রূপগঞ্জে ছাত্রলীগের শীর্ষ পদে শিবিরকর্মী

মানবজমিন প্রকাশিত: ২০ এপ্রিল ২০১৯, ০০:০০

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নবগঠিত উপজেলা ছাত্রলীগের সংগঠনিক সম্পাদকের পদ পেয়েছেন জেলার সক্রিয় এক শিবিরকর্মী। এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে সাংঘর্ষিক দু’টি ছাত্র সংগঠনের অবস্থানের মাঝে রূপগঞ্জে এমন বড় ধরনের চমকে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী সংগঠনের সদস্যরাও বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন। সদ্য পদায়িত শিবিরকর্মী নাশকতার কারণে শিবিরদলেও ছিলেন ব্যাপক পরিচিত মুখ। রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ তিনি নিয়েছেন।জানা যায়, চলতি ফ্রেব্রুয়ারিতে রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রলীগ। পাশাপাশি উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা ফয়সাল আলমকে সভাপতি ও মাসুম ভূঁইয়াকে সাধারণ সম্পাদক করে একবছর মেয়াদি ১১ সদস্যের নতুন কমিটির অনুমোদন দেয় তারা। জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ ও সম্পাদক আশরাফুল ইসমাঈল রাফেল স্বাক্ষরিত সে কমিটিতে উপজেলা ছাত্রলীগের অচেনা মুখ মামুনুর রশিদকে প্রথম সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পরে জানা যায়, উপজেলার গুতিয়াবো এলাকার নূরউদ্দিনের ছেলে মামুনুর রশিদ রূপগঞ্জে জন্ম হলেও বেড়ে উঠা ছিল শহরের ফতুল্লা এলাকায়। মাদ্‌রাসা শিক্ষা ব্যবস্থায় কোরআনে হাফেজ ও আলিম পাস করা মামুনুর রশিদ ছাত্রজীবন থেকেই শিবিরের রাজনীতিতে অনুগত। শহর ছাত্রশিবিরের সভাপতি নাছির উল্লাহ ও সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলমের বিশ্বস্ত হাতিয়ার মামুনুর রশিদ। মামুন শহরের ২ নং রেলগেইটে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও ওসিকে পিটিয়ে আহত, ফতুল্লার পিলকুনি এলাকায় যুবদলের ৩৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ছাত্রশিবিরকে দাওয়াত না করায় সভামঞ্চে গুলিবর্ষণ ও ককটেল বিস্ফোরণ, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মাদানীনগর মাদ্‌রাসা এলাকায় গাড়িতে আগুন ও পুলিশ পিটিয়ে জখম, শহরের মণ্ডলপাড়া এলাকায় পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, ওয়্যারলেস লুটসহ পুলিশের এসআই রবি চরণ চৌহানকে হত্যার চেষ্টা, বন্দরের ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের লাঙ্গলবন্ধ এলাকায় পুলিশের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটিয়েছে বলে বিভিন্ন মামলার নথিপত্রে পুলিশ উল্লেখ করে। গত ২০১২ সালের ডিসেম্বরের ১২ তারিখ ফতুল্লার পোস্ট অফিস নোয়াখাইল্যার বাড়িতে গোপন বৈঠকে শিবিরকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করাকালে পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামুনসহ ৭ জনকে আটক করে। শিবিরকর্মী হিসেবে নাশকতার ঘটনায় এখন অবধি ৪টি মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে তার বিরুদ্ধে। মামলাগুলো বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। ছাত্রশিবিরের সক্রিয়কর্মী হঠাৎ করেই রূপগঞ্জ উপজেলা ছাত্রলীগের নবগঠিত কমিটির শীর্ষ পদ পাওয়ায় ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়েছে। এ নিয়ে উপজেলা ছাত্রলীগেও তৈরি হয়েছে বিভক্তি। এসব ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে ছাত্রশিবিরের রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করে মামুনুর রশিদ বলেন, আমি একজন কোরআনে হাফেজ। মাদ্‌রাসার ছাত্র ছিলাম বলেই পুলিশ ষড়যন্ত্র করে বিভিন্ন মামলায় ফাঁসিয়েছে। আমি বঙ্গবন্ধুর আদর্শের রাজনীতি করতাম, এখনো করছি। এ ব্যাপারে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আজিজুর রহমান আজিজ মুঠোফোনে বলেন, রূপগঞ্জের কমিটি রূপগঞ্জের নীতি-নির্ধারকদের পছন্দ অনুসারে করা হয়েছে। আর আমি যতটুকু জেনেছি, ছেলেটা ফতুল্লা থানা শেখ রাসেল সংগঠনের সঙ্গে জড়িত ছিল। তাই তাকে ছাত্রলীগের কমিটিতে পদ দেয়া হয়েছে। তারপরও তার মামলার কাগজপত্র দেখে সাংগঠনিক নিয়ম অনুসারে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সম্পূর্ণ আর্টিকেলটি পড়ুন