চট্টগ্রামে অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘট দুর্ভোগে যাত্রীরা

মানবজমিন প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

ভ্রাম্যমাণ আদালতে চালক-মালিকদের সাজার ঘটনায় চট্টগ্রাম মহানগরীতে আকস্মিকভাবে গণপরিবহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হঠাৎ অঘোষিত ধর্মঘটে নগরে গণপরিবহন সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে সাধারণ মানুষ। সোমবার ভোর থেকে চট্টগ্রাম নগরীর ১৩টি রুটে একযোগে বাস, মিনিবাস, হিউম্যান হলার ও টেমেপা চালানো বন্ধ হয়ে যায়। এতে নগরীর মোড়ে মোড়ে সকাল থেকে অফিস-আদালতে যাওয়া কর্মজীবী মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে কাজে যোগদান করতে পারেনি সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষেরা। সরজমিন দেখা যায়, নগরের সবরুটে গণপরিবহন নেই। কর্মজীবীদের গণপরিবহনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা মোড়ে মোড়ে অপেক্ষারত। চট্টগ্রাম নগরীর সড়কগুলোতে মোড়ে মোড়ে গণপরিবহনের জন্য অপেক্ষারত মানুষের জটলা। টেমেপা বা কোন ছোট গাড়ি আসলে তার উপর হামলে পড়েন যাত্রীরা।অক্সিজেন মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, ৩ নম্বর রুটের কোচ বাস চলাচল করছেনা। শতশত মানুষ গণপরিবহনে জন্য অপেক্ষা করছে। সিএনজি অটো রিকশা ও টেমেপা করে মানুষ যাতায়াত করছে। তারা এই সুযোগে দ্বিগুণ, তিনগুণ ভাড়া আদায় করেছে। অনেকে পিকআপ ও রিকশায় করেও অফিসে যাচ্ছেন।মুরাদপুর মোড়ে দেখা যায়, গণপরিহনের জন্য দাঁড়িয়ে আছে হাজারো মানুষ। সড়কে কোন গণপরিবহন নেই। ছোট যান সিএনজি অটোরিকশা, টেমেপা, পিকআপ, রাইডিং শেয়ার পাঠাও, উবারের মোটরসাইকেল ব্যবহার করে মানুষ গন্তব্যে যাচ্ছেন। অনেকে গাড়ি না পেয়ে হাঁটাও শুরু করছেন। সবচেয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী ও রোগীরা। নগরীর ২নং গেইট মোড়ে ট্রাফিকের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিদর্শক আকরাম বলেন, সড়কে বাস, মিনি বাসগুলো নেই। সাধারণ মানুষ রিকশা বা ছোট গাড়িতে চলাচল করছে। কিন্তু এর মধ্যে রিকশার ড্রাইভারগুলোকে সড়ক থেকে সরাতেই ঘাম ঝরছে।অক্সিজেন মোড়ে ব্যবসায়ী আনোয়ার হোসেন ক্ষোভের সাথে বলেন, এভাবে মানুষকে জিম্মি করে দাবি আদায় কখনো কাম্য নয়। সকালে অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়ে দেখলাম সড়কে কোন গণপরিবহন নেই। আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। এর একটি স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। সকালে বোয়ালখালী থেকে নগরীতে আসা প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র অভি নন্দী বলেন, কালুরঘাট সেতু পার হয়ে কাপ্তাই রাস্তার মাথা পর্যন্ত আসার পর আর কোনো গাড়ি পাচ্ছিলাম না। শতশত মানুষ গাড়ির জন্য দাঁড়িয়ে আছে। কোনোমতে একটি টেমেপা এলে অনেকে সেটাকে ঘিরে ধরছে। পরে রিকশায় করে বহদ্দারহাট আসি। সেখান থেকে আরেক রিকশায় জিইসি মোড় গিয়ে ক্যামপাসে আসি।টাইগারপাস এলাকায় মহসিন কলেজের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ হান্নান উদ্দিন বলেন, আধা ঘণ্টা ধরে টেমেপার জন্য দাঁড়িয়ে আছি। কোন একটি টেমেপা আসলেও বসার জন্য সিট পাচ্ছি না। দাঁড়িয়েও গন্তব্যে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছি না। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (ট্রাফিক) তারেক আহমেদ বলেন, বাস মালিক ও শ্রমিককে কারাদন্ড দিয়েছেন বিআরটিএর ম্যাজিস্ট্রেট। এজন্য মালিকরা রাস্তায় গাড়ি না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে শুনেছি। যদিও এটি বিআরটিএর বিষয়, কিন্তু আমরা গণপরিবহনের মালিকদের অনুরোধ করেছিলাম তারা যাতে রাস্তা থেকে গাড়ি উঠিয়ে না নেন। কিন্তু ওনারা গাড়ি চালাচ্ছেন না।জানা যায়, রোববার দুপুরে নগরীর বহদ্দারহাটে ফিটনেসবিহীন বাসের বিরুদ্ধে অভিযান চালান বিআরটিএ ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল হক। এসময় ১০ নম্বর রুটের একটি বাসের মালিক মনির হোসেনকে ১৫ দিন, চালক শামীম উদ্দিন ও হেলপার মোহাম্মদ আলমগীরকে একমাস করে কারাদন্ড দেওয়া হয়।এ ঘটনার পর ঘোষণা না দিয়ে আকস্মিক গণপরিবহন চালানো বন্ধ কয়ে দেওয়ায় সোমবার সকাল থেকে দুর্ভোগে পড়ে মানুষ। বিশেষ করে সকালে কর্মস্থলমুখী মানুষের ভোগান্তি চরমে ওঠে। গণপরিবহন না থাকায় রিকশা-অটোরিকশার বাড়তি ভাড়াও গুণতে হয়েছে যাত্রীদের।প্রসঙ্গত, নগরের গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে ১০ অক্টোবর থেকে ট্রাফিক বিভাগ ১৩ রুটের ১০ ও ৬ নম্বর রুটে বিশেষ অভিযান শুরু করে। পরে সপ্তাহ প্রতি ছাত্রদের ট্রাফিক ব্যবস্থপনার সাথে সমপৃক্ত করে। বিআরটিএ ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে নিয়মিত ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ, জরিমানা করছে। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পরিবহন মালিক গ্রুপের মহাসচিব বেলায়েত হোসেন এ প্রসঙ্গে বলেন, সাংগঠনিকভাবে আমরা কোনো ধর্মঘট ঘোষণা করিনি। কিন্তু রোববার আমাদের একজন মালিক ও দুই জন শ্রমিককে সাজা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই ভীতির সঞ্চার হয়েছে। মালিকরা রাস্তায় গাড়ি নামাননি। সোমবার আদালতে তাদের জামিন শুনানি আছে। বিকেলের দিকে আমরা একটা সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারবো বলে আশা করছি।চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মাহবুবুর রহমান বলেন, গণপরিবহণের মালিকদের সাথে এখনো আমাদের কোন বৈঠক বা আলাপ আলোচনা হয়নি। তারা কিজন্য ধর্মঘট ডেকেছেন তাও আমাদের জানা নেই। আমি আশা করি তারা দ্রুত ধর্মঘট প্রত্যাহার করবেন।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
আরও