নাইক্ষ্যংছড়ির ইউপি নির্বাচনে নৌকার বিদ্রোহী আওয়ামী লীগ

মানবজমিন প্রকাশিত: ০৫ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ঘুমধুমে একাধিক আর সদর ও সোনাইছড়িতে আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ। ফলে, নির্বাচনী ক্যাম্পগুলোতে সমর্থকদের উৎসবমুখর উপস্থিতি তেমন একটা দেখা মিলছে না। সাধারণ মানুষের মধ্যে তেমন কোনো উৎসাহ, উদ্দীপনা বা আমেজ নেই। যার কারণে ভোটারদের মন গলাতে প্রার্থীদের ঘাম ঝরছে। বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে প্রার্থী ও ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে এই চিত্র পাওয়া গেছে। এদিকে, উপজেলা সদরের একাধিক ব্যবসায়ী জানান- সরকারি কোনো অনুষ্ঠান ছাড়া উপজেলা সদরে নির্বাচন কেন্দ্রিক তেমন মানুষের সমাগম হয় না। যার কারণে চায়ের টেবিলে নির্বাচনী আলোচনা নেই বললেই চলে। তবে কয়েক দিনের মধ্যে এই আমেজ বাড়তে পারে বলে তাদের ধারণা। চাকঢালা এলাকার ভোটার নুরুজ্জামান, নুরুল আলম, আবদুল গফুর জানান- বিগত নির্বাচনসমূহের তুলনায় এবার ইউপি নির্বাচনী প্রচারণায় তেমন কোনো উত্তাপ নেই। স্থানীয় রাজনীতির কৌশলগত কারণে সাধারণ ভোটাররাও আগের মতো প্রকাশ্যে নিজেদের মতপ্রকাশ করতে চান না। জানা গেছে, নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীর প্রতিপক্ষ খোদ আওয়ামী লীগ। এ ২টি ইউনিয়নে বিএনপি বা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের প্রার্থী নেই। ফলে নির্বাচনি কোনো উত্তাপ নেই। এ ২টি ইউপিতে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই চলছে। আর এই কারণে সাধারণ ভোটাররাও মুখ খুলছেন না। নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হচ্ছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান তসলিম ইকবাল চৌধুরী তার প্রতিপক্ষ বিদ্রোহী প্রার্থী উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক নুরুল আবছার ইমন। বিদ্রোহী প্রার্থী যুবলীগ নেতা নুরুল আবছার ইমন হচ্ছেন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যানের আপন খালাতো ভাই। যুবলীগ নেতা নুরুল আবছার ইমন অভিযোগ করে বলেন, তার কর্মী সমর্থকদের নানা ধরনের হুমকি ধমকি দিচ্ছেন প্রতিপক্ষ প্রার্থীর লোকজন। এ বিষয়ে তিনি প্রশাসনকে অভিহিত করেছেন। সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে তিনি বিপুল ভোটে জয়ী হবেন বলে প্রত্যাশা করেন। অভিযোগের বিষয়ে আওয়ামী লীগ প্রার্থী তসলিম ইকবাল চৌধুরী বলেন, তার দলের কোনো কর্মী সমর্থক কাউকে কোনো ধরনের হুমকি-ধমকি দেয়নি। এটি মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। শান্তি উন্নয়নের লক্ষ্যে আগামী ১৪ই অক্টোম্বর  নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে জয় যুক্ত করবেন এলাকার ভোটাররা। অপরদিকে, সোনাইছড়ি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যানিং মার্মা। তার বিপরীতে নৌকার বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি বর্তমান চেয়ারম্যান বাহান মার্মা। তবে ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত এক প্রার্থীকে নিয়ে প্রকাশ্য ও গোপনে তুমুল প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে ভোটের মাঠে। আওয়ামী লীগের অনেক নেতা বিএনপি’র প্রার্থীর পক্ষে গোপনে কাজ করছেন বলে শোনা যাচ্ছে। ঘুমধুম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হয়েছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সহ-সভাপতি একেএম জাহাঙ্গীর আজিজ। ওই ইউনিয়নে তিনজন প্রার্থী থাকলেও মূলত বিএনপি সমর্থিত রশিদ আহমদের ঘোড়া প্রতীকের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে নৌকার। পারিবারিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে এই ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মী গোপনে বিএনপি সমর্থিত প্রার্থীকে সমর্থন দিয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে বিগত পাঁচ বছরে মানুষের সেবা ও ব্যক্তি ইমেজ নিয়ে পুনরায় বিজয়ী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন জাহাঙ্গীর আজিজ। ভোটারদের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, নির্বাচনের এখনো ১১ দিন বাকি থাকলেও নাইক্ষ্যংছড়ি সদর ও সোনাইছড়ি ইউনিয়নে নির্বাচনী সভা সমাবেশ তেমন চোখে পড়ছে না। উপজেলা সদরে প্রার্থীদের পোস্টার দেখা গেলেও নির্বাচনী আমেজ নেই। সদর ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেম্বার নির্বাচিত ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে দ্বিমুখী লড়াই হওয়ার কারণে অনেকটা আমেজ হারিয়েছে এবারের ভোট। ঠিক একইভাবে ৭নং ওয়ার্ডে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেম্বার নির্বাচিত হওয়ায় সেখানেও নির্বাচনী আমেজকে ফিকে করেছে বলে ভোটাররা জানিয়েছেন। নির্বাচনী পরিবেশের বিষয়ে রিটার্নিং অফিসার আবু জাফর ছালেহ বলেন- সাধারণ ভোটাররা যাতে নিরাপদে ভোট দিতে পারেন এবং প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালাতে পারেন সে জন্য সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। আচরণবিধির দিকেও লক্ষ্য রাখা হচ্ছে। এখনো পর্যন্ত আচরণবিধি লঙ্ঘনের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান এই কর্মকর্তা।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত
আরও