চৌদ্দগ্রামে মিজানের ষোল আনা রাজত্ব

মানবজমিন প্রকাশিত: ১৮ নভেম্বর ২০১৯, ০০:০০

ছিল একটি ভাঙা মাটির ঘর। বাবা ছিলেন সৎ রাজনীতিবিদ। নিজের সকল জমিজমা বিক্রি করে, মানুষের জন্য করেছেন রাজনীতি। তাই নিজের বাড়ি ঘরের প্রতি নজর ছিল না তার। চৌদ্দগ্রামে সেই প্রশংসা সবার মুখে মুখে। এখনো তিনি চৌদ্দগ্রাম পৌরসভা আওয়ামী লীগের সভাপতি। সেই সৎ, আদর্শ বাবার ছেলে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান। বাবার আদর্শের  ছিটেফোঁটাও নেই তার মাঝে। দুই মেয়াদে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম  পৌরসভার মেয়রের দায়িত্ব পালনকালে তিনি বিপুল বিত্তের মালিক হয়েছেন। নিজের সেই মাটির ঘর ভেঙে করেছেন আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি। কুমিল্লা শহর ও ঢাকায়ও তার বাড়ির তথ্য পাওয়া গেছে। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর সাধারণ জনগণ তার কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পেলেও উল্টো চাঁদা দিয়ে চলতে হয় তাদের। বাসস্ট্যান্ড থেকে শুরু করে বাড়ি নির্মাণ পর্যন্ত, কোনো জায়গায় বাদ যায়নি তার চাঁদাবাজি। পৌরসভা এলাকায় জমি দখল, মাদক সাম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, আওয়ামী লীগের কর্মীদের নির্যাতনসহ হেন কাজ নেই যা তিনি করেন না। যদিও মেয়র দাবি করেছেন তিনি যা অর্জন করেছেন তার সবই রাজনীতির মাধ্যমে। এর বাইরে অন্য কোনো পেশা বা আয়ের উৎস নেই তার। কুমিল্লা জেলার সর্বদক্ষিণে সীমান্ত  ঘেঁষে  চৌদ্দগ্রাম  পৌরসভাটির অবস্থান। এই পৌরসভায় ২০১০ সালে তিনি প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন। এরপর আর তাকে  পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের গল্পটা শুধু মানুষকে শোষণের। ২০১৫ সালে দ্বিতীয়বারের মতো নির্বাচিত হন। মেয়র নির্বাচিত হওয়ার আগে রিডো কো-অপারেটিভ একটি সংস্থার চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেছেন মিজান। এই সংস্থাটির মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রায়  চার কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। মাসিক ভালো অঙ্কের সুদ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে তার প্রতিষ্ঠান টাকা নিয়ে আর ফেরত দেননি। পরে তিনি মেয়র হয়ে গেলে কিছু মানুষকে নামমাত্র টাকা পরিশোধ করে আর কোনো টাকা ফেরত দেননি। কিন্তু মেয়রের ভয়ে কারো কোনো অভিযোগ নেই। মেয়র হওয়ার পর তার অপকর্মের শুরুটা এখান থেকেই। এরপর একের পর এক অপকর্মের পাহাড় গড়েছেন তিনি। অভিযোগ রয়েছে, মেয়র নির্বাচিত হওয়ার প্রথম পাঁচবছর তিনি সরাসরি মাদক কারবারিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। কোনো মাদক কারবারি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়লে করতেন তদবির। এভাবে তদবির করে একের পর এক মাদক ব্যবসায়ীদের ছাড়িয়ে নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েন তিনি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতা বলেন, চৌদ্দগ্রাম সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে মাদক কারবারিদের আখড়ায় পরিণত হয়েছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে শেল্টার দিয়ে আসছেন মেয়র। অভিযোগ রয়েছে, পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর সাইফুল ইসলাম শাহিন ও ৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কাজী বাবুলকে দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ  রক্ষা করেন। মিজানের নিজ গ্রাম গোমারবাড়ী সীমান্তঘেঁষা হওয়ায় ওই এলাকার মাদক ব্যবসায়ীদের সঙ্গে রয়েছে তার বিশেষ সখ্য। মাদকবিরোধী অভিযানেও এমন কয়েকজন নিহত হয়েছেন। এদিকে পৌরসভা এলাকায় জমি দখলের এন্তার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে, শহরের  ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের পাশে বিএনপি’র কার্যালয়ের পেছনে ২০ শতকের একটি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জানা যায়, বেশ কয়েকজনের যৌথ মালিকানার জমিটি তিনি দখল করে  রেখেছেন। ওই জমি মালিকদের একজন নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, জমিটি মেয়র নয়ছয় করে নিয়েছেন। আমাদেরকে মেয়র ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে জমিটি দখল নিয়েছেন। জমিটি নিয়ে হাইকোর্টে মামলা চলছে। এদিকে সদরের বিলুপ্ত ইউনিয়ন কার্যালয়ের পাশে ২২ শতকের একটি জমি পার্টি অফিসের নামে দখল নিয়ে পাঁচটি দোকান করে ভাড়া দিয়ে রেখেছেন তিনি। যাদের কাছ থেকে জামানতস্বরূপ পাঁচ লাখ টাকা করে নিয়েছেন। মাসে ভাড়া তো আছেই। রিপন, জাহাঙ্গীর আলম মাসুদ, কাউন্সিলর আব্দুল হালিম,  ইদ্রিস মিয়াজী, কাউন্সিলর মইনুল ইসলাম শাহিন তাদের নিয়ন্ত্রণেই দখল হয়েছে জায়গাটি। চৌদ্দগ্রাম বাজারস্থ ধোয়াপট্টি রোড থেকে সাধারণ হকারদের তুলে দিয়ে সেমিপাকা ৯টি দোকান করেছেন তিনি। যেখানে ১৩ লাখ টাকা করে পজিশন বিক্রি করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়াটি দেখভাল করেছেন হালিম কাউন্সিলর।  মসজিদ রোডে আরো একটি জমি দখলের অভিযোগ রয়েছে মেয়রের বিরুদ্ধে। এই  রোডে স্কাইল্যাব ভবন হিসেবে পরিচিত। ভবনটি দু’তলাবিশিষ্ট। ভবনটি তৈরি করে তিনি বিক্রি করে দিয়েছেন। এদিকে, চৌদ্দগ্রাম সরকারি হাসপাতালের পাশে সরকারি নালার ওপর পাঁচটি দোকান করেছেন তার লোকজন। সরজমিন গিয়েও সেখানে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।  অভিযোগ রয়েছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নতুন ও পুরাতন সড়কের মাঝে বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালের পাশে সরকারি জমি দখল করে নয়টি দোকান করা হয়েছে বাবুল কাউন্সিলরের মাধ্যমে। পৌরসভায় ওয়ালটনের শোরুম থেকে যাত্রী ছাউনি পর্যন্ত সরকারি জায়গায় ১৫টি দোকান করে বিক্রি করে দিয়েছে মেয়রের লোকজন। চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার স্ট্যান্ড থেকেও প্রতিদিন করে চাঁদা তোলা হয় লাখ লাখ টাকা। জানা যায়, স্ট্যান্ডের ৮০০ সিএনজি থেকে প্রতিদিন ৫০ টাকা চাঁদা তোলা হয়। এর পর পৌরকর দেয়ার নামে নেয়া হয় আরো দশ টাকা। এদিকে, পুলিশের দোহাই দিয়ে প্রতিমাসে আরো প্রত্যেকটি সিএনজি থেকে   তোলা হয় ৫০০ টাকা করে। এ ছাড়া প্রতিদিন বিভিন্ন রোডের ২৫০টি বাস থেকে তোলা হয় ১২০ টাকা করে। কাউন্সিলর হালিমের ছোট ভাই মোশারফ হোসেনের নেতৃত্বে ছাত্রলীগের নাম ভাঙিয়ে এই চাঁদাবাজি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এই টাকার একটি বড় অংশ যায় মেয়রের পকেটে। চাঁদা যে শুধু বাসস্ট্যান্ডে হচ্ছে তা নয়, পৌরসভার সব ধরনের টেন্ডারে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে হয় মেয়রকে। যেকোনো টেন্ডারের ৮ পার্সেন্ট পান মেয়র নিজেই। শুধু তাই নয়, যেসব ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ করে তার একটি লভাংশও দিতে হয় তাকে। এদিকে, আলকড়া ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি জামালকে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তারই ঘনিষ্ঠ একই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাচ্চুর বিরুদ্ধে। এই হত্যাকাণ্ডটি ঘটার পর তাকে শেল্টার দেয়ার অভিযোগ আছে মেয়রের বিরুদ্ধে। সর্বশেষ মেয়র নির্বাচনেও মিজানের পক্ষে অস্ত্রধারী ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ছিল বাচ্চু। মেয়রের শেল্টারে কাউন্সিলর হালিমের অত্যাচার থেকে রেহাই পাননি প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতা হাজী আব্দুল জলিল জুলো। অভিযোগ রয়েছে, ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে ওই প্রবীণ আওয়ামী লীগ নেতার জমি দখল করতে গিয়েছিলেন হালিম। এতে বাধা দিলে প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতার পরিবারের ওপর হামলা চালান তিনি। আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল জলিল জুলো বলেন, জমির সকল কাগজপত্র আমার কাছে আছে। অথচ হালিম বলছে, এটা তাদের। এটা কেমন বিচার ভাই? আমি তাদের বাধা দিতে গেলে আমার ওপর, আমার পরিবারের ওপর যে পরিমাণ অত্যাচার করেছে তা বলার মতো না। জমিসংক্রান্ত ব্যাপার নিয়ে হালিমের হাতে আরো নির্যাতনের শিকার হয়েছে পূর্ব সান্দিসকড়া মুন্সিবাড়ির মুন্সি জামালসহ আরো অনেকে। এই বিষয়ে কথা বলতে চাইলে কাউন্সিলর আব্দুল হালিমের সঙ্গে  যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, তিনি ও তার ছোট ভাই মোশারফ গাঢাকা দিয়েছেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, পৌরসভা থেকে বাড়ি নির্মাণের অনুমতির জন্য গেলে নির্দিষ্ট ফি- এর বাইরে আরো দুই-তিন লাখ টাকা বেশি দিতে হয় মেয়রকে। শুধু তাই নয়, অর্থের বিনিময়ে বিল্ডিং কোড না মেনে বিল্ডিং  তৈরির অনুমতির অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। জনশ্রুতি রয়েছে, পৌরসভার কোনো কাজই হয় না টাকা ছাড়া। সব কাজে সাধারণ জনগণকে খরচ করতে হয় অতিরিক্ত অর্থ। এদিকে আরো খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মেয়রের প্রশ্রয়ে তার ভাইরাও লাগাম ছাড়া। অভিযোগ রয়েছে, মেয়র হওয়ার পর তার ভাইরাও অল্প ক’দিনের মধ্যে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছে পরিণত হয়েছেন। মেয়রের এক ভাই সোহেল চৌদ্দগ্রাম বাজারে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণ ট্রেড নামে রড-সিমেন্টের একটি দোকান ও হার্ডওয়্যার এবং রংয়ের দোকান করেছেন। দখলকৃত জায়গার পাশেই আরো দুটি দোকানে বাবুল কাউন্সিলর নিজেই ব্যবসা করে যাচ্ছেন। এলাকার সকল নির্মাণ ও উন্নয়ন কাজের সকল ধরনের নির্মাণ সামগ্রী তাদের এই দোকান থেকে কিনতে বাধ্য করা হয় বলে আলোচনা রয়েছে। তার আরেক ছোট ভাই ঝুমনের নামে চৌদ্দগ্রাম ও মুন্সিরহাট খিরনশাল বাজারের একটি ব্যাংকে প্রায় দশ কোটি টাকার এফডিআর থাকার অভিযোগ রয়েছে। নির্মাণ ট্রেড সেন্টারের মালিক  মেয়রের ছোট ভাই সোহেল বলেন, এই দোকান তো বাবুল কাউন্সিলরের। আমরা তো দোকান ভাড়া নিয়েছি। তবে আমি যতটুকু জানি সরকারি কিছু জায়গা হয়তো এখানে আছে, বাকিটা কাউন্সিলরের পৈতৃক সম্পত্তি। নির্মাণ সামগ্রী জোর করে কেনানোর ব্যাপারে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রমাণ চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় কেউ দেখাতে পারবে না। ৮ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কাজী বাবুল বলেন, ট্রেড নির্মাণ সেন্টার যে দোকানটার কথা বলছেন সেটা আমার পৈতৃক সম্পত্তি। এখানে কোনো সরকারি জায়গা নেই। এই প্রতিবেদক কয়েকটি জায়গা উল্লেখ করে দখলের কথা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি কোনো জায়গা দখল করি না। মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, মেয়র যদি মাদক ব্যবসার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকে, তাহলে আমিও আছি। মেয়র না থাকলে আমিও নেই। এদিকে মেয়র মিজানুর রহমান চৌদ্দগ্রাম পৌরসভায় ওকে টাওয়ারে প্রাইম হসপিটাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার নামে একটি হাসপাতালের মালিক। এই হাসপাতালে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের অফিস টাইমে জোর করে বসানোর অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এই ঘটনার সত্যতা জানতে সেখানে গিয়ে কথা হয় অভ্যর্থনা বিভাগের একজনের সঙ্গে। তিনি বলেন, উপজেলায় সরকারি ডাক্তাররা সব সময় বসেন না। তবে  কোনো বিশেষ ডাক