পরীক্ষায় জালিয়াতি এমপি বুবলীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল

মানবজমিন প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধীনে অনুষ্ঠিত বিএ পরীক্ষায় জালিয়াতির আশ্রয় নেয়ার অভিযোগে নরসিংদীর সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি ও প্রয়াত পৌর মেয়র লোকমান হোসেনের স্ত্রী তামান্না নুসরাত বুবলীর পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। একইসঙ্গে তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং ঘটনা তদন্তে ৪ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার বাউবি’র ভিসি অধ্যাপক ড. এমএ মান্নান বিশ্ববিদ্যালয়ের এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেন। সভায় বিভিন্ন আঞ্চলিক কেন্দ্রের ডিন, পরিচালক, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকগণ অংশ নেন। এ বিষয়ে ভিসি ড. এমএ মান্নান বলেন, তামান্না নুসরাত নিজে পরীক্ষা না দিয়ে পরপর ৮টি পরীক্ষায় অংশ নেয় তার পক্ষে প্রক্সি পরীক্ষার্থীরা। তবে শেষ দিনের পরীক্ষা দিতে গিয়ে হলে হাতেনাতে ধরা পড়েছেন এক শিক্ষার্থী। ঘটনাটি ধরা পড়ায় এবং এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রাথমিক তদন্ত শেষে পরীক্ষা থেকে তাকে বহিষ্কার করেছে কেন্দ্র কর্র্তৃপক্ষ। একই সঙ্গে জালিয়াতির বিষয়টি আরো তদন্তে কলেজের পক্ষ থেকে তিন সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, গণমাধ্যমে ও নরসিংদী জেলা প্রশাসনের এক পত্রের ভিত্তিতে অবগত হওয়ার পর রোববার বুবলীর বিষয়ে জরুরি সভা ডাকা হয় । সভায় বুবলীর সকল পরীক্ষা ও রেজিস্ট্রেশন বাতিল, তাকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং ঘটনা তদন্তে বাউবির পক্ষে থেকে চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রধান হলেন সামাজিক বিজ্ঞান বিভাগের ডিন অধ্যাপক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- পরীক্ষ নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান উকিল, স্টুডেন্ট সাপোর্ট সার্ভিসেস ডিভিশনের পরিচালক ড. আনিস রহমান, ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের পরিচালক আহমেদ সেলিম। তদন্ত কমিটিকে তিনদিন সময় দেয়া হয়েছে। সভায় জানানো হয়, এ ব্যাপারে বুবলীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা কমিটিতে তোলা হবে এবং পরে তা বোর্ড অব গভর্নেসে তোলা হবে। পরে তার বিরুদ্ধে চূড়ান্ত ব্যবস্থা নেয়া হবে। ভবিষ্যতে বুবলী বাউবি’র কোন প্রোগ্রামে আর ভর্তি হতে পারবেন না। যারা প্রক্সি পরীক্ষা দিয়েছে তাদের পরিচয় প্রাপ্তি সাপেক্ষে আইন-শৃংখলা বাহিনীকে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে। সভায় এ ধরনের কর্ম একটি ঘৃণিত কাজ, গর্হিত কাজ বলে অভিহিত করা হয়। বুবলীর এ ধরনের কাজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট করেছে। এমন কাজ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এক ধরনের ক্ষতিকর আঘাত বলে সভায় উপস্থিতরা মন্তব্য করেন। সভার আলোচনায় আরো বলা হয়, নরসিংদী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ওই পরীক্ষার সমন্বয়ক। পরীক্ষা চলাকালে তিনি কখনও কেন্দ্রে যাননি। অথচ পরীক্ষা চলাকালে তার প্রতিদিনই কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার কথা। কলেজের পক্ষ থেকে পরীক্ষা গ্রহণের ব্যাপারে যথাযথ দায়িত্ব পালন করা হয়নি। কারো প্রবেশপত্র হারিয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কেন্দ্রে জানালে তাকে ডুপ্লিকেট প্রবেশপত্র সরবরাহ করা হয়। কিন্তু জিডি কপি দিয়ে এভাবে পরীক্ষা নেয়া ঠিক হয়নি। তার নিয়মও নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানীয়ভাবে যদি রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করা না হয়, তাহলে কোন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ভবিষ্যতে টিকবে না। সেখানে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণও করা সম্ভব হবে না। একাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে জমা দেয়া হলফনামা অনুযায়ী মহিলা সংরক্ষিত সংসদ সদস্য বুবলী এইচএসসি পাস। তবে নিজের শিক্ষাগত যোগ্যতা বাড়িয়ে নিতে তিনি উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে বিএ কোর্সে ভর্তি হন। আর বিএ পাস করার জন্য তিনি অনিয়মের আশ্রয় নিয়েছেন। তিনি ঢাকায় থাকলেও তার হয়ে নরসিংদীতে বিএ পরীক্ষা দেন প্রক্সি প্রার্থীরা। এ পর্যন্ত আটজন ছাত্রী এমপির হয়ে পরীক্ষা দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
আরও