জেনি কারেন চলচ্চিত্রের সর্বকালের অন্যতম একটি ধোঁয়াশাময় চরিত্র

দৈনিক আজাদী প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২০, ০৭:৩৮

.tdi_2_395.td-a-rec-img{text-align:left}.tdi_2_395.td-a-rec-img img{margin:0 auto 0 0} (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});“যদি প্রেম দিলে না প্রাণে / কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে” হ্যাঁ, রবি ঠাকুরের গান দিয়েই সূচনা করতে হচ্ছে। এমন করতে পারলে ভাল লাগে, যদিও আজকাল এই সব ভাল লাগার ফ্যাঁকড়া আছে। ফেসবুকের কল্যাণে কানাঘুষা শুরু হয়ে যায় উফ, কথায় কথায় এরা রবীন্দ্রনাথকে টেনে নামান কিংবা রবীন্দ্রনাথকে ছাড়া যেন এদের চলেই না। যাই হোক সে আলোচনা আরেক দিন। মানুষ কতটা ক্ষুদ্র, কতটা দীন সেটা কী সে সব সময় মনে রাখে? এই রাখা বা না রাখা দুটোই সংকটের। যদি না জানে, তবে প্রকৃতির এই অসীমতা তার কাছে কেবলই বিস্ময়ের ব্যাপার, সে যুগপৎ বিস্মিত এবং আনন্দিত হবে। তবে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের ক্ষুদ্রতা জেনে ফেললেই মহা বিপদ, অবসাদ ধীরে ধীরে গ্রাস করে নেবে। এটাই নিয়তি। হলিউডের বিখ্যাত সিনেমা ‘ফরেস্ট গাম্প’-এর বলিউডই রিমেকে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করছেন আমির খান, এ খবর পুরনো। সিনেমার নাম ‘লাল সিং ছদ্ম’, এ কথাও অনেকেই ইতোমধ্যে জানেন। ‘লাল সিং ছদ্ম’র পরিচালক ‘সিক্রেট সুপারস্টার’খ্যাত নির্মাতা অদ্বৈত চন্দন। আর ‘লাল সিং ছদ্ম’য় আমির খানের বিপরীতে দেখা মিলবে কারিনা কাপুর খানের। হ্যাঁ, কারিনাই হতে যাচ্ছেন ফরেস্ট গাম্পের জেনি। যারা ফরেস্ট গাম্প দেখেছেন, তাদের নিশ্চয়ই জেনিকে উদ্দেশ্য করে বলা ফরেস্টের সেই ডায়লগটা মনে আছে – “ডযু ফড়হ’ঃ ুড়ঁ ষড়াব সব ঔবহহু? ও’স হড়ঃ ধ ংসধৎঃ ঢ়বৎংড়হ, নঁঃ ও শহড় িযিধঃ ষড়াব রং…” মনে হতে পারে জেনি কতটা রূঢ়। এমন ভালবাসা কেউ দূরে ঠেলে! ফরেস্ট গাম্প সিনেমাটার সমালোচনা করা খুব দুঃসাহসের কাজ। বর্তমানে যে পঙ্কিল সময়ে আমরা বসবাস করছি সে কারণে এই সিনেমার ফরেস্টের আশপাশের বহু মানুষকেই অবাস্তব মনে হবে। কারণ এতটা উদারতার সাথে আমরা এখন আর পরিচিত নই। ফরেস্ট, তার মা, বুব্বা, বুব্বার মা, এরা সবাই খুব ভালোমানুষ, লেফট্যানেন্ট ড্যান টেলরের মতো অদ্ভুত চরিত্রের লোকও বাস্তব পৃথিবীতে খুঁজে পাওয়া মুশকিল। টক-ঝাল-মিষ্টির দুর্দান্ত একটা মিশেল আছে কেবল জেনির মধ্যেই। এবং চরিত্রটিই প্রবল বাস্তববাদী। মজার বিষয় হল যদি কেউ জেনিকে গুগলে খুঁজতে শুরু করে, তবে বিভিন্ন নিবন্ধ, ফোরাম এবং মন্তব্যগুলি দেখে তবে সে কনফিউজড হয়ে যেতে বাধ্য। বহু জায়গায় জেনি সম্পর্কে চরম বিরূপ মন্তব্য খুঁজে পাওয়া যাবে, কোথাও বলা হচ্ছে যে এই সিনেমার সব চাইতে বাজে চরিত্র হল জেনি। আবার ফরেস্ট গাম্প প্রকাশের কয়েক বছর পরে, কিছু দর্শক জেনি সম্পর্কে তাদের মতামত পরিবর্তন করেছেন। কেউ কেউ তার চরিত্র পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করে বুঝিয়ে দেবার চেষ্টা করেছেন জেনির আচরণ। তবুও জেনি এখনও সর্বকালের অন্যতম ভুল বোঝাবুঝির চরিত্র। অনেকেই সিনেমার ঘাত-প্রতিঘাতে পরে জেনির ছোটবেলার সেই দুর্বিষহ ঘটনাটা বেমালুম ভুলে যায়। ফরেস্টের মতন এমন ভালবাসাময় পরিবারতো তার ছিল না, আর এ কারণেই জেনি দীর্ঘদিন বুঝতেই পারেনি ফরেস্ট কেন তার প্রতি এতটা সদয় হবে। প্রতিবার সে ফরেস্টের কাছ থেকে পালিয়ে গেছে, কারণ সে কখনই তাকে ফরেস্টের জন্য যোগ্য মনে করতো না। তার ধারনা ছিল ফরেস্ট অনেক ভাল একজন সঙ্গী পাবার অধিকার রাখে। পুরো সিনেমাটা জুড়ে দেখা গেছে জেনি প্রচণ্ড স্বার্থপর, তো এই সিনেমাতে তাকে সবার অগোচরেই একটা প্রটাগনিস্ট হিসেবে দাঁড় করিয়ে দেয়। তার যখন দরকার ঠিক তখন সে ফরেস্টকে কাজে লাগিয়েছে।