পড়লে যেকোনো সময় এখানে এসে চিকিৎসা দেন তারা। এই হাসপাতালের নিচে তার ছোট ভাইদের একটি ফার্মেসি রয়েছে। হসপিটালের রোগীদের এই ফার্মেসি থেকে ওষুধ নিতেও বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে হাসপাতালটির বিরুদ্ধে। ভাঙা মাটির ঘরের বাসিন্দা মিজানের রয়েছে অঢেল সম্পত্তি। জানা যায়, কুমিল্লা শহরের চর্থায় মোটা দাগের একটি প্লট রয়েছে তার। সেখানে হাইরাইজ ভবন নির্মাণ করার পরিকল্পনা রয়েছে। শুধু তাই নয়, রাজধানীর ধানমণ্ডিসহ বেশ কয়েকটি জায়গায় তার ফ্ল্যাট থাকার খবর পাওয়া যায়। তবে জানা যায়, তার স্ত্রী দুই সন্তান নিয়ে ধানমণ্ডি ফ্ল্যাটে থাকেন। আর মেয়র থাকেন চৌদ্দগ্রামেই। এখানেই থেমে থাকেনি তার সম্পদ। তার বিরুদ্ধে লন্ডনেও টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পান্না নামের এক বোন লন্ডন থাকার সুবাদে সুবিধাজনক ভাবে তিনি লন্ডনে এসব টাকা পাচার করেছেন এবং তার শ্বশুরের অ্যাকাউন্ট, ছোট বোন জামাই কাদেরের অ্যাকাউন্টেও টাকা রাখার কথা জনশ্রুতি রয়েছে। কক্সবাজারেও একটি বিলাসবহুল হোটেলের মালিক বলে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া যায়। এদিকে কালির বাজার খালেক ফিলিং স্টেশনের পাশে মহাসড়কের সঙ্গে ৬৮ লাখ টাকার ১৬ শতক জায়গা, দেড় কোটি টাকা মূল্যের ১০০ শতক জায়গা আছে তার রিডো  কো-অপারেটিভের নামে। অনুসন্ধানে জানা যায়, তার বিরুদ্ধে স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বিভিন্ন সময় নামে-বেনামে দুদকে অভিযোগ করেছেন। অভিযোগ থেকে জানা যায়, পৌরনখা বাজারের জায়গা দখল করে ৫০টি দোকান গড়ে তুলেন তিনি। যেখানে প্রতিটি দোকান থেকে অগ্রিম ১০ লাখ টাকা করে নিয়ে ১০ হাজার টাকা ভাড়া দেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এমন অসংখ্য অভিযোগ আছে তার বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের  ব্যাপারে চৌদ্দগ্রাম পৌরসভার মেয়র মিজানুর রহমান এই প্রতিবেদককে বলেন, আমি রিডো কো- অপারেটিভের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। টাকা হাতিয়ে নেয়ার ব্যাপারটি মিথ্যা।  পৌরসভায় টেন্ডার বাণিজ্য নিয়ে তাকে প্রশ্ন করলে তিনি উল্টো প্রশ্ন করেন, কোন প্রতিষ্ঠানকে দেই বলেন। এই প্রতিবেদক নির্দিষ্ট একটি প্রতিষ্ঠানের নাম বলার পর তিনি বলেন, আমি কোনো টেন্ডারের সঙ্গে সম্পৃক্ত নই। অনলাইনে টেন্ডার হয় এবং সেখান থেকে প্রক্রিয়া অনুযায়ী সবাই পায়। এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আমাদের অফিস পুরোপুরি স্বচ্ছ। ভবন নির্মাণের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। মেয়রের কয়েকজন কাউন্সিলর সরকারি জমি দখলের ব্যাপারে তিনি বলেন, আমরা ইতিমধ্যে সবাইকে উচ্ছেদ নোটিশ দিয়েছি।  তার ভাইদের লাগামছাড়া হওয়া নিয়ে তিনি বলেন, আমার ভাইদের সবাই বিদেশ ছিল,  সেই টাকা দিয়ে তারা ব্যবসা করছে। আলিশান ডুপ্লেক্স বাড়ি নিয়ে তিনি বলেন, আমরা ধনী পরিবারের সন্তান। আগে আমাদের একটা বিল্ডিং ছিল, এখন এই বাড়িটা আমার ভাইদের টাকা দিয়ে করা।  মেয়রের ক্যাডার হিসেবে পরিচিত সাবেক চেয়ারম্যান ইসমাইল হোসেন বাচ্চুকে নিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা অফিসে, দলীয় বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অন্যান্য চেয়ারম্যানের মতো তার সঙ্গেও আমার যোগাযোগ আছে। এর বাইরে আর কিছু নেই।  সরকারি দখলে কাউন্সিলরের শেল্টার নিয়ে মেয়র বলেন, এসব তথ্য আমার কাছে নেই। আমি কাউকে শেল্টার দেই না। মাদকের সঙ্গে সম্পৃক্ততার ব্যাপারে তিনি বলেন, এটা হাস্যকর। উল্টো আমি সকল স্কুল-কলেজে মাদক নিরাময়ে প্রতিরোধমূলক সচেতনতা গড়ে তুলেছি। আমি একটা কথা বলতে চাই, আমার বিরুদ্ধে যে সব অভিযোগ করছেন এগুলো শতভাগ মিথ্যা।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত
আরও