ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার সামনে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক’ ব্যানারে সংহতি সমাবেশ করেন শিক্ষকরা। ছবