ছবি সংগৃহীত

বাংলাদেশের প্রধান সমস্যা হতে চলেছে বেকারত্ব

দিন দিন বেড়েই চলেছে বাংলাদেশে বেকারত্বের সংখ্যা। ক্রমান্বয়ে প্রকট আকার ধারণ করছে এ সমস্যা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দাসহ বিভিন্ন কারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। এদিকে নতুন করে চাকরিহারা হচ্ছেন অনেকেই।

রাজিউল হাসান
লেখক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৪, ০৭:৪৫ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:১০
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৪, ০৭:৪৫ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০১৮, ২৩:১০


ছবি সংগৃহীত
দিন দিন বেড়েই চলেছে বাংলাদেশে বেকারত্বের সংখ্যা। ক্রমান্বয়ে প্রকট আকার ধারণ করছে এ সমস্যা। রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক মন্দাসহ বিভিন্ন কারণে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হচ্ছে না। এদিকে নতুন করে চাকরিহারা হচ্ছেন অনেকেই। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা, কমনওয়েলথসহ একাধিক সংস্থার সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী গত এক দশকে বাংলাদেশে বেকারত্ব বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ, কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার কমেছে ২ শতাংশ। এই হার বজায় থাকলে ২০১৫ সালে মোট বেকারের সংখ্যা দাঁড়াবে ৬ কোটিতে। শিক্ষিত জনসাধারণের মধ্যে এই হার সবচেয়ে বেশি। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা আইএলওর সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে বর্তমানে বেকারত্ব বাড়ার হার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতি বছর কর্মবাজারে প্রবেশ করছে প্রায় ২৭ লাখ আর চাকরি পাচ্ছে ১ লাখ ৮৯ হাজার। অর্থাৎ মাত্র ৭ শতাংশ। আইএলওর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে মোট জনসংখ্যার ৪০ শতাংশ বেকার, বর্তমান কর্মসংস্থান প্রবৃদ্ধির হার ২ দশমিক ২ শতাংশ। মোট বেকারের মধ্যে আংশিক বা পার্ট টাইম বেকারের সংখ্যাই বেশি। এদিকে বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের সূত্র মতে, গত ছয় মাসে শিল্প খাত থেকেই প্রায় ১০ লাখ লোক কাজ হারিয়েছেন। নির্মাণ খাত, কৃষি, পোলট্রি এবং সেবা খাতেও পড়েছে বিরূপ প্রভাব । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট কর্মজীবী মানুষের ৮৭ দশমিক ৫ শতাংশ অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত, যেমন পরিবহন, হোটেল-রেস্তোরাঁ, ডেকোরেশন ও বিভিন্ন সেবা খাতে নিয়োজ��ত। আর মাত্র ১২ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ প্রাতিষ্ঠানিক খাতে নিয়োজিত। নতুন কর্মসংস্থানের বিকল্প পদ্ধতি দেশের বাইরে অভিবাসন। কিন্তু সেখানেও চলছে স্থবিরতা। দেশের ইতিহাসে এই প্রথম রেমিট্যান্স কমে গেছে। চলতি বছরের ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত রেমিট্যান্স এসেছে ১৩ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। এটি গত বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৭৬ শতাংশ কম। উৎপাদনশীল খাতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হওয়ায় ব্যাংকগুলোর বিনিয়োগ বাড়ছে না। নভেম্বর পর্যন্ত স্থানীয় বিনিয়োগ নিবন্ধন কমেছে আগের তুলনায় ৪০ শতাংশ। আর ব্যাংকঋণ বেসরকারি খাতে প্রবৃদ্ধি কম। রাজস্ব ঘাটতি প্রায় সাড়ে পাঁচ হাজার কোটি টাকা। রাজধানীর বিভিন্ন রেন্ট-এ কার প্রতিষ্ঠানের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা গত ছয় মাস ধরে লোকসান দিয়ে যাচ্ছেন। এখন অনেকেই গাড়ি বিক্রি করে দিতে চাইছেন। এমনকি তাদের কয়েকটি গাড়ির চালক ঢাকা ছেড়ে চলে গেছেন। কারণ ট্রিপ না থাকায় ওদের বসে থাকতে হচ্ছে। নির্মাণ ও আবাসন খাতে প্রায় ৩ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৪০ লাখ মানুষ জড়িত। তৈরি পোশাক খাতের পরেই এ খাতের অবস্থান। এ খাতে এখন বিনিয়োগ প্রায় ৯৬ হাজার কোটি টাকা। অথচ গত এক বছর থেকে কোনো প্রবৃদ্ধি নেই। কৃষি খাতেও চলছে দুরবস্থা। রাজধানীর কারওয়ান বাজারের একাধিক বিক্রেতা বলেছেন, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পণ্য আনতে যে খরচ হচ্ছে তার অর্ধেক দামও নেই পণ্যের। ফলে তারা পণ্য আনতে পারছে না। এদিকে ব্যবসায়ীরা বলছেন, হরতাল ও অবরোধের কারণে দেশের বিভিন্ন বন্দরে আটকে থাকছে অনেক খাদ্যসামগ্রী, যার প্রভাব পড়ছে খুচরা বাজারে। বন্দরগুলো শুক্র ও শনিবারসহ খোলা রেখেও পণ্য ছাড়ানো যাচ্ছে না। কনটেইনার ও পরিবহনের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে পণ্য খালাস ও উত্তোলন। পর্যটন খাতেও স্থবিরতা চলছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় অবকাশযাপন ও পর্যটনকন্দ্রে ভিড় নেই। বিশ্বের বৃহত্তম সমুদ্র সৈকত কক্সবাজারের হোটেলগুলোতে প্রতি বছর অক্টোবর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিল ধারণের জায়গা থাকে না। অথচ বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশন থেকে জানা গেল, বর্তমানে শুধু কক্সবাজার নয়, দেশের কোনো পর্যটন কেন্দ্রেই নেই তেমন কোনো পর্যটক। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সূত্র মতে, বর্তমানে বাংলাদেশে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা প্রায় দেড় কোটি। ২০০০ সালের তথ্য অনুযায়ী শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা ছিল প্রায় ৮ লাখ এবং আন্ডার এমপ্লয়মেন্টের শিকার প্রায় ৫৫ লাখ। পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি বছর প্রায় ১ লাখ শিক্ষিত বেকার শ্রমবাজারে আসছে। যার মধ্যে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শ্রমবাজারে প্রবেশ করছে প্রায় ৫০ হাজার। এর মধ্যে ৪৫ শতাংশ চাকরি পেলেও প্রায় ৫৫ শতাংশ বেকার থাকছে কিংবা যোগ্যতা অনুযায়ী চাকরি পাচ্ছে না।