চলচ্চিত্র নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে নতুন নীতিমালা

মানবজমিন প্রকাশিত: ২২ অক্টোবর ২০১৯, ০০:০০

দীর্ঘ সাত বছর পর চলচ্চিত্রের শীর্ষ সংগঠনখ্যাত প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচন কিছুদিন আগে সম্পন্ন হয়। এরপর এই সমিতির নবনির্বাচিত কমিটি গত ২৪শে আগস্ট পরিচালক সমিতির সঙ্গে এক বৈঠক করেন। এই সভায় বর্তমান চলচ্চিত্র নির্মাণে যে সকল প্রতিবন্ধকতা ও অনিয়ম আছে তা চিহ্নিত করে এবং চলচ্চিত্র নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার জন্য একটি নীতিমালা প্রণয়ন করার জন্য একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। সেই বিষয় নিয়ে গতকাল দুপুরে এফডিসির জহির রায়হান ভিআইপি প্রজেকশন মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু, সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলাম, চিত্রগ্রাহক সংস্থার সভাপতি আবদুল লতিফ বাচ্চু, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান গুলজার, মহাসচিব বদিউল আলম খোকন, প্রযোজক পরিবেশক সমিতির ‘চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত নীতিমালা প্রণয়ন কমিটির আহ্বায়ক কামাল মো. কিবরিয়া লিপু ও সদস্য আবু মুসা দেবু। এ ছাড়া প্রযোজক, পরিচালকসহ অন্য সংশ্লিষ্ট সংগঠনের অনেকেই এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন। প্রযোজক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, চলচ্চিত্র নির্মাণে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি একটি প্রোডাকশনের অতিরিক্ত খরচ কমানোর জন্য এই নীতিমালা গঠন করা হয়েছে। এটি সকল শিল্পী, পরিচালক এমনকি প্রযোজকের জন্যও সঠিকভাবে প্রয়োগ করা হবে। প্রযোজক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলম বলেন, এই কমিটিতে কামাল মো. কিবরিয়া লিপুকে আহ্বায়ক করে ১০ জনের একটি সদস্য কমিটি গঠন করা হয়েছে। এখানে সদস্য হিসেবে রয়েছেন আব্দুল লতিফ বাচ্চু, বদিউল আলম খোকন, আবু মুসা দেবু, মো. ইকবাল, সোহানুর রহমান সোহান, এ.জে. রানা. মেহেদী হাসান সিদ্দিকী মনির, রশিদুল আমিন হলি, শাহীন খান (শাহীন সুমন) ও কবিরুল ইসলাম রানা। ৯টি নীতিমালার মধ্যে রয়েছে, সকাল ১০টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত শুটিং টাইম নির্ধারণ, কোনো শিল্পী বা কুশলী যদি সময়মত না আসেন, তার জন্য শুটিং শুরু করা যদি না যায় তাহলে তার দায়-দায়িত্ব বা ক্ষতিপূরণ তাকেই বহন করতে হবে। এ ছাড়া কুশলী ও শিল্পীদের অবশ্যই প্রযোজকের সঙ্গে চুক্তিপত্র স্বাক্ষর করতে হবে। সেখানে প্রথম কিস্তিতে ২৫ ভাগ এবং পরবর্তীতে কাজের অগ্রগতির ভিত্তিতে ৭৫ ভাগ তিন কিস্তিতে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ থাকবে। এ ছাড়া এক লাখ টাকার উপরে যাদের সম্মানী তারা কোনো প্রকার কনভেন্স (যাতায়াত ব্যবস্থা) পাবেন না এবং আউটডোরে অবস্থানকালীন শুটিং এর সহকারী পরিচালক ও সহকারী চিত্রগ্রাহকরা কনভেন্স এর অর্ধেক হাত খরচ বাবদ পাবেন। আর ড্রেস নির্মাণের জন্য কোনো শিল্পীকে টাকা প্রদান করা হবে না। গল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী শিল্পীদের নিজের ড্রেস প্রোডাকশন থেকে তৈরি করে দেয়া হবে। এছাড়া ছবির প্রমোশনের জন্য প্রধান শিল্পীদের ছবি মুক্তির পূর্বে ৫ দিন শিডিউল দেয়াসহ বেশকিছু বিষয় এই নীতিমালায় রয়েছে। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণ সংক্রান্ত এসব নীতিমালা যথাযথভাবে পালন হচ্ছে কি-না তা পর্যবেক্ষণের জন্য একটি মনিটরিং কমিটিও করা হয়েছে। প্রযোজক পরিবেশক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সামসুল আলমকে এখানে আহ্বায়ক এবং আবদুল লতিফ বাচ্চু, বদিউল আলম খোকন, জায়েদ খান, আবু মুসা দেবু, সোহানুর রহমান সোহান, মো. ইকবাল, আলিম উল্ল্যাহ খোকন, কবিরুল ইসলাম রানা, আসাদুজ্জামান মজনু ও সুব্রতকে সদস্য করা হয়েছে। আগামী মাসের ১ তারিখ থেকে এই নীতিমালা কার্যকর হবে। আর চলচ্চিত্র নির্মাণের এই নতুন নীতিমালা যদি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হয় তবে প্রতিটি চলচ্চিত্র থেকে কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা ব্যয় কমে যাবে বলেও ধারণা করেন প্রযোজকরা।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
আরও

আজ ‘শেষ মুখোশ’

৪ ঘণ্টা, ২৭ মিনিট আগে