ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং। ছবি: সংগৃহীত

দেশে এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকিং এত জনপ্রিয় কেন

মার্চ মাস শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে খোলা মোট হিসাব সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৭টি।

ফারজানা মাহাবুবা
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ২১ মে ২০১৮, ১০:২৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৮
প্রকাশিত: ২১ মে ২০১৮, ১০:২৮ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ১৯:৪৮


ডাচ-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং। ছবি: সংগৃহীত

(প্রিয়.কম) যেসব এলাকায় ব্যাংকের কোনো শাখা নেই, সেসব এলাকায় ব্যাংকিং সুবিধা দিতে চালু হওয়া এজেন্ট ব্যাংকিং খুব দ্রুত প্রসার লাভ করছে।

নানা সুবিধা ছাড়াও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের সেবা পেতে গ্রাহককে বাড়তি কোনো চার্জ দিতে হয় না। আর এ কারণেই জনপ্রিয় হচ্ছে এজেন্ট ব্যাংকিং।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে এজেন্ট ব্যাংকিং ব্যবস্থায় ১৬টি ব্যাংকের মাধ্যমে খোলা মোট হিসাব সংখ্যা ১৪ লাখ ৬৮ হাজার ৭৯৭টি। অর্থাৎ সাড়ে ১৪ লাখের বেশি মানুষ এজেন্টের মাধ্যমে ব্যাংকিং সুবিধার আওতায় এসেছে।

এসব হিসাবে মোট আমানতের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৩৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। হিসাবপ্রতি গড়ে ১১ হাজার ১২৭ টাকা আমানত জমা হয়েছে।

২০১৭ সালের ডিসেম্বর শেষে মোট আমানতের পরিমাণ ছিল এক হাজার ৩৯৯ কোটি ৩৮ লাখ টাকা। চলতি বছরের মার্চে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক হাজার ৬৩৪ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

এদিকে চলতি বছরের মার্চ মাস শেষে  ছয়টি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে তাদের ঋণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছে। এই ব্যাংকগুলো সর্বমোট ১২২ কোটি ২৫ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

আর্থিক খাতের বিশ্লেষকরা বলছেন, জনবহুল বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখার অন্যতম প্রেক্ষাপট হিসেবে এজেন্ট ব্যাংকিং একটি ফলপ্রসূ উদ্যোগ। স্বল্প ব্যয়ে ব্যাংকিং সেবা প্রদানের একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী বিকল্প পদ্ধতি হলো এজেন্ট ব্যাংকিং।

প্রতিবেদনের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেটের মাধ্যমে খোলা মোট হিসাব সংখ্যার ৬০ শতাংশ হিসাব ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের। দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে ব্যাংক এশিয়াআল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক

ডাচ্-বাংলা ব্যাংকে সর্বোচ্চ আট লাখ ৮৪ হাজার ৬৮০টি হিসাব খোলা হয়েছে। এর পরেই তিন লাখ ৮০ হাজার ৯৩৬টি হিসাব ব্যাংক এশিয়া ও ৮৩ হাজার ৭৮৪টি আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে নতুন ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, অ্যাকাউন্টে টাকা জমা ও উত্তোলন, টাকা স্থানান্তর (দেশের ভেতর), রেমিট্যান্স উত্তোলন, বিভিন্ন মেয়াদি আমানত প্রকল্প চালু, ইউটিলিটি সার্ভিসের বিল পরিশোধ, বিভিন্ন ধরনের ঋণ উত্তোলন ও পরিশোধ এবং সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় সরকারি সব ধরনের ভর্তুকি গ্রহণ করা যায়।

এজেন্টরা কোনো চেকবই বা ব্যাংক কার্ড ইস্যু করতে পারেন না। এজেন্টরা বিদেশ-সংক্রান্ত কোনো লেনদেনও করতে পারেন না। এ ছাড়া এজেন্টদের কাছ থেকে কোনো চেকও ভাঙানো যায় না। এজেন্টরা মোট লেনদেনের ওপর কমিশন পেয়ে থাকেন।

২০১৩ সাল থেকে  বাংলাদেশ ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম গ্রহণ করে। এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মূল লক্ষ্য বাণিজ্যিক ব্যাংক কর্তৃক এজেন্ট নিয়োগের মাধ্যমে জনগণকে ব্যয়সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যাংকিং সেবা প্রদান। পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি অর্জনের সহায়ক পরিবেশ সৃষ্টি করা।

২০১৮ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ২০টি তফসিলি ব্যাংককে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার জন্য অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি ব্যাংক মাঠপর্যায়ে এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

সম্প্রতি ব্র্যাক ব্যাংকএনআরবি ব্যাংক এজেন্ট ব্যাংকিং কার্যক্রম পরিচালনার অনুমোদন গ্রহণ করেছে।

সূত্র: শেয়ারবিজ

প্রিয় সংবাদ/রুহুল