অপহরণের ৫দিন পর মিললো শিশুর লাশ

মানবজমিন প্রকাশিত: ১১ ডিসেম্বর ২০১৯, ১২:১৪

ঢাকার ধামরাইয়ে অপহরণের পাঁচদিন পর ঘাতকের স্বীকারোক্তিতে কচুরিপানার নিচ থেকে পাঁচ বছরের শিশু মুবিনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। আজ বুধবার ভোরে ধামরাইয়ের মঙ্গলবাড়ি গ্রামের পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে পুলিশ  লাশটি উদ্ধার করে। মুবিন ধামরাইয়ের বাইশাকান্দা ইউনিয়নের মঙ্গলবাড়ি গ্রামের প্রবাসী আবদুল করিমের ছেলে।  গ্রেপ্তারকৃত ঘাতক আজিজুল ইসলাম ওই একই গ্রামের মফিজ উদ্দিনের বাড়ির কেয়ারটেকার। তার বাড়ি কুড়িগ্রাম জেলায়।জানা গেছে, গত শনিবার মুবিন নতুন জামা ও প্যান্ট পরে মায়ের কাছ থেকে পাঁচ টাকা নিয়ে বাড়ির পাশে দোকানে যায় মজা কিনতে। কিন্তু এরপর আর সে বাড়িতে ফিরে আসেনি। তাকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে না পেয়ে ওইদিন রাতেই ধামরাই থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন মুবিনের এক স্বজন। ওইদিন রাতেই তাদের টয়লেটের কাছে পাওয়া গেছে একটি চিরকুট। এতে লেখা ছিল ‘মুবিনের কথা ২৪ ঘণ্টা স্মরণ রাখবে’। এছাড়া ওই চিরকুটে একটি মোবাইল নম্বরও লেখা ছিলো। এরপর সোমবার রাতে মুবিনের মামা সোহেল মাহমুদ বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি অপহরণের মামলা করেন। পরে পুলিশ ওই মোবাইলের সূত্র ধরেই মঙ্গলবাড়ি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের বাড়ির কেয়ারটেকার কুড়িগ্রামের আজিজুল ইসলামকে মঙ্গলবার রাতে আটক করে। তার স্বীকারোক্তি নিয়েই আজ বুধবার সকালে মঙ্গলবাড়ি গ্রামের পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার নিচ থেকে মুবিনের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত আজিজুল ইসলামসহ তিনজনে মুক্তিপণ আদায়ের জন্য মুবিনকে  দোকানের পাশে একা পেয়ে অপহরণ করে। পরে মুবিন কান্নাকাটি করতে থাকায় ধরা পড়ার ভয়ে গলাটিপে হত্যার পর মুবিনের লাশ মঙ্গলবাড়ি গ্রামের পাশের একটি পরিত্যক্ত পুকুরের কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখে।    মুবিনের মা রওশন আরা জানান, তার ছেলে মুবিনকে শনিবার সকালে নতুন জামা ও প্যান্ট কিনে  দেয়া হয়েছে। ওই জামা-কাপড় পড়েই সে আমার কাছ থেকে পাঁচ টাকা নিয়ে দোকানে যায় মজা কিনতে। এর আগে মুবিন আমার কাছে ভাপা পিঠা খেতে চেয়েছে। ছেলের জন্য পিঠাও তৈরি করেছিলাম। কিন্তু তার আর পিঠে খাওয়া হয়নি। আমি আমার ছেলে হত্যার ঘাতকদের বিচার চাই। এ বিষয়ে ধামরাই থানার অফিসার ইনচার্জ দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, আজিজুলের স্বীকারোক্তিতে উদ্ধার করা হয় মুবিনের লাশ। ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে মুবিনের লাশ। অন্য আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।  উল্লেখ্য, আজিজুল তার মা ও স্ত্রীকে নিয়ে প্রায় ১২ বছর ধরে উপজেলার মঙ্গলবাড়ি গ্রামের মফিজ উদ্দিনের বাড়ীতে কেয়ারটেকার হিসেবে বসবাস করে আসছিলো। এ সুযোগে গ্রামের অনেকের সঙ্গে তার সখ্যতার পাশাপাশি মুবিনকেও সে বন্ধু বলে ডাকতো।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
আরও