দাবি বাস্তবায়ন না হলে ক্লাসে ফিরছেন না বুয়েট শিক্ষার্থীরা

মানবজমিন প্রকাশিত: ১৫ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

চার্জশিটভুক্ত আসামিদের স্থায়ী বহিষ্কার, ইতোপূর্বে ঘটা র‌্যাগিংয়ের ঘটনায় সুষ্ঠু বিচার ও র‌্যাগিং মাত্রা অনুযায়ী শাস্তির নীতিমালা করে অর্ডিনেন্সে যুক্ত করাসহ তিন দফা দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে অংশ না নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) শিক্ষার্থীরা। গতকাল বিকেলে বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন আন্দোলরত শিক্ষার্থীরা। এর আগে দুপুরে আরেক সংবাদ সম্মেলনে নিরাপদ ক্যাম্পাস তৈরি না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে অংশ নেবেন না বলে জানিয়েছেন তারা। গত ৬ই অক্টোবর রাতে বুয়েটের ইলেক্ট্রিক্যাল এন্ড ইলেক্ট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এরপর থেকে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন করে লাগাতার আন্দোলনে রয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গত বুধবার ঢাকার মূখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবরার হত্যা মামলায় ২৫ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দিয়েছে পুলিশ। এরপর নিজেদের করণীয় ঠিক করতে গতকাল ক্যাম্পাসে বৈঠকে করে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। বিকেলে শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল ইউজিসির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তবে বৈঠকে কী আলোচনা হয়েছে সেগুলো সন্ধ্যা পর্যন্ত জানাননি তারা। সংবাদ সম্মেলনে তিনটি সুনির্দিষ্ট দাবি বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত ক্লাসে অংশ নেবেন না বলে জানান আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তবে তারা টার্ম পরীক্ষায় অংশ নেবেন। তিনটি দাবি লিখিতভাবে শিক্ষার্থীরা আগেই বুয়েট প্রশাসনকে দিয়েছিলেন। তিনটি দাবি হলো- চার্জশিটের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা; আহসান উল্লাহ, তিতুমীর ও সোহরাওয়ার্দী হলের র‌্যাগের ঘটনায় অভিযুক্তদের অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী শাস্তি দেয়া এবং সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি ও র‌্যাগের জন্য সুস্পষ্টভাবে বিভিন্ন ধাপে ভাগ করে শাস্তির নীতিমালা করে বুয়েটের একাডেমিক কাউন্সিল ও সিন্ডিকেট থেকে অনুমোদন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্ডিন্যান্সে অন্তর্ভুক্ত করা। সংবাদ সম্মেলনে বুয়েটের কম্পিউটার সাইন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৬তম ব্যাচের শিক্ষার্থী অনিরুদ্ধ গাঙ্গুলি জানান, বুয়েটের টার্ম ফাইনাল পরীক্ষার বিষয়ে গত ২রা নভেম্বর বুয়েটের ভিসি ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনা করে তিনটি দাবি জানিয়েছিলেন তারা। এর মধ্যে দুটি দাবি বাস্তবায়ন হলে পরীক্ষার তারিখ নির্ধারণে সম্মত এবং তৃতীয় দাবি বাস্তবায়ন করা হলে টার্ম ফাইনাল পরীক্ষায় বসার শর্ত জুড়ে দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। তিনি বলেন, গত ২রা নভেম্বরের আলোচনায় বুয়েট প্রশাসন পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে দুটি দাবি বাস্তবায়ন করার আশ্বাস দেন। কিন্তু দুই সপ্তাহের মধ্যেও দাবিগুলো বাস্তবায়নে প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপ না দেখায় হতাশা ব্যক্ত করেন শিক্ষার্থীরা। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের গাফিলতি রয়েছে বলেও দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
আরও