শ্রীপুরে খাস জায়গা দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণ

মানবজমিন প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

গাজীপুরের শ্রীপুরের রাজাবাড়ী গ্রামের বাসিন্দা ফজলুল হক মৃধা। মুরগির ব্যবসার সৌজন্যে এখন রাজধানী ঢাকার তেজগাঁও থানা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। ক্ষমতাসীন দলের রাজনীতির সুবাদে নিজের ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে শ্রীপুর পৌর শহরে সরকারি ১নং খাস খতিয়ানের জমি দখল করে প্রশাসনের চোখের সামনেই বহুতল ভবন নির্মাণ করছেন। এদিকে পৌর এলাকার কেওয়া বাজারে একটি বহুতল ভবনের ৫ তলার অনুমোদন নিয়ে ৮ তলায় পরিণত করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এদিকে সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণ ও অনুমোদনহীনভাবে ভবনের অংশ বৃদ্ধি করায় শ্রীপুর পৌর প্রশাসন উভয় ভবন উচ্ছেদের জন্য গাজীপুর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেছেন। শ্রীপুর পৌর কর্তৃপক্ষ ও ভূমি অফিসের তথ্যমতে, ফজলুল হক মৃধার বাড়ি শ্রীপুরের রাজাবাড়ী ইউনিয়নের নার্সারি মাঠ এলাকায়, তার বাবার নাম শামসুদ্দিন মৃধা। শ্রীপুর পৌর শহরে পোস্ট অফিস সংলগ্ন শ্রীপুর মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ৪৩৫৯,৪৩৬০,৪৩৬১ দাগের জমি দখল করে অবৈধভাবে নির্মাণ করেছে একটি বহুতল ভবন, ইতিমধ্যেই ভবনের পাঁচতলার নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এ ছাড়াও কেওয়া বাজারে পৌরসভা হতে ৫ তলার অনুমোদন নিয়ে ভবনটি ৮ তলায় পরিণত করেছেন ফজলুল হক মৃধা। একটি ভবন সরকারি জমিতে নির্মাণ করা অপরটি ঝুঁকিপূর্ণ বিধায় উভয়টি উচ্ছেদের জন্য গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বরাবর পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।স্থানীয়রা জানান, মুরগির ব্যবসার কারণে ফজলুল হক মৃধা এখন কোটি কোটি টাকার মালিক। শুধু এসব ভবন করেই ক্ষান্ত হননি। একসময়ে দিন আনতো পানতা ফুরালেও এখন শ্রীপুর ও গাজীপুর জুড়েই উঠছে তার বহুতল ভবন। বাণিজ্যিক এলাকা মাওনা চৌরাস্তায় কলাবাগান বলে পরিচিত স্থানে তার রয়েছে ৫ তলা বিশিষ্ট রাজকীয় বাড়ি, এ ছাড়াও এখানেই তার জমিতে আরো রয়েছে শতাধিক কক্ষ। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক সংলগ্ন হোতাপাড়া এলাকায় সংরক্ষিত বনের পাশেই তার বহুতল ভবনের কাজ চলছে। শ্রীপুর পৌর শহরের কেওয়া বাজারেও রয়েছে মার্কেট ও শতাধিক কক্ষ। চোখের সামনে দিন বদলে যাওয়া ফজলুল হক এখন সবার কাছে বিস্ময়ের এক ব্যক্তি।শ্রীপুর পৌরসভার মেয়র আনিছুর রহমান জানান, সরকারি খাস জমি দখল করে ভবন তৈরির বিষয়টি দেখার কথা ছিল স্থানীয় প্রশাসনের। কিন্তু তারা তা দেখেনি। আমরাও তাদের অবহিত করেছি। অবৈধ কাজ বন্ধ রাখতে একাধিকবার নোটিশ দিয়েছি তারপরও এই ব্যক্তি কাজ করেই যাচ্ছেন। এদিকে গত মে মাসে ভবন উচ্ছেদের জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদন করলেও তারা অদ্যাবদি কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।সরকারি জমিতে ভবন নির্মাণের বিষয়ে ফজলুর হকের দাবি, তিনি কোনো অনিয়ম করেননি। তার সকল কাগজপত্র রয়েছে। তিনি এসব জমি কিনে ভবন তৈরি করেছেন। সরকারি কি স্বার্থ জড়িত আছে তা জানা নেই। তবে এসব ভবন নির্মাণের অর্থের উৎস কোথায় এর জবাবে তিনি জানান, তিনি মুরগির আড়তদার। এ ছাড়াও ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েই এসব সম্পদ তৈরি করেছেন। এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ মশিউর রহমান জানান, সরকারি জমিতে অবৈধভাবে ভবন নির্মাণের বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তা উচ্ছেদের জন্য প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। শিগগিরই সরকারি জমি পুনরুদ্ধার করা হবে।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
আরও