ছবি সংগৃহীত

আইসিটি ব্যবসা সংশ্লিষ্ট ব্যয় সূচকে বিশ্ব সেরা বাংলাদেশ

তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে ব্যবসা সংশ্লিষ্ট ব্যয় সূচকে (খরচের দিক থেকে) বিশ্ব সেরা হয়েছে বাংলাদেশ। একই প্রতিবেদনে আইটি আউটসোর্সিং ও ব্যাক অফিসের ভিত্তিতে বিশ্বের ৫০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ২৬তম।

এম. মিজানুর রহমান সোহেল
জেষ্ঠ্য প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১০:১৬ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০৬:১০
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৪, ১০:১৬ আপডেট: ২৩ এপ্রিল ২০১৮, ০৬:১০


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) তথ্যপ্রযুক্তি সেক্টরে ব্যবসা সংশ্লিষ্ট ব্যয় সূচকে (খরচের দিক থেকে) বিশ্ব সেরা হয়েছে বাংলাদেশ। এই সূচক দেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসার ক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্টরা। বিশ্বখ্যাত ম্যানেজমেন্ট কনসাল্টিং ফার্ম ‘এটি কারনি’ (AT Kearney) প্রকাশিত ব্যয় সূচকে বাংলাদেশ প্রথম স্থান অর্জন করেছে। দেশে সফটওয়্যার ও আইটি সেবাপণ্য উৎপাদনে বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় খরচ কম হওয়ায় বাংলাদেশের এই অর্জন। এ সংশ্লিষ্ট সম্পূর্ণ প্রতিবেদন দেখা যাবে এই ঠিকানায়। আইটি আউটসোর্সিং, ব্যাক অফিস বা অফশোরিং, বিজনেস প্রসেসিং আউটসোর্সিং (বিপিও), ভয়েস সার্ভিসসহ বেশ কয়েকটি ক্ষেত্রে অসামান্য অগ্রগতির ধারাবাহিকতায় প্রথমবারের মতো গ্লোবাল সার্ভিস লোকেশন ইনডেস্ক (জিএসএলআই)-এ বিশ্বের শীর্ষ ৫০টি দেশের মধ্যে ২৬ তম অবস্থান নিয়েছে বাংলাদেশ। এর পরের অবস্থানে রয়েছে যুক্তরাজ্য, তিউনিসিয়া, স্পেন মরক্কো, মরিশাস, কানাডা, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা ও অসেট্রলিয়ার মতো দেশ। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। গ্লোবাল সার্ভিসেস লোকেশন ইনডেক্সে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তি উপলক্ষে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয় রাজধানীর কাওরান বাজারে বেসিস কার্যালয়ে। জুনাইদ আহমেদ পলক বলেন, ‘এটি কারনি’র এ সূচক বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সহায়তা করবে। সূচকে অবস্থানের কারণে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা সহজ হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে করে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। গত ৫ বছরে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রভূত উন্নতি হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ১৩ লাখ থেকে (২০০৯ সালে) ৪ কোটি ৮০ লাখে উন্নীত হয়েছে, ৫ লাখ তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছে। অাগামীতে সূচকে আরও উন্নতি হবে। ২০১৭ সালের মধ্যে দেশের ইউনিয়ন সেন্টারগুলোকে ডিজিটাল সেন্টার হিসেবে রূপান্তর করা হবে বলে তিনি জানান। তিনি জানান, আউটসোর্সিং -এর মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন জায়গায় (টাঙ্গাইলের মধুপুর এবং কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায়) অনেকে মাসে ৪০০-৫০০ ডলারের বেশি আয় করছেন। তিনি বলেন, ব্যবসা করা সরকারের দায়িত্ব নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো ব্যবসার ক্ষেত্র তৈরি করা। আমরা সে লক্ষ্যেই কাজ করছি। পলক জানিয়েছেন, আগামী ৩ থেকে ৪ মাসের মধ্যে হাইটেক পার্কের অবকাঠামোগত কাজ সমাপ্ত হবে। এর পরবর্তী এক বছরের মধ্যে এই পার্কে প্রায় ৬৩ হাজার তরুণ-তরুণীর কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হবে। পলক বলেন, দেশের ৬৪ জেলায় থ্রিজি সেবা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। সব জেলায় এখন ফ্রিল্যান্সাররা অনলাইনে কাজ করে অর্থ উপার্জন করছে। গত বছর ১৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হয়েছে। আগামী বছর ৫৫ হাজার ফ্রিল্যান্সার তৈরি করা হবে। পাশা-পাশি তাদেরকে উদ্যোক্তা হিসেবে তৈরি করার চেষ্টাও অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আইটি সেক্টরকে এগিয়ে নিতে বেসিস যে চারটি লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সেগুলোকে সরকার ইতিবাচক হিসেবে দেখছে। এ সময় ২০১৭ সালের সব ইউনিয়ন পরিষদকে ফাইবার অপটিক্যালের আওতায় নিয়ে যাওয়া হবে বলেও জানান তিনি। বাংলাদেশের আইটি খাত অনেক এগিয়েছে উল্লেখ করে পলক বলেন, আফ্রিক- ইউরোপ-এশিয়ার মধ্যে এখনও বাংলাদেশের ইনফরমেশন ইনফ্রাস্ট্রাকচার সবচেয়ে ভালো। সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহম্মদ এরশাদের নির্মিত কাওরান বাজারের জনতা টাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা যেমনিভাবে হাইটেক পার্কের রায় পেয়েছি ঠিক তেমনিভাবে জনতা টাওয়ারের রায়ও আমাদের পক্ষে আসবে বলে প্রত্যাশা করি। এই টাওয়ারের মামলা এখন হাইকোর্টে বিচারধীন রয়েছে। বেসিস সভাপতি শামীম আহসান বলেন, সম্প্রতি ‘এটি কারনি’ প্রকাশিত ২০১৪’র গ্লোবাল সার্ভিসেস লোকেশন ইনডেক্সে (জিএসএলআই) বাংলাদেশের আইটি সার্ভিসকে প্রথমবারের মতো অন্তর্ভুক্ত করেছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নের মাধ্যমে ২৬তম স্থান থেকে বাংলাদেশকে প্রথম ১০টি দেশের মধ্যে নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়ে যাবে বেসিস। তিনি আরও বলেন, এর আগে গার্টনার বাংলাদেশকে বিশ্বের ৩০টি আউটসোর্সিং দেশের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামো ও অন্যান্য বিষয়ে আরও উন্নয়নের সুযোগ রয়েছে বলে তিনি জানান। রাসেল টি আহমেদ বলেন, এ অর্জন আমাদের দেশকে ইতিবাচক ব্র্যান্ডিং করতে সহায়তা করবে। আর সে সুযোগটা আমাদের গ্রহণ করে ব্যাপকভিত্তিতে প্রচার-প্রচারণা চালাতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশিরা যখন বাংলাদেশে বিনোয়োগ করতে চাইবে বা তাদের যখন বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হবে তখন তারা এ ধরনের রিপোর্ট আগে খুঁজে দেখবে। রিপোর্টে ভালো কিছু পেলেই তারা আমাদের নিয়ে ইতিবাচকভাবে ভাববে। বেসিস সভাপতি শামিম আহসানের সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বেসিসের নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ, মহাসচিব উত্তম কুমার পাল, পরিচালক ফাহিম মাশরুরসহ আরও অনেকে।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...