ছবি সংগৃহীত

সানফ্রান্সিসকো সাবওয়ের ভাড়া সিস্টেমে বড় ধরনের ভুল বের করে দিয়েছেন বাংলাদেশি কম্পিউটার বিজ্ঞানী আসিফ হক

বাংলাদেশের ছেলে আসিফ হক একজন গেম থিওরিস্ট ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। সানফ্রান্সিসকোর সাবওয়ে বা বার্ট (BART)-এর ট্রেনে যারা যাতায়াত করেন তিনিও ছিলেন তাদের একজন। ট্রেনে চড়ার সময় বার্টের ভাড়া নেয়ার সিস্টেমের অদক্ষতা খেয়াল করেন আসিফ হক। একটি কম্পিউটার সিস্টেম কিভাবে ট্রেনের ভাড়াকে প্রতারনা করতে পারে, তাই তুলে ধরেন তিনি। বর্তমানে তিনি টুইটারে কর্মরত আছেন।

মেহেদী হরিৎ
লেখক
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১৮:০০ আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৮, ১১:২৭
প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৪, ১৮:০০ আপডেট: ২১ মার্চ ২০১৮, ১১:২৭


ছবি সংগৃহীত
বাংলাদেশের ছেলে আসিফ হক একজন গেম থিওরিস্ট ও কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার। তিনি টুইটারের একজন ডাটা বিজ্ঞানী। সানফ্রান্সিসকো সাবওয়ে বা বার্ট (BART) এর ট্রেনে যারা যাতায়াত করেন তিনিও ছিলেন তাদের একজন। ট্রেনে চড়ার সময় বার্টের ভাড়া নেয়ার সিস্টেমের অদক্ষতা খেয়াল করেন আসিফ হক। তারপর এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ভাড়া কমানোর জন্য নতুন এক সিস্টেম আবিষ্কার করেন। সূক্ষ্ম গনিতের সহায়তায় তিনি বার্টের সিস্টেম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, সেই বিষয়টি তুলে ধরেন।

