ছবি সংগৃহীত

রাজনীতিতে প্রযুক্তি

এই যুগে প্রযুক্তি মানুষকে বিপ্লবী করে তুলছে আর ভারত-বাংলাদেশ বা এশিয়ার অন্যান্য দেশেও প্রযুক্তির অনেক প্রভাব আছে। প্রযুক্তি সবার জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করেছে।

মিজানুর রহমান
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৫, ০৯:৩২ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৬
প্রকাশিত: ১১ জানুয়ারি ২০১৫, ০৯:৩২ আপডেট: ১৭ আগস্ট ২০১৮, ১৩:১৬


ছবি সংগৃহীত
(প্রিয়.কম) এই যুগে প্রযুক্তি মানুষকে বিপ্লবী করে তুলছে আর ভারত-বাংলাদেশ বা এশিয়ার অন্যান্য দেশেও প্রযুক্তির অনেক প্রভাব আছে। প্রযুক্তি সবার জন্য লেভেল প্লেইং ফিল্ড তৈরী করেছে। প্রযুক্তি রাজনীতিকদের জন্য যা, আবার একজন কৃষকের জন্যও তা, প্রধানমন্ত্রীর জন্য এটা যে সুবিধা দেবে, একজন সাধারণ ভোটারের জন্য একই সুবিধা দেবে। এই প্রযুক্তি বর্তমান বিশ্বে যেসব ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে, তার অন্যতম বড় প্রভাব ফেলছে রাজনৈতিকদের উপর। এটা ভালো-খারাপ দু-ই হতে পারে। এই যেমন, একটা সময় ছিলো, যখন আপনি অনেক বড় নেতার দ্বারা নির্যাতনের শিকার হলেন, বা নেতার বিরুদ্ধে আপনার কোনো অভিযোগ আছে, কিন্তু সেটা কিভাবে বলবেন আপনি? মিডিয়ার কাছে যাবেন? মিডিয়া সবসময় সেটা প্রচার করবে সেই নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলোতে তো সেই আশায় গুঁড়েবালি। কিন্তু এখন! মিডিয়া তো আপনার হাতেই। আপনিই এর সম্পাদক এবং প্রকাশক! আবার রাজনীতিকদের জন্য এই প্রযুক্তি হচ্ছে জনগণের সাথে সেতুবন্ধনের অন্যতম হাতিয়ার। ভারতীয় লোকসভার সদস্য জয় পান্ডা সম্প্রতি রাজনীতিকদের জীবনে প্রযুক্তির বন্দনা করে তাঁর এক ব্লগে লিখেছেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জনগণের কাছাকাছি আসতে পেরেছি আমি। এখানে কোনো প্রটোকলের সিস্টেম নেই। এখানে যে কেই আমার যেমন সনাম করতে পারে একইভাবে আমার সমালোচনাও করতে পারেন তাঁরা। আবার যাঁদের ভোটে আমি নির্বাচিত হলাম, তারা আসলে আমার কাছে কি চায়, সেটা জানারও সহজ মাধ্যম এই প্রযুক্তি। তিনি লিখেছেন, প্রতিদিন আমি, জনগণের সাথে শতশত ক্ষুদেবার্তা বিনিময় করি। এটা জনগনের কাছ থেকে দুরে থেকেও কাছে থাকার আনন্দ দেয়।
নরেন্দ্র মোদির জয়ে বড় ভূমিকা রয়েছে প্রযুক্তি বান্ধব নির্বাচনী প্রচারণা
রাজনীতিতে প্রযুক্তির ভূমিকা সম্পর্কে জানতে হলে আমাদের খুব বেশি দূরে যেতে হবেনা। এই যে সম্প্রতি ভারতে লোকসভা নির্বাচন হয়ে গেলো, এটাকে অনেকে বলেছেন ওয়ান ম্যান শো। নরেন্দ্র মোদি শো। এই নির্বাচনে দলের চেয়ে ব্যাক্তি নরেন্দ্র মোদি অনেক বেশি আলোচিত ছিলেন। বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচনী বাজেটের একটি বড় অংশ ব্যায় করা হয়েছে প্রযুক্তির মাধ্যমে বা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে প্রচারণার জন্য। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের যে ভরাডুবি হয়েছে, অনেক সমালোচক এটার জন্য কংগ্রেসের আরো বেশিমাত্রায় প্রযুক্তিবান্ধব না হওয়াকে দায়ী করেছে।
বারাক ওবামার জয়েও বড় অবদান এই প্রযুক্তির
