ছিল ১৮, হয়ে গেল ৪৭: নায়িকার সেকাল-একাল

আনন্দবাজার (ভারত) প্রকাশিত: ১৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২:৫৭

কানন দেবী ছিলেন ১৪! সুচিত্রা সেন ২২! ঋতুপর্ণা ২১! কোয়েল ১৮! জয়া আহসান? বয়স ৪৭। তিনি নিজে অবশ্য বলছেন তাঁর বয়স সাঁইত্রিশের একদিনও বেশি নয়! উইকিপিডিয়ার তথ্য ভুল! সর্বত্রই দেখা গিয়েছে তারকাদের উত্থান কুড়ির কোঠায়। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে তাঁদের প্রোমোশন হয়েছে তন্বী কিশোরী থেকে মা-মাসির রোলে। ব্যতিক্রম আছে। তাঁরা ক্ষণজন্মা। যেমন, মেরিল স্ট্রিপ বা জেমস্ বন্ডের গোয়েন্দা প্রধান জুডি ডেনস্ সত্তর পেরিয়ে তাঁরা পুনর্যৌবন লাভ করেছেন। জয়া ব্যতিক্রম! যা এত দিন অভাবনীয় ছিল এ বার তাই হয়েছে। ৪৭ অথবা (ওরফে) ৩৭ বছরের এক নারী এই মুহূর্তে বাংলার সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুখ। ২০১৭-এ লম্বা ইনিংস খেলতে মাঠে নেমেছেন তিনি। শুধু একের পর এক ছবি করা নয়। প্রত্যেক ছবিতে বক্স অফিসের সাফল্যকে সুনিশ্চিত করেছেন জয়া। এ বছর রিলিজ করেছে তাঁর তিনটি ছবি। বক্স অফিসে সাফল্যের নিরিখে ‘দেবী’, ‘বিজয়া’, ‘কণ্ঠ’— তিনটিই সুপারহিট। শুধু এ বছরই নয়। ইতিমধ্যেই জয়া সাজিয়ে নিয়েছেন পরের বছরের বাছাই করা ছবির লম্বা তালিকা। আসছে অতনু ঘোষের ‘বিনি সুতো’, ‘রবিবার’ জয়ার কেরিয়ারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছবি। এই প্রথম ‘বিনিসুতো’-য় ঋত্বিক চক্রবর্তী আর ‘রবিবার’-এ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে জুটি বাঁধছেন জয়া। অন্য দিকে, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট পরিচালকের ‘অর্ধাঙ্গিনী’-তে একেবারে ভিন্ন মেজাজে দেখা যাবে জয়াকে। তাঁর পরি আর ভূতের ম্যাজিকাল অভিনয় ক্যামেরাবন্দি করেছেন সৌকর্য ঘোষাল। জয়া সেখানে ‘ভূতপরি’। আর সে ছবি প্রেজেন্ট করছেন স্বয়ং কোয়েল মল্লিক! কোয়েল বলছেন, ‘‘জয়ার অভিনয়ের জায়গাটা খুব শক্তিশালী।’’ যেমন পরিচালক কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় বললেন, ‘‘জয়া ইন্ডাস্ট্রিতে এসেছেন দেরিতে। ধন্যবাদ অরিন্দম শীলকে যিনি জয়াকে খুঁজে বার করেছিলেন। ‘আবর্ত’-য় কাজ করতে গিয়ে ওকে আলাদা মনে হয়েছিল। সৌন্দর্যের সঙ্গে একটা ডিগনিটি মানুষ খোঁজে, সেটা পরিণত বয়সেই সম্পূর্ণতা পায়। জয়ার মধ্যে সেটাই আছে। সৃজিত ওকে দিয়ে চমৎকার কাজ করিয়েছে। শিবুও। অতনুও করাচ্ছে। ম্যাচিওর অভিনেত্রী হওয়ার জন্য ওকে নিয়ে নিশ্চয়ই আরও চরিত্র লেখা হবে।’’ ‘‘সময় পাল্টাচ্ছে। বাংলা ছবির গল্পের সঙ্গে চরিত্রও বদল হচ্ছে। দর্শক ম্যাচিওরড লুক খুঁজছে যা জয়ার মধ্যে আছে। কমবয়সী অভিনেত্রীর চেয়ে পরিণত লুক দর্শককে টানছে যার ওপর ভরসা জন্মায়,’’ বললেন পরিচালক অরিন্দম শীল। ফিনফিনে শিফন আর সমুদ্রপাড়ে কিশোরীর নাচ— এই ফ্রেমে বাংলার দর্শক আর কোনও শিয়ার ম্যাজিক দেখতে পায় না। বাংলা ছবিতে যুবক-যুবতীকে নিয়ে শুধু প্রেমের গল্পের দিনও শেষ। গল্প যত বাস্তবধর্মী হচ্ছে দর্শক ততই পরিণত মুখ খুঁজছে। যেন পাশের বাড়ির মেয়ে! যার আর এক নাম জয়া আহসান। ‘‘চরিত্রর চেয়েও আমার মনে হয়, যে ভাবে স্ক্রিপ্ট বেছে বেছে ছবি করে জয়া তাতে ও অনেককে পেরিয়ে যাচ্ছে। ম্যাচিওরড স্ক্রিপ্ট। ওর নানা রকম লুক। যে কোনও চরিত্র অ্যাডপ্ট করে ফেলতে পারে সহজে। দুই বাংলার ডায়ালেক্টও অসম্ভব ভাল বলতে পারে,’’ জয়াকে বিশ্লেষণ করলেন তাঁর ‘এক যে ছিল রাজা’র পরিচালক সৃজিত মুখোপাধ্যায়। সৃজিতের সঙ্গে জয়ার প্রেমের সম্পর্ক নিয়ে একসময় গুঞ্জন উঠেছিল টলিউডে। শোনা যায়, সৃজিত নাকি জয়ার জন্য ধর্মান্তরিতও হতে চেয়েছিলেন! নবাগতা কমবয়সী নায়িকার চেয়ে অনেক দিন ধরে জীবন দেখা অভিনেত্রীর জন্য আলাদা করে চিত্রনাট্য লিখছে টলিউড। যেমন পরিচালক সৌকর্য ঘোষাল। তিনি বলছেন, ‘‘পপুলার ছবি নয়। শিল্পনির্ভর ছবিকেই পপুলার করতে পারছেন জয়া আহসান।’’ সৌকর্য জানালেন, তিনি ‘ভূতপরি’র চরিত্রই লিখেছিলেন জয়াকে ভেবে। দরকার ছিল রূপসী বাঙালি মুখ। আবার ভূতপরির ম্যাজিকটাও তাঁর স্কিনটোনে ফুটে উঠবে। ‘‘আমি চাইলে সুন্দর সেজে গাছের তলায় দাঁড়িয়ে বহু ছবি করতে পারতাম। করিনি। তার জন্য টাকার লোভ, খ্যাতির লোভ সংবরণ করেছি। চেয়েছিলাম ‘আনকনভেনশনাল’ কিছু করতে। বাংলাদেশে, বিদেশে ‘দেবী’র সাফল্য বলে দিয়েছে ‘ক্রিটিক্যালি অ্যাক্লেমড’ ছবিও ‘জনপ্রিয়’ হতে পারে। আমি সেই রাস্তাটা তৈরি করেছি’’, বললেন ‘কণ্ঠ’ ছবির স্পিচ থেরাপিস্ট জয়া।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত
আরও