আর দরকার ফুরাতেই পালিয়ে গেছে। একসময় দেখা গেল সে নিজের উত্তরসূরি তৈরি করতে চায় এবং তখন ফরেস্টের কাছেই ফিরে আসে। এটাই জেনির চরিত্র। কখনই প্রত্যাশার দাবী নিয়ে সে ফরেস্টের সামনে এসে দাঁড়ায়নি, আড়াল থেকেই সে ভালোবেসে গেছে, যখন তার সময় ফুরিয়ে এসেছে, তখন ফরেস্টকে ডেকেছে, সন্তানকে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য। ছোটবেলা থেকেই তারা একে অপরের একমাত্র বন্ধু। পুরো সিনেমাটাতেই জেনি চরিত্রটা ছিল ভীষণ রহস্যময়, যে কাউকে দ্বিধায় ফেলে দেবে। যেমন শুরুতে দেখা গেল ফরেস্টকে তার প্রথম স্কুল বাসের যাত্রায় তার পাশের সীটে বসতে দেয় একটা সুন্দরী মেয়ে। আর সেই মুহূর্ত থেকেই তারা বেস্ট ফ্রেন্ড, ফরেস্টের ডায়লগের মতন ‘গব ধহফ ঔবহহু মড়বং ঃড়মবঃযবৎ ষরশব ঢ়বধং ধহফ পধৎৎড়ঃং.্থ তো এখানে শুরুতেই তাকে সরাসরি একজন দয়ালু মেয়ে হিসাবে চিহ্নিত করা গেলেও পরক্ষণেই সে ফরেস্টকে নির্দ্বিধায় কর্কশ ভাবে বলে ফেলে – দঅৎব ুড়ঁ ংঃঁঢ়রফ ড়ৎ ংড়সবঃযরহম?” পরোক্ষভাবে এসব আচরণের মাধ্যমে দর্শককে বুঝিয়ে দেয়া হয় ফরেস্টের অনুভূতি সম্পর্কে সে মোটেই কেয়ার করে না। এবং বুঝা যায় যে সে অন্য সবার মতন নয়।। এটি জেনি চরিত্রের একটি পুনর্বিবেচিত দিক। অনেককেই বলতে শুনি কবিতা একটা বিশুদ্ধ আর্ট ফর্ম, অনেকটা আঁকা ছবির মতন, যা উন্মোচিত হতে পারে দর্শক মনে নানা ভাবে। আরেকটা মজার ব্যাপার হল এই উন্মোচনের বিষয় নিয়ে কমল কুমার মজুমদার লিখেছেন সভ্য মানুষের প্রাণান্ত চেষ্টা দেখি যে, তাহারা শিল্পকে ভাবিতে চাহে। ইহা জানি, শিল্প ভাবিবার নহে। কতটুকু সে স্বরূপ পরিত্যাগ করিয়া আর পাঁচের মতন ভাবনার বিষয়-বস্তু হইবে, বা ভাবনা কত দূর এক স্তরে গেলে সে শিল্পকে ভাবিতে পারিবে, তাহা লেখার নহে। ফিরে আসছি কবিতায়। তারকোভস্কি’র একটা উক্তি আছে এ নিয়ে ও ভরহফ ঢ়ড়বঃরপ ষরহশং, ঃযব ষড়মরপ ড়ভ ঢ়ড়বঃৎু রহ পরহবসধ বীঃৎধড়ৎফরহধৎরষু ঢ়ষবধংরহম. ঞযবু ংববস ঃড় সব ঢ়বৎভবপঃষু ধঢ়ঢ়ৎড়ঢ়ৎরধঃব ঃড় ঃযব ঢ়ড়ঃবহঃরধষ ড়ভ পরহবসধ ধং ঃযব সড়ংঃ ঃৎঁঃযভঁষ ধহফ ঢ়ড়বঃরপ ড়ভ ধৎঃ ভড়ৎস. হঠাৎ করেই জেনিকে নিয়ে আলোচনায় কবিতার জগতে ঢুঁ মারবার কারণ হল এটুকুই বলতে চাওয়া, জেনি কবিতার মতনই, কিছুটা রহস্যময়, কিছুটা বড্ড খোলামেলা। আর সিনেমা দেখে তো বহু লোক, কবিতা পড়ে ক’জন। জেনিও কবিতার মতন, ফরেস্টের আলোর পেছনে ঢাকা পড়ে গেছে। এটাই তার নিয়তি। তা-ই হয়তো তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘ হে ঈশ্বর, আমাকে পাখি বানিয়ে দাও, যাতে আমি উড়ে যেতে পারি দূরে, এখান থেকে বহু দূরে ’।.tdi_3_9d9.td-a-rec-img{text-align:left}.tdi_3_9d9.td-a-rec-img img{margin:0 auto 0 0} (adsbygoogle = window.adsbygoogle || []).push({});
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন