ছবি সংগৃহীত

বিশ্বের ৩০টি দেশে ‘বাংলাদেশ নেক্সট’ ব্র্যান্ডিং করেছে বেসিস: রাসেল টি আহমেদ

সম্প্রতি দেশের আইটি খাতে বেসিসের অবদান এবং প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রিয়.কম-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন তথ্য জানালেন বেসিসের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি <strong>রাসেল টি আহমেদ</strong>। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন <em>ফারহাত আহমেদ</em>।

farhat
লেখক
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০১৪, ০৭:২০ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮, ০০:৩৯
প্রকাশিত: ২৯ অক্টোবর ২০১৪, ০৭:২০ আপডেট: ২৯ মার্চ ২০১৮, ০০:৩৯


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) সফটওয়্যার ও আইটি খাতে নিরলসভাবে কাজ করছে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস)। মোটামুটি সারা বছরই কোনো না কোনো সেমিনার, কর্মশালা কিংবা আইটি বিষয়ক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আসছে বেসিস। ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মানে সরকারের এটুআই প্রকল্পের সঙ্গেও কাজ করছে দেশের সর্ববৃহৎ এই আইটি প্রতিষ্ঠান। সম্প্রতি দেশের আইটি খাতে বেসিসের অবদান এবং প্রতিষ্ঠানটি বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে প্রিয়.কম-এর সঙ্গে একান্ত সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন তথ্য জানালেন বেসিসের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রাসেল টি আহমেদ। সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন ফারহাত আহমেদপ্রিয়.কম: ম্যানিলাতে আইটি-বিপিএম সামিটে বেসিসের কার্যক্রম কি? সামিটে বেসিস কি কি বিষয়ের উপর গুরুত্ব দিচ্ছে? রাসেল টি আহমেদ: গত ১২ অক্টোবর থেকে ১৪ অক্টোবর ফিলিপাইনের ম্যানিলাতে অনুষ্ঠিত হয় তিনদিন ব্যাপী ইন্টারন্যাশনাল আইটি-বিপিএম সামিট। তথ্যপ্রযুক্তির পরবর্তী গন্তব্যস্থল হিসেবে বাংলাদেশকে তুলে ধরতে সামিটে অংশ নেয় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস), তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিভাগ ও বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি)। আইসিটি বিভাগের সচিব শ্যাম সুন্দর শিকদারের নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের সঙ্গে ছিলেন বেসিসের নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদ। স্যামসাং, ক্যাপিটাল ওয়ান, অ্যাকসেন্সার, কগনিজান্টসহ শীর্ষস্থানীয় বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের ফলে ফিলিপাইন বিশ্বের বৃহত্তম বিজনেস প্রসেস আইটসোর্সিং (বিপিও)-এর গন্তব্যস্থল হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। সামিটে এসব কোম্পানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এতে প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিভিন্ন সেশন অনুষ্ঠিত হবে। আর তাই সামিটে বাংলাদেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের বর্তমান পেক্ষাপট ও সম্ভাবনা তুলে ধরতে একটি স্টল নেয়া হয়। সামিট চলাকালীন বেসিসের নির্বাহী পরিচালক সামি আহমেদসহ বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল ফিলিপাইনের তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন এবং দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্যিক সম্ভাবনাকে তুলে ধরেন। এছাড়া তারা শীর্ষ বিপিও কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধির সঙ্গে আলোচনা করেন এবং বাংলাদেশে বিনিয়োগের সম্ভাবনার কথা বলেন। প্রিয়.কম: দুবাইতে জাইটেক্স মেলায় বেসিসের কার্যক্রম কি কি? রাসেল টি আহমেদ: গত ১২ অক্টোবর থেকে ১৬ অক্টোবর মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার সর্ববৃহৎ ‘জাইটেক্স টেকনোলজি উইক ২০১৪’ তথ্যপ্রযুক্তি মেলা অনুষ্ঠিত হয়। দুবাই ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার এর উদ্যোগে দুবাই ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন অ্যান্ড এক্সিবিশন সেন্টারে পাঁচদিন ব্যাপী আয়োজিত এই মেলায় রপ্তানী উন্নয়ন ব্যুরোর সহযোগিতায় বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব সফটওয়্যার অ্যান্ড ইনফরমেশন সার্ভিসেস (বেসিস) প্রতিবারের মত মেলায় অংশগ্রহণ করে। বেসিসের পাঁচটি সদস্য কোম্পানি এই মেলায় অংশ নেয়। অংশগ্রহণকারী কোম্পানিগুলো হলো- আমরা নেটওয়ার্কস লিমিটেড, দীপন কনসালটেন্সি সার্ভিসেস লিমিটেড, ইনফিনিটি টেকনোলজি ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড, লিডসফট বাংলাদেশ লিমিটেড এবং রিভ সিস্টেমস লিমিটেড। এছাড়াও বেসিসের আরো দুইটি সদস্য কোম্পানি নিজ উদ্যোগে এই মেলায় অংশগ্রহণ করে। কোম্পনি দুটি হলো- মীর টেকনোলোজিস লিমিটেড ও সিনক্রোনাস আইসিটি। কোম্পানিগুলো তাদের বিভিন্ন পণ্য ও সেবা প্রদর্শণ করে। তারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিটুবি মিটিং করেন। এছাড়া বিনিয়োগের সুবিধা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন। বেসিস এর প্রতিনিধি হিসেবে এর ইন্টারন্যাশনাল মার্কেট ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ফারহানা এ রহমান মেলা পরিদর্শন করেন। এছাড়া তিনি আইটিসির এনটিএফ-৩ প্রকল্পের অধীনে ‘উইমেন ইন আইটি’ শীর্ষক একটি নীতিনির্ধারণী ফোরামে অংশগ্রহণ করেন। প্রিয়.কম: বাংলাদেশ ব্র্যান্ডিংয়ে আগামীর পরিকল্পনা রাসেল টি আহমেদ: বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তির পরবর্তী গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিচিত করতে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে ‘বাংলাদেশ নেক্সট’ ব্র্যান্ডিং করেছে বেসিস। আগামীতে দ্বিপাক্ষীয় আলোচনার মাধ্যমে আরও অনেক দেশে সামিট, বিটুবি মিটিংসহ নানা প্রোগ্রাম করা হবে। প্রিয়.কম: ওয়ান বাংলাদেশ বাস্তবায়নের কতখানি অগ্রগতি হয়েছে? রাসেল টি আহমেদ: আমাদের প্রধান ফোকাস হচ্ছে বেসিসের ‘ওয়ান বাংলাদেশ’ ভিশনকে সামনে রেখে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচির সাথে একাত্ম হয়ে কাজ করা। আগামী ৫ বছরের মধ্যে ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রপ্তানী আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন, ১০ লাখ আইটি প্রফেশনাল তৈরি এবং প্রতিবছর এক কোটি করে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্যে কাজ করা হচ্ছে। একইসাথে দেশের অভ্যন্তরীন বাজার ২-৩ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করা হবে। যার মাধ্যমে আগামী ২০১৮ সালের মধ্যে জিডিপিতে সফটওয়্যার ও এ খাতের অবদান হবে এক শতাংশ (১%)। আর এসব লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করে যাচ্ছে বেসিস। তথ্যপ্রযুক্তিতে দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে বেসিস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিআইটিএম) প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যেখানে সরকারের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ, বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ বিভিন্ন দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা দক্ষতা উন্নয়নের প্রশিক্ষণ পান। পাশাপাশি দেশের অন্যান্য প্রশিক্ষণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গেও বেসিস যৌথভাবে কাজ করছে। বাংলাদেশকে তথ্যপ্রযুক্তির পরবর্তী গন্তব্যস্থল হিসেবে পরিচিত করতে বিশ্বের প্রায় ৩০টি দেশে ‘বাংলাদেশ নেক্সট’ ব্র্যান্ডিং করেছে বেসিস। আমরা ইউরোপ, আমেরিকা, সিঙ্গাপুরসহ বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন মেলা, ইনভেস্টমেন্ট সামিট ও ফোরামে অংশগ্রহণ করছি। এর মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনা বাড়ছে ও দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন পণ্য ও সেবা বিদেশে বিক্রি হচ্ছে। দেশের ইন্টারনেট ব্যবহারকারী বাড়াতে গ্রামীণফোনসহ বিভিন্ন মোবাইল অপারেটরগুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করা হচ্ছে। ঠিক এই মুহুর্তে অগ্রগতির পরিমাণ নির্ধারণ সম্ভব না হলেও বলা চলে অনেকটাই অগ্রগতি হয়েছে। ওয়ান বাংলাদেশ বাস্তবায়ন সম্ভব। তবে কিছুটা চ্যালেঞ্জ রয়েছে। সরকারি, বেসরকারি প্রতিষ্ঠানসহ নন-আইটি প্রতিষ্ঠান ও প্রফেশনাল সর্বোপরি সবার সহযোগিতার মাধ্যমে ২০১৮ সাল নাগাদ ওয়ান বাংলাদেশ ভিশন বাস্তবায়ন হবে।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...