ফেসবুক নামটা শুনলেই অন্যরকম একটা অনুভূতি আসে নিজের মাজে। কতো স্বপ্ন নিজের অজান্তেই বুনেছি ফেসবুককে নিয়ে। আগে থেকেই একটা কথা বলি অনেক উৎসাহ নিয়ে নিজের মাঝে চাঁপা কষ্টগুলো আপনাদের সাথে শেয়ার করছি কোন পুরুস্কারের আশায় নয় শুধুমাত্র নিজেকে হালকা করার জন্য, দয়া করে আপনারা কেউ ঘটনাকে নিয়ে কোন বাজে উক্তি করবেন না। ঘটনার শুরু ২০০৯ সালে। অবশ্য এর আগে থেকে ফেসবুক চালাই, কিন্ত তেমন ভাবে চালানো হত না । একদিন এক বড় আপুর স্ট্যাটাস এ দেখলাম গ্লরি (glory) নামের একটা আইডি কমেন্ট করেছে । তো আমিও কৌতূহলবশত ওই মেয়েটার আইডিতে ঢুকে বিস্তারিত দেখলাম । কপাল ভাল ওর ফটোগুলো সব পাবলিক প্রাইভেসি মোডে ছিল। এই সুযোগে আমি ওর সব ছবিগুলো এক এক করে দেখে নিলাম । ওর স্ট্যাটাস, ইনফো দেখে ওর পছন্দ-অপছন্দ সম্পর্কে জানলাম । এইবার ওর একটা পছন্দের গানের লিরিক আমি সংগ্রহ করে ওকে টেক্সট করলাম ফেবু'তে। ও উত্তর দিল , এটা তো আমার পছন্দের গান তুমি কিভাবে জানলা ? আমি মজা করেই বললাম "হা।হা আমি সব জানি।" এভাবেই বাড়তে থাকে আমাদের মাঝে একটা ভাল সম্পর্ক । সারাদিন আমরা কে কি করি সব শেয়ার করতাম একে অপরের সাথে । মজার ঘটনা হল যে এতদিনেও আমি ওকে বন্ধু হবার জন্য রিকোয়েস্ট পাঠাই নাই, ও আমাকে পাঠায় নাই। শুধু টেক্সটে কথা হতো। ৫-৬ মাস পর আমরা খুব ভাল বন্ধু। আমি ওকে বললাম যে আমি তোমাকে ফ্রেন্ড হিসেবে অ্যাড করবো। ও বলল, না আমার ভাই দেখলে সমস্যা আছে। আমি বললাম, ঠিক আছে, তোমার কোন প্রবলেম হোক আমি চাই না। ও বলল, আচ্ছা ঠিক আছে তুমি আমার নাম্বারটা নাও! নাম্বার পেয়ে তো আমি মহা খুশি !! যাই হোক, সাথে সাথে কল করলাম। একটা মিষ্টি কণ্ঠ বলল, "ভালো আছো তুমি?" আমি বললাম, "কিভাবে বুঝলা?" ও হেসে উত্তর দিল, "হা।হা আমি সব বুঝি।" অনেক কথা হল ঐদিন । এভাবেই দিনের পর দিন কথা চলতেই থাকে । প্রায় ৩ মাস ফোনে কথা হয় আমাদের। ও আমাকে একদিন বললো, চল আমরা দেখা করি! আমি বললাম, চলো করি। ও বললো, আজকে আমার এক ফ্রেন্ডের বার্থডে; একটা পার্টি আছে ওর বাসায়। তুমি যাবে? অনেক মজা হবে। প্লিজ চল।" আমাদের মাঝে কথা ঠিক হল- ও আমাকে শ্যামলী থেকে পিক-আপ করবে। আমি ওখানেই একটা চায়ের দোকানে বসে চা খাচ্ছিলাম। ওর ফোন আসল। বললো, তুমি কই? আমি বললাম, তুমি কই? ও বলল, দেখ ব্রিজের নিচে একটা আল্লিওন পার্ক করা আছে, ওটাতে আমি আছি। আমি গেলাম আস্তে আস্তে। দেখি ও গাড়ি থেকে বের হয়ে দাড়িয়ে আছে। আমি আমার মাঝে ছিলাম না। ওকে দেখে আমি আমার ভাষা হারিয়ে ফেললাম। অনেক কষ্টে গাড়ি পর্যন্ত গেলাম। শরীরের শেষ শক্তিটুকু দিয়ে বললাম, "হাই! গ্লোরি। " ও বললো, অই তুমিই তাহলে সেই না ? হা। হা। করে চমৎকার করে একটা হাসি দিলো! তারপর বললো, চলো...... আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে। গাড়ীতে ওর সাথে বিস্তারিত কিছু কথা হলও। আমি ওর ফ্রেন্ডের জন্য একটা গিফট আর ওর জন্য একটা গিফট নিয়েছিলাম আগে থেকেই। ওর গিফটটা গাড়িতেই ওকে দিলাম । ও "থ্যাংক ইউ" বলে আরো একটা মিষ্টি হাসি দিলো । কে জানতো তখন হয়তোবা ও এই মিষ্টি হাসি আর কোনদিন আমার জন্য হাসবে না? যাহোক ওর ফ্রেন্ডের বাসায় পৌঁছানোর পর ওর সব ফ্রেন্ড এর সাথে পরিচয় পর্ব শেষ হল। তখন সন্ধ্যা ৭ টা বাজে। কেক কাটা হবে ৮:৩০ মিনিটে। অনেক ছেলেই ওখানে ছিল তার মাজখান থেকে একটা ছেলে এসে আমার সাথে কথা বললও। অনেক কথা হল। আমাকে জিজ্ঞাসা করলো, গ্লরি তোমার কি হয়? আমি বললাম, ও আমার বন্ধু । ছেলেটা বলল, আপনি ওর বন্ধু মানে আমারও বন্ধু । আসলে আমি ওর প্রাক্তন প্রেমিক । কিছু একটার জন্য আমাদের সম্পর্কটা আর টিকলো না!! শুনে তো আমি আকাশ থেকে পরলাম!!! আমি বললাম ... তো আমি আপনার জন্য কি করতে পারি ? ছেলেটা মানে ফাহিম বলল, ভায়া তুমি একটা কিছু করে আমাদের মাঝে আবার সম্পর্কটা করে দাও। আমি বললাম, আজব তো? আমি কি করবো ? আমি ওর নতুন বন্ধু!! আপনি অন্য কাউকে বলেন। ফাহিম বলল, না আমি জানি আপনারা অনেক ভালো বন্ধু । কিছু একটা করতেই হবে বলে অঝরে অশ্রু ধারা বইতে লাগলো ফাহিম এর চোখ থেকে!! আমি কিছু না ভেবে�� বললাম, আচ্ছা আমি দেখি কি করা যায়। আমি ওর সাথে কথা শেষ করে ওদের বান্ধুবীদের থেকে গ্লরিকে আলাদা করে নিয়ে আসলাম এবং কিছু না ভেবেই ফাহিম সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করলাম। ও বলল, দেখ আমি তোমাকে আসলে বাপারটা বলতাম কিন্তু সাহস পাইনি। আমি যদি জানতাম আজকে অই ফাজিলটা আসবে তাহলে তোমাকে নিয়া আসতাম না ! যাই হোক তুমি সব যেহেতু জেনে ফেলেছ, আমি বলি আমি ওকে এক সময় অনেক ভালবাসতাম কিন্তু এখন আর বাসি না। আমি বললাম, ভালো .........। বলে চুপ করে রইলাম। ও আমার গালে হাত দিয়ে বলল, বিশ্বাস কর আমি ওকে আর ভালোবাসি না। তাহলে কাকে বাসো? আমি প্রশ্ন করলাম। ও বলল, তোমাকে বাসি তোমাকে অনেক বাসি অনেক!!!!!!! আমি বললাম, দেখ আমার আসলে কিছু করার নাই, আমি একটা মিডল ক্লাস পরিবার থেকে আসছি; আর তুমি কই আমি কই? তোমার জন্য হয়তোবা ফহিমই ঠিক ছিল। আজকে ফাহিমের জন্য তোমার ভালবাসা শেষ, একদিন আমার জন্যও তোমার ভালবাসা শেষ হয়ে যাবে। ঐদিন আমার কী হবে? ও কান্না করতে করতে চলে গেলো । কেক কাটা শেষ সবাই যার যার মতো মজা করছে। ওখানে একটু পান করার ব্যবস্থাও ছিল, যেহেতু সব হাই-ক্লাস পরিবারের থেকেএসেছে। গ্লরি জানতো আমি বিয়ার টিয়ার খুব অপছন্দ করি। আমি সামান্য খেলাম ওর সামনে। তারপর ফাহিমকে ডেকে গ্লরিকে ডাকলাম। ওদের একটু বুঝালাম, দেখো আবার নতুন করে শুরু করতে পারো কিনা ? এতটুকুই বলছিলাম। আর গ্লরি'র কান্না কে দেখে !! ও বলে, তুমি কই যাও? আমি বললাম, বাসায় । আমি তোমাকে নামায়ে দিয়া আসি প্লিজ। আমি বললাম, না আমি ঠিক আছি যাইতে পারবো। তোমরা মজা করো। বলে আমি সিঁড়ি দিয়ে চোখ ভরা ছল ছল করা জল নিয়ে নেমে আসলাম রাস্তায়। তারপর একটু দূরে অনেকক্ষণ বসে ছিলাম একটা দোকানে, বসে শুধু সিগারেটই টানলাম। তারপর আর কি! ৩৬ নাম্বার বাসে করে বাসায় ফিরলাম। আমার ফেসবুক আই.ডি-টা সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখলাম । সিম কার্ড পরিবর্তন করলাম। সম্পূর্ণ ভাবে বিচ্ছিন্ন হলাম । কারন একটাই - আমার চোখের সামনে এখনও ফাহিমের কান্না ভেসে উঠে। কে জানে হয়তোবা একদিন ফাহিমের মতো আমাকেও কান্না করতে হতো !! যাই হোক গ্লরি'র জন্য একটা দুর্বলতা ছিলও আমার। কিন্তু আমি আমার ভালো বুঝি; আর এটা আমার জীবন। আর সব আমার নিয়মেই চলবে । ঐ আই.ডি-টা আর একদিন চালু করে পুরাপুরি ভাবে বন্ধ করে দিলাম । এখনও ফেবু চালাই। যখনই ফেবুতে বসি ওর কথা মনে পরে। কিন্তু আমি ভালো আছি। আমার মতো করে ভালো আছি। ফেবু'র অসংখ্য ভালো ভালো বন্ধু নিয়ে। "অই গ্লরি!! তুমি কেমন আছ?? ভালো থেকো আমার মতো না; আমার থেকে একটু বেশি ই থাইকো।"