরিক জোটের আগ্রাসনে গৃহহীন হয়েছেন কয়েক লাখ ইয়েমেনি নাগরিক।

 সূত্র: আল জাজিরা