ছবি সংগৃহীত

দুই দলের ফাঁদে দেশ

বিএনপি-লীগ পরস্পরের ফাঁদে পড়ে আছে। অতীতে আরেকবার এরকম ফাঁদে মাইনাস হতে হতে ঠেকায় পড়ে হাতে হাত রেখে তারা একসাথে বেঁচেছিল। এবারও দুজনকে হয় একসাথে বাঁচতে হবে, নতুবা সহমরণে যেতে হবে। আলাদা করে কউ বাঁচবে না।

ফারুক ওয়াসিফ
লেখক
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৫, ১০:৪৭ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০১৮, ১৬:৫৪
প্রকাশিত: ২৪ জানুয়ারি ২০১৫, ১০:৪৭ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০১৮, ১৬:৫৪


ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশ কতটা বিপন্ন সেটা বলবার বুঝবার জানাবার কেউ নাই। এই বিপদের কথা ২০০৬ সাল থেকে বলে আসছি, কোনো লাভ হয় নাই। সরকার বিএনপি-মানুষ মারছে, বিএনপি দুর্বল মানুষ মারছে। বিএনপির মানুষ-মারার গতি বাড়িয়ে দিচ্ছে সরকার-মিডিয়া। আলোকিত প্রতিবাদ বুঝিয়ে দিচ্ছে, সব মরণ নয় সমান। সরকারি মার তাদের কাছে প্রগতির আদর। মিডিয়ায় ‘সাধারণ মানুষ’ মরিলে খবর হয়, আর সব মানুষ যেন রোহিঙ্গার সমান। সরকার দেশ-দখল করছে, বিএনপি সেই ‘দেশ’ মেরে সরকারকে মারতে চাইছে--দেশ বেহাত হচ্ছে। মিডিয়া বেহুশ। বিএনপি-লীগ পরস্পরের ফাঁদে পড়ে আছে। অতীতে আরেকবার এরকম ফাঁদে মাইনাস হতে হতে ঠেকায় পড়ে হাতে হাত রেখে তারা একসাথে বেঁচেছিল। এবারও দুজনকে হয় একসাথে বাঁচতে হবে, নতুবা সহমরণে যেতে হবে। আলাদা করে কউ বাঁচবে না। বিএনপিকে শেষ করতে গিয়ে টিকে যাচ্ছে জামাত। এই বীজগণিতে হারু পাট্টি নিশ্চিতভাবেই বাংলাদেশ ও তার জনগণ। সমতলে-পাহাড়ে, সীমান্তের চারধারে বিপদের জ্বলন্ত কাঁটাতার। বিএনপি বিধ্বস্ত, সরকার জনবিচ্ছিন্ন। গণতন্ত্র এবং রাষ্ট্রীয় স্বাধীনতার জবরদখলের সহযোগী হিসেবে কলংকিত। অতএব জামায়াতই দেশমাতৃকার ভরসা! এভাবেই লেখা হচ্ছে একাত্তরের অ্যান্টিথিসিস; এই থিসিসের নায়ক আওয়ামী লীগ, নায়িকা বিএনপি। মামলাটা রুবেল-হ্যাপির মডেলের। সুশীলরা মওকাবাজ, ‘মুক্তিযুদ্ধবাদীরা’ স্বাধীনতা ভিনদেশি ভল্টে গচ্ছিত রাখার সুদী তাঁবেদার। বামেরা দেখতে দেখতে বা হাত মেলাতে মেলাতে বেভুল-বাতিল। হাতে রইলো ইসলাম, যার কোনো মা-বাপ বর্তমানে নাই। যারা মানুষ বাঁচানোর কথা বলে, মানুষের চাইতে জনবিরোধী প্রগতিই তাদের বেশি দরকার। জীবনের থেকে সংস্কৃতি-উন্নয়ন ইত্যাদিকে বড় করা ফ্যাসিবাদের ঠমক, কী জার্মানিতে কী ভারতে। সবদিক থেকে যে মরছে সে ১. গণপ্রজাতন্ত্রী ২. (মুক্তিযুদ্ধের) স্বাধীন ৩. সার্বভৌম ৪. বাংলাদেশি (হিন্দু-মুসলমান) ৫. নাগরিক (পাহাড়ি-আদিবাসী) ৬. মানুষ। প্রথম পাঁচটিকে না মেরে ষষ্ঠতম বেচারাকে মারা সম্ভব না। তবে এর জন্য ৫ জানুয়ারির একটি ঢিলই যথেষ্ঠ ছিল। এটুকু যদি বুঝেন, তাহলে লীগ-বিএনপির দায় বুঝবেন, ভারত-আমেরিকার খেলা বুঝবেন। ওয়ার অন টেররের নতুন কৌশল সামাজিক-সংঘাত থেকে সাংস্কৃতিক সংঘাতের মারণলীলা বুঝবেন। ডিপ পলিটিক্স বুঝবেন। গলায় ফাঁস লাগলে বেশি নড়াচড়ায় আয়ু আরো কমে। না বুঝে যাই করবেন, বিপদ বাড়বে। বুঝে করলে জান গেলেও ভবিষ্যত বাঁচতে পারে। এই দুষ্কালে সপরিবারে দেশি হলে হিন্দি সিনেমা দেখে সপরিবারে কাবাব হওয়ার মধ্যে পার্থক্য করাই বেঁচে থাকার কৌশল। [মতামত একান্তই লেখকের ব্যক্তিগত। এজন্য সম্পাদক দায়ী নয়।]