যেভাবে হ্যাক হলো সানফ্রান্সিসকো সাবওয়ের ভাড়া সিস্টেম

বার্ট ট্রেনের যাত্রীরা মূলত ট্রেনে ওঠার সময় টিকেট কাউন্টার থেকে একটা টিকেট বা প্লাস্টিক ক্লিপার কার্ড সংগ্রহ করেন। তারপর যে স্টেশনে তারা নামেন সেখানে গিয়ে কার্ডটি পাঞ্চ করেন। পাঞ্চ করার সাথে কার কত টাকা ভাড়া হয়েছে তা দেখানো হয়। একজন লোক কোথা থেকে উঠল এবং কোথায় নামলো তার উপর নির্ধারণ করেই ভাড়া নির্ধারণ করা হয়। একটি উদাহরণের মাধ্যমে আসিফ হকের হ্যাকিং সিস্টেমটি বর্ণনা করা যায়। একজন লোক মিলব্রা স্টেশন থেকে অ্যামবার্কাডেরো স্টেশনে যাবেন, যার ভাড়া হল ৪.৫ ডলার। আরেকজন যাত্রী গ্ল্যান পার্ক থেকে বার্কলে যাবেন, যার ভাড়া ৪.২ ডলার। ট্রেনটি যাত্রা শুরু করে মিলব্রা থেকে এবং যাত্রা শেষ হয় বার্কলিতে। মাঝখানে অ্যামবার্কাডেরো ও গ্ল্যান পার্ক। মিলব্রা থেকে বার্কলিতে যেতে ভাড়া লাগে ৫.১০ ডলার। এখন যদি প্রথম ব্যাক্তি মিলব্রা থেকে বার্কলির একটি টিকেট নিয়ে নেন তাহলে তার ভাড়া পড়ছে ৫.১০ ডলার। দ্বিতীয় ব্যাক্তি যদি অ্যামবার্কাডেরোতে নেমে প্রথম ব্যাক্তির কাছ থেকে টিকেটটি নিয়ে নেন তবে দুই জনের বেঁচে যাবে ১.৭৫ ডলার। অর্থ্যাৎ, মাঝ পথে দু'জন যাত্রী যদি তাদের টিকিটটি বিনিময় করে নেন, তাহলে দু'জনেরই লাভ। বাংলাদেশের মানুষের জন্য বিষয়টি আরেকটু খুলে বলা যেতে পারে। যাদের সাবওয়ে সম্পর্কে ধারনা আছে, তারা জানেন যে, এই ট্রেনের মাধ্যমে এক স্থান থেকে আরেক স্থানে খুব দ্রুত চলাচল করা যায়। এবং স্টেশনগুলো এমনভাবে তৈরী করা থাকে যে, টিকিট না কিনে প্রবেশ করা যায় না। এবার ধরুন, আপনি ট্রেনে করে ধানমন্ডি থেকে টঙ্গি যাবেন। এবং আপনার বন্ধু উত্তরা থেকে মহাখালি আসবেন। পুরটাই একই পথে। এখন আপনি ধানমন্ডি থেকে উঠে যদি মাঝ পথে আপনার বন্ধুটির সাথে টিকিটটি বিনিময় করে নেন (যে উঠেছিল উত্তরা থেকে), তাহলে কী দাড়ালো? আপনি যখন ট্রেন থেকে নামবেন, আপনার কাছে আছে আসলে আপনার বন্ধুটির টিকিট, আর তার কাছে চলে গেছে আপনার টিকিট। ফলে, আপনি যখন ট্রেন থেকে নামবেন, ট্রেনের কম্পউটার সিস্টেম বুঝবে, আপনি আসলে উত্তরা থেকে টঙ্গি গিয়েছেন, ধানমন্ডি থেকে নয়। এবং আপনাকে উত্তরা থেকে টঙ্গির ভাড়া কেটে রাখবে। এভাবেই ট্রেনের টিকিটিং সিস্টেমকে বোকা বানিয়ে সকল যাত্রী লাভবান হতে পারেন। শুধু জানতে হবে, কে কার সাথে টিকিট বিনিময় করে নিবে। আর স্মার্টফোনের একটি অ্যাপ খুব সহজেই এই কাজটি করতে পারে। আসিফ হক এমন একটি সিস্টেম তৈরির কথা বলেছেন যার মাধ্যমে কে কখন কোথায় যাবেন ও কোথায় নামবেন এবং কোন ট্রেনটি কখন কোথায় থামবে তা তিনি বুঝতে পারবেন। তার এই সিস্টেমের মাধ্যমে ৪৬৬৬ জন লোক প্রতিদিন কমপক্ষে ১ ডলার করে ভাড়া ফাঁকি দেওয়ার সুযোগ পেতে পারে। স্মার্টফোনের মাধ্যমে এই সিস্টেমটিকে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে। আসিফ হক তার একটি গবেষণা পত্রে এই বিষয়টি তুলে ধরেন। এবং যদি সত্যি সত্যি এই ধরনের একটি সফটওয়্যার/অ্যাপ তৈরী করা যায়, তাহলে মারাত্মক আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে সানফ্রান্সিসকো সাবওয়েকে। আসিফ হকের এই তত্ত্বের মাধ্যমে এখন থেকে বিভিন্ন পাবলিক সেবা প্রদান করা প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের ভাড়ার পদ্ধতিগত একটি পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, আসিফ হক বর্তমানে টুইটারে কর্মরত একমাত্র বাংলাদেশী। এবং আমেরিকার বিভিন্ন মিডিয়াতে আসিফের এই গবেষণা পত্রটি নিয়ে লেখালেখি হচ্ছে। আসিফ হকের মূল গবেষণা পত্রটি এই লিংক থেকে পাওয়া যাবে - http://arxiv.org/pdf/1401.8030v1.pdf

আপডেট:

অনেক পাঠকের কাছে বিষয়টি নেতিবাচক মনে হয়েছে। তাই একটু আপডেট দেয়া জরুরী মনে করছি। এখানে আসিফ হক কিন্তু ভাড়া ফাঁকি দেয়ার সিস্টেমটি সবার জন্য উন্মুক্ত করেছেন তার গবেষণা-পত্রের মাধ্যমে। এবং তিনি সাবওয়ে কর্তৃপক্ষকে এই বিষয়ে অবগত করেছেন। এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমে তার এই গবেষণা-পত্রটি নিয়ে কথা হচ্ছে। ফলে, সাবওয়ে সিস্টেমগুলো এখন নতুন করে চিন্তা-ভাবনা শুরু করবে। একজন বিজ্ঞানী হিসেবে বিভিন্ন সিস্টেমের ভুল খুঁজে বের করা এবং তার উন্নয়ন করা একটি মৌলিক কাজ হিসেবেই বিবেচিত।

পাঠকের মন্তব্য(০)

মন্তব্য করতে করুন


আরো পড়ুন

loading ...