ছবি সংগৃহীত

নাটক এবং পাল্টা নাটকে উত্তাল মিরপুর!

এবার অভিযোগের তীর বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দল সিলেট সুপার স্টার্সের দিকে।

কাওসার মুজিব অপূর্ব
লেখক
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৫, ০৯:৪২ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮, ০২:৩৭
প্রকাশিত: ২৩ নভেম্বর ২০১৫, ০৯:৪২ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮, ০২:৩৭


ছবি সংগৃহীত

মাঠে নেমেও মাঠ থেকে বের হয়ে যান তামিম-দিলশান। ছবি: প্রিয়.কম

(প্রিয়.কম) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মাঠে গড়াতে না গড়াতেই নাটক আর পাল্টা নাটকে উত্তাল হয়ে উঠলো মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম। একদিন আগেই অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল ঢাকা ডাইনামাইটসের বিপক্ষে, আর এবার অভিযোগের তীর বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের দল সিলেট সুপার স্টার্সের দিকে।

বিপদটা শুরু হয় টসের আগে থেকেই। টস করতে মুশফিকের আগেই পিচে পৌঁছে গিয়েছিলেন তামিম ইকবাল। মিনিট দশেক চলে গেলেও দেখা মিলছিলো না মুশফিকের��� ওই সময়ে ড্রেসিংরুমের বাইরে সিলেট সুপার স্টার্সের কর্মকর্তাদের ব্যস্ত ভঙ্গীতে ফোনে কথা বলতে দেখা যায়। সবার আচরণই ছিল রহস্যজনক।

আর যখন মুশফিক আসলেন টস করতে তখনই আসল সমস্যাটা বোঝা গেল!

সিলেটের একাদশে দেখা গেল নয় জন দেশি ও দুই জন বিদেশি খেলোয়াড় (অজন্তা মেন্ডিস ও দিলশান মুনাবীরা)। কিন্তু, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের দেয়া নীতিমালা অনুযায়ী প্রত্যেকটা ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতিটি ম্যাচে অন্তত চারজন করে বিদেশি খেলোয়াড় রাখতে হবে।

তাই, প্রথম এটা নিয়ে আপত্তি তোলে চিটাগং ভাইকিংস। কেন এই সমস্যা? সমস্যা হল সিলেট সুপার স্টার্সের দুই বিদেশি খেলোয়াড় নিয়ে। তারা হলেন ইংল্যান্ডের জশুয়া কব ও রবি বোপারা। তাদের এনওসি না থাকায়, তাদের একাদশে রাখতে পারেনি সিলেট।

কিন্তু, টসের পর যখন তামিম ইকবাল ও তিলকারত্নে দিলশান চট্টগ্রামের হয়ে ওপেন করতে নামেন তখন দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। কারণ, টসের পরই একাদশ পাল্টে ফেলে সিলেট। কোন ক্রমে ওই দুই ক্রিকেটারের এনওসি জোগার করে তাদের মাঠে নামিয়ে দেয়।

কিন্তু, সেখানে পাল্টা আপত্তি তোলেন তামিম। কারণ, টসের আগে তাকে যে একাদশ দেখা হয়, টসের পরে তাকে না জানিয়েই বদলে ফেলা হয় সেটা। তাই খেলতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি দিলশানকে নিয়ে মাঠ থেকে বের হয়ে যান।

এরপর ড্রেসিংরুমের বাইরে চিটাগং ভাইকিংসের পরামর্শক ও জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খান, বোর্ডের প্রধান নির্বাহী নিজামুদ্দিন চৌধুরী ও মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুস চৌধুরীকে কথা বলতে দেখা যায়।

এরপর খানিকবাদে নানা রকম নাটক ও পাল্টা নাটকের পর আবারও দুই দলের মধ্যে মধ্যস্ততা হয় এবং চিটাগং দুই বিদেশি ও নয় দেশি খেলোয়াড়ের সিলেটের বিপক্ষেই মাঠে নামে। তবে, এখানেও বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের চারজন বিদেশি ক্রিকেটার খেলানোর নিয়ম ভঙ্গ করা হয়।

কেন এই দুই ক্রিকেটারের এনওসি পেতে এতো দেরী? এমন প্রশ্ন ক্রিকেট বিষয়ক ওয়েবসাইট ইএসপিএন ক্রিকইনফোর পক্ষ থেকে করা হয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান জালাল ইউনুসকে। জবাবে তিনি বলেন, ‘গত সাত দিন ধরে ওদের আমরা এই ব্যাপারে সতর্ক করে আসছিলাম।’

আশার কথা হল, এতো কিছুর পরও নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর মাঠে গড়ালো ম্যাচ। তবে, একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে – এমন অনিয়ম আর নাটকের মধ্য দিয়েই চলবে বিপিএলের তৃতীয় আসর?

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...