লকডাউনে কষ্টে পূর্ব রাজাবাজারের মানুষ, কমেছে সংক্রমণ

প্রথম আলো প্রকাশিত: ২৪ জুন ২০২০, ০০:১২

আইবিএ হোস্টেলের ফটকের সামনে মঙ্গলবার দুপুরে একাই দাঁড়িয়ে ছিলেন মিনারা। ছোটখাট উচ্চতার মানুষ বাঁশের প্রতিবন্ধকের ওপাশটায় কি যেন খুঁজছিলেন উঁকিঝুঁকি দিয়ে । কাকে খোঁজেন এমন প্রশ্নে চমকে তাকান। বলেন, ওখানকার দুটো বাসায় তিনি ছুটা বুয়ার কাজ করতেন।

পূর্ব রাজাবাজারের লকডাউন আরও সাতদিন বেড়েছে মঙ্গলবারই। কেমন আছেন মহল্লার মানুষ তা জানতেই ওখানে যাওয়া। স্বেচ্ছাসেবীদের অনুমতি নিয়ে ভেতরে ঢুকে প্রথম যাঁর সঙ্গে দেখা তিনিই মিনারা। লকডাউনে কষ্টে পড়েছেন। দুঃশ্চিন্তায় কপালে ভাঁজ।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে গত ২৬ মার্চ থেকে ৩১ মে পর্যন্ত সারাদেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। সংক্রমণ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না আসায় পরে সারা দেশকে লাল, হলুদ ও সুবজ জোনে ভাগ করে এলাকাভিত্তিক লকডাউন দেওয়া শুরু করে।

সংক্রমণ সংখ্যা বিবেচনায় গত ৯ জুন মধ্যরাত থেকে ঢাকার প্রথম এলাকা হিসেবে পূর্ব রাজাবাজারে পরীক্ষামূলক লকডাউনের কার্যক্রম শুরু হয়। এর আগে অবশ্য টোলারবাগে স্থানীয় বাসিন্দারা রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় লকডাউন মেনে সফলতা পেয়েছিল।

মিনারা অত কিছু বোঝেন না। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'মার্চের শেষে কাজে যেতে নিষেধ করে দিয়েছিল। জুনের পয়লা তারিখ থেকে যাচ্ছিলাম, ফির লকডাউন দিল। তিনমাসের বাসা ভাড়া বাকি পড়িছে।'

কথা বলতে বলতে এই নারী বাসার দিকে এগোন। তখন মহল্লার দুপাশের দোকানপাট বন্ধ। বৈদ্যুতিক খুঁটির নিচে একটা মরা ছুঁচোকে পাশ কাটাতেই দেখা হয় মো মুনির নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে।

বিধবা মিনারা তখনও বলে যাচ্ছিলেন, গ্রিনরোডের ফল ব্যবসায়ী স্বামীর মৃত্যুও পর বোন-বোনজামাইয়ের সঙ্গে থাকেন। দেখার কেউ নেই। কোনো ত্রাণ সামগ্রীও পাননি। অল্প-স্বল্প যা জমিয়েছিলেন ভেঙে ভেঙে খাই-খরচা মিটছে।

মুনিরও গ্রিনরোডের ফুটপাতে ফল বিক্রি করতেন। দুই দফায় দশ কেজি চাল, ডাল, তেল, আলু, পেঁয়াজ আর দুই মেয়ের জন্য দুধ পেয়েছেন। লকডাউন আরও এক সপ্তাহ বাড়ানোর খবরে বেরিয়ে এসেছেন। ফল-মূল নিয়ে ভেতরে বসার ব্যবস্থা নেই? কোনো রকমে না-সূচক মাথা নেড়েই চলে গেলেন। কথা বলতে চাইলেন না আর।

আরও কিছুদূর এগোতে নাজনীন স্কুল। এখানেই করোনা শনাক্তকরণ পরীক্ষা হচ্ছে গেল দুই সপ্তাহ ধরে। স্কুলের সামনে পুলিশ পাহারা। আর স্থানীয় কাউন্সিলর ফরিদুর রহমান ইরানের 'ছোটভাই'রা। গলায় পরিচয়পত্র ঝুলিয়ে তাঁদের বড় অংশ লকডাউন বাস্তবায়নে তৎপর। তবে কাউকে কাউকে আড্ডা দিতে দেখা গেল। একজনকে দেখা গেল মোটর সাইকেল হাঁকিয়ে বেরিয়ে যেতে। জরুরি সেবায় নিয়োজিত যাঁরা তাঁদের অনেকে কাজ সেরে বাসায় ফিরছেন তখন।

মিনারা তখনও সঙ্গে। সবার কথা শুনছেন। একটা ভবনের নিচে পাওয়া গেল তিনজনকে। তাঁদের একজনের মহল্লাতেই ছোটখাট দোকান। বেশভূষা দেখে বোঝা গেল নামাজ পড়ে বেরিয়েছেন। কেমন আছেন জানতে চাইলে বললেন, কষ্টে আছেন। মহল্লাতেই দোকান আছে একটা। লকডাউনের পর থেকেই ব্যবসা মন্দা। আলাদাভাবে যখন শুধু পূর্বরাজাবাজার লকডাউন হলো, তখন পুরোপুরি দোকান বন্ধ।

বিপদে পড়তে পারেন এই আশঙ্কা থেকে নাম বলেননি, ছবি তুলতেও রাজি হননি। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, 'মধ্যবিত্তের জ্বালায় জ্বলতেছি। হাত পাততে পারি না। হটলাইন নম্বর দিছে, এখন আমি কি হটলাইনে ফোন করে খাবার চাইব?'

তাঁর সঙ্গে কথা বলতে বলতেই মিনারা চলে যান। ঘটনাস্থলে তখন পুলিশ। লকডাউন বাড়ানোর ঘোষণা আসার পর থেকে পুরো মহল্লার চারপাশে সেনাটহল বাড়ে। জোরদার হয় পুলিশি টহলও।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন
এই সম্পর্কিত
আরও