আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদকে সংসদে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে? উত্তাপ ছড়াচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে

<strong>(প্রিয়.কম)</strong> বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদকে সংসদে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে, এমন খবরে ফেটে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়া। ``মন্ত্রী-এমপিদের কোনো নীতি নেই``- অধ্যাপক আবু সায়ীদের এমন একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রোববার হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ। এমন মন্তব্যের জন্য তাকে সংসদে এসে ১৬ কোটি মানুষের কাছে শর্তহীন ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলেছেন স্পিকারের চেয়ারে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী আশরাফ।

priyodesk
লেখক
প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০১২, ১৮:০১ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:২৩
প্রকাশিত: ০৩ জুন ২০১২, ১৮:০১ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০১৮, ১৩:২৩

(প্রিয়.কম) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদকে সংসদে গিয়ে ক্ষমা চাইতে হবে, এমন খবরে ফেটে পড়ছে সোশ্যাল মিডিয়া। ``মন্ত্রী-এমপিদের কোনো নীতি নেই``- অধ্যাপক আবু সায়ীদের এমন একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে রোববার হঠাৎ উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ। এমন মন্তব্যের জন্য তাকে সংসদে এসে ১৬ কোটি মানুষের কাছে শর্তহীন ক্ষমা চাওয়ার জন্য বলেছেন স্পিকারের চেয়ারে থাকা প্যানেল চেয়ারম্যান অধ্যাপক আলী আশরাফ।
শনিবার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলনকেন্দ্রে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) ও ইয়ুথ অ্যানগেজমেন্ট অ্যান্ড সাপোর্টার (ইয়েস) জাতীয় সম্মেলনে আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ বলেছিলেন, “দেশের মন্ত্রী-এমপিরা প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেন না, তারা নীতি মানেন না। শপথ নেওয়ার সময় বলেন অন্যায় করবেন না, কিন্ত প্রতিশ্রুতি ভুলে গিয়ে তারা অন্যায় করেন। এসব মন্ত্রী-এমপির কোনো নীতি নেই।” সাংসদ মুজিবুর রহমান চুন্নু বলেন, “অধ্যাপক আবু সায়ীদ শনিবার টিআইবির একটি অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেছেন। কিন্তু ইতিহাস হলো- দেশের জন্য, মানুষের জন্য যত বড় বড় কাজ, সব রাজনীতিবিদরাই করেছেন। এ দেশের মানুষের মুক্তির জন্য রাজনীতিবিদরাই সবচেয়ে বড় আত্মত্যাগ করেছেন। যিনি দেশের জন্য কিছু করতে পারেন না, দেশের মানুষের দায়িত্ব নিতে পারেন না, তিনি এ ধরনের মন্তব্য করতে পারেন না। আমাদের সংসদ সদস্যদের মধ্যে অনেকে ভালো আছেন আবার খারাপও আছেন। কিন্তু উনার এ ধরনের ঢালাও মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ করছি।” পরে শেখ সেলিম বলেন, “অধ্যাপক আবু সায়ীদ একজন শিক্ষক। ওই শিক্ষক যদি ছাত্রদের এভাবে পড়ান, তাহলে জাতির ভবিষ্যৎ কোথায় যাবে বলতে পারছি না। তার এই বক্তব্য গণতন্ত্রের ওপর আঘাত হানবে। সংসদের ওপর আঘাত এনেছে। এইসব বুদ্ধিজীবীরা কিছু কিছু সময় জাতির বিবেক হয়ে যায়। কিন্তু জাতির দুর্যোগের সময় উনাদের টিকিও খুঁজে পাওয়া যায় না। দেশে যখন গণতান্ত্রিক সরকার থাকে, জনগণের প্রতিনিধি থাকে, তখন এসব বুদ্ধিজীবীর মাথা খারাপ হয়ে যায়। কিন্তু যদি সামরিক সরকার আসে, অগণতান্ত্রিক অবৈধ সরকার আসে, তাহলে উনারা পদ পান। সুবিধা পান। টাকার মালিক হন। এদের চালচলন, জীবনযাত্রা, গাড়ি-বাড়ির টাকার উৎস কোথায়? একজন শিক্ষকের তো এতো গাড়ি-বাড়ি থাকার কথা না। সব টাকার উৎস সম্পর্কে তাদেরও জবাব দিতে হবে। অর্থমন্ত্রীকে বলবো, তাদের সেই টাকার উৎস খুঁজে বের করুন। তাদের জবাব দিতে হবে। আমরা সংসদ সদস্য, সংসদে জবাব দেবো।” এ সময় স্পিকারের দায়িত্বপালনকারী সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অধ্যাপক আলী আশরাফ বলেন, “তাকে সংসদে দাঁড়িয়ে ১৬ কোটি মানুষের কাছে শর্তহীনভাবে ক্ষমা চাইতে হবে। এই সংসদ ১৬ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করে। এখানেই জাতির ভাগ্য নিয়ে আলোচনা হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আজ জনগণকে এভাবে পদদলিত করা খারাপ সংকেত। তাকে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না দিলে গণতন্ত্রের আকাশে কালো মেঘ দেখা দেবে।” এই খবরে সংসদ যেমন উত্তপ্ত হয়েছে, একই সাথে সংসদের উত্তাপ এসে সোশ্যাল মিডিয়াতে এসেও লেগেছে। অধ্যাপক সায়ীদের একজন প্রিয় ছাত্র Abdun Noor Tushar তার ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন -
সং দের সমাহারে সং কথা বলে, সং গীত হার মানে সং কথা তলে, কাকে নিয়ে কথা বলে সং রা কি জানে? শত সং একসাথে তাঁর কি সমানে?
এর জবাবে Onindo Shahadat মন্তব্য করেছেন -
ভং ধরে সং হয়েছে/ ধরাকে করেছে সরা......বিচার বুদ্ধি লোপ পেয়েছে/ আগা থেকে গোড়া
খবরটি প্রকাশ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই আহমাদ মাযহার বিষয়টি নিয়ে একটি নোট লিখেছেন- ‘ঠাকুর ঘরে কে রে?’ এই প্রশ্ন শোনা মাত্র কে বলবে, ‘আমি কলা খাই না!’ সেখানে লেখক Ahmad Mostofa Kamal ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন -
আপনি ভুল না দেখলেও উনারা দেখেন! যে ভাষায় আজকে উনারা কথা বলেছেন, তাতে মনে হচ্ছে - উনাদের সমালোচনা করে একটি শব্দও উচ্চারণ করা যাবে না! করলেই তলব! আশ্চর্য একটা অসহিষ্ণু সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছি আমরা।
Hasin Hayder মন খারাপ করে লিখেছেন -
আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ আমার অত্যন্ত পছন্দের একজন মানুষ, তাঁকে আমি অনেক শ্রদ্ধা করি। আজ কেন যেন হঠাৎ ছোটবেলায় পড়া সক্রেটিসের এবং গ্যালিলিওর গল্পগুলো মনে পড়ে যাচ্ছে। আমরা কি আসলে ষোড়শ শতাব্দীতে প্রত্যাবর্তন করছি? মনটা খুব খারাপ আজ :(
Shoeb Amin নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী মন্তব্য করেছেন - "আবু সায়ীদ স্যারকে কি ন্যায়-নীতি এদের কাছ থেকে শিখতে হবে? এরা আর কত সার্কাস করবে?" Lenin Ghazi তার স্ট্যাটাস দিয়েছেন এভাবে -
আব্দুল্লাহ আবু সায়্যীদ এক সাংসদের এলাকার 'ফুঠার'দের অফমান করেছেন। তাকে ফ্রয়োজনে সংসদে নিয়ে বিচার করে গণতন্ত্রের সুরক্ষার আশু প্রয়োজন।
Azharul Islam Shihab তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন-
সংসদ সদস্যরা হচ্ছেন দুধে ধোয়া কুত্তার গু। তারা কুত্তার বাচ্চা। তারা কুত্তার গু খায়। তারা কুত্তার মুত খায়। তারা গরিবের হক মারে। তারা গরিব মারে। তারা একটু করে, অনেক খায়, 'খাই না' বলে আরো বেশি। তাদেরকে পাবলিক পারলে থাপড়ে দাঁত ফেলে দিত।
Mahfuza Khanam Jyoti লিখেছেন -
চোরকে চোর বললে ক্ষমতা কেন চাইতে হবে? আজব!
এর উত্তরে একজন লিখেছেন, কবি বলিয়াছেন কানাকে কানা বলিও না। তবে Kazi Afroza Sultana Sumi একটি উপায় বের করে দিয়েছেন। তিনি লিখেছেন,
আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ এই বিপদ থেকে বাঁচতে চাইলে জাফর ইকবালের মতো হালকা আদর করে কিছু কলাম লিখতে পারেন।
Ismail Hossain নামের একজন ফেসবুক ব্যবহারকারী তার আক্ষেপ প্রকাশ করতে গিয়ে লিখেছেন -
আমাদের দেশের মন্ত্রী-এমপিদের একমাত্র নীতি হলো দেশটাকে ইচ্ছেমতো লুটপাট করা। আর আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার বললেন, আমাদের মন্ত্রী-এমপিদের কোনো নীতি নেই। তিনি ভুল বলেছেন। স্যার নিশ্চয়ই এই বিষয়ে একটা বিবৃতি দিয়ে তার বক্তব্যের ভুলটি সংশোধন করে আবার জনগণকে জানাবেন যে, মন্ত্রী-এমপিদের নীতি আছে- আর তা হচ্ছে লুটপাট, লুটপাট এবং লুটপাট।
আমরা জানিনা বিষয়টি কোথায় গিয়ে দাড়াবে। আমাদের মতো পুরো জাতি তাকিয়ে থাকবে নাটকের এই দৃশ্যটি দেখার জন্য। তবে মানুষ আশংকা প্রকাশ করছেন যে, দেশে এখন বাক স্বাধিনতা নেই। সন্মানীয় মানুষ কিছু বললে তাকে অপমান করা হয়। এবং অনেকেই বলছেন, আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদকে এই অপমানের ভার এই দেশকে অনেক দিন বইতে হবে। মানুষ ক্ষেপে গিয়ে এমন কথাও বলতে শুরু করেছে - "যার নখের যোগ্য নন তাঁর প্রতি এমন উক্তির ধৃষ্ঠতার জন্য, জাতির বিবেককে অপমানের জন্য আলী আশরাফকে সংসদ থেকে বহিষ্কার করতে হবে এবং প্রকাশ্য রাজপথে দাঁড়িয়ে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।" এভাবে ছড়াতে শুরু করেছে মানুষের ঘৃণার কথা, প্রতিবাদের কথা। আরো কিছুক্ষণের মধ্যেই হয়তো আরো অজস্র মন্তব্যে ভরে উঠবে ফেসবুক, টুইটার এবং বাংলা ব্লগগুলো। আমরা প্রতিনিয়ত সেগুলো সংগ্রহ করে আপডেট করে দিবো এই পেজটি।