আসলে ব্যপারটাই এখন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, ইন্টারনেটে সৃষ্ট বিপ্লবের মাধ্যমেই এখন পৃথীবীর অনেক দেশে ক্ষমতার পালাবদল পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে। এই যেমন, আবর বসন্ত। তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী জাইন-ইল-আবেদিন বেন আলীর দু:শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদস্বরুপ ফল বিক্রেতা মোহাম্মদ বুয়াজিজি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন (তিউনিসিয়ার পুলিশ রাস্তায় ফল বিক্রি করার অভিযোগে এই ফলবিক্রেতার সব ফল রাস্তায় ফেলে দেয়। এর প্রতিবাদে তিনি নিজের গায়ে আগুন ধরিয়ে দেন। শুধু এই একটি ঘটনাই না, দীঘদিন ধরে চলা এমন অনেক ক্ষোভের বহি:প্রকাশ ঘটিয়েছেন তিনি নিজের গায়ে আগুন দিয়ে।) এই ফলবিক্রেতার খবর সর্বপ্রথম সোশ্যাল মিডিয়াতে ছড়িয়ে পড়ে। তারপরের ঘটনা তো ইতিহাসের অংশ। সেই ক্ষোভ মুহুর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সমগ্র আরব বিশ্বে। ক্ষোভের আগুনে পুড়ে গেলো আরব বিশ্বের অনেক স্বৈরশাসকের দীর্ঘদিনের সাম্রাজ্য। একে একে পতন ঘটলো বেন আলী, মুয়াম্মার গাদ্দাফির টালমাটাল অবস্থা সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের। আরব বসন্তের প্রভাব পড়েছে আলজেরিয়া, লেবানন, জর্ডান, ওমান, সৌদি আরবসহ আরবের অন্যন্য দেশেও। ভারতের চমক সৃষ্টিকারী রাজনৈতিক সদল আম আদমি পাটির উত্থান অনেকটা ইতিহাসের মত। দিল্লীর বিধানসভা নির্বাচনী প্রচারনায় তারা ভিন্নকিছু করার তাগিদ অনুভব করলো। নির্বাচনী প্রচারনার কৌশল হিসেবে তারা প্রযুক্তিকেই বেছে নিল।
আম আদমির একটি নির্বাচনী পোষ্টার
সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমের ব্যাপক উত্থানের পর এখন রাজনীতির চালচিত্রই বদলে গেছে। রাজনীতিবিদদের এখন সবসময় জনগণের কথা মাথায় রাখতে হয়। জনগনের চাহিদার কথাও সরাসরি জানতে পারছেন রাজনীতিবিদরা। এখন তো আছেই, ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে প্রযুক্তির প্রভাব হবে আরো অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, এই প্রযুক্তি কি রাজনীতিবিদদের জন্য শুধুই ভালো কিছু, নাকি রাজনীতিবিদেরাও এই প্রযুক্তির কারনে ভুক্তভোগী? এটা কি একদলকে অন্যদলগুলোর চেয়ে বেশি সুবিধা দিচ্ছে? গবেষকরা বলছেন, এই প্রশ্নগুলো এখনো সমাজে রয়ে গেছে। হ্যাঁ, এটা ঠিক যে, প্রযুক্তির কারনে অনেক সময় রাজনীতিবিদরা বিব্রতকর অবস্থায় পড়েন, তবে অনেক ক্ষেত্রেই সেটা সমাধানযোগ্য, কারন অপব্যবহার রোধ করলেই এসব সমস্য কমে যাবে। ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে প্রযুক্তি। ওই নির্বাচনের প্রার্থীদের গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ আর একই নির্বাচনী ইশতেহারের ভিডিওগুলো মানুষ ইউটিউবে পোষ্ট করা শুরু করলো। সেই সাথে তাদের কথার সাথে কাজের কোনো মিল নেই সেটার ভিডিও প্রমানও ইউটিউবে পোষ্ট করা শুরু করলো। এমন পরিস্থিতিতে দুইপক্ষকে তাদের নির্বাচনী প্রচারকাজ সম্পর্কে আরো ভালো করে ভাবতে বাধ্য করে। ২০০৮ এর নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট ওবামার যে বিপুল বিজয় অর্জন সম্ভব হয়েছিলো এর কারন, নির্বাচনী প্রচারণায় ওবামা শিবির ফেসবুক, টুইটার, ইউটিউবসহ অন্যান্য সামাজিক মিডিয়াকে অনেক গুরুত্ব দিয়েছিলো। আগে নির্বাচনের সময় উভয়পক্ষকেই একে অন্যের সম্পর্কে জানার একমাত্র মাধ্যম ছিলো মিডিয়া। এখনো অবশ্য এই মিডিয়াই অন্যতম জানার মাধ্যম। তবে সেটা সোশ্যাল মিডিয়া। বর্তমান যুগ তথ্য প্রযুক্তির যুগ। বলা হয়ে থাকে বর্তমানে তথ্যই ক্ষমতা। [দায়মুক্তি: এই বিভাগে প্রকাশিত মতামত শুধুই লেখকের একান্ত ব্যক্তিগত। এই বিভাগে প্রকাশিত কোনো লেখা বা লেখাংশের জন্য কর্তৃপক্ষ দায়ী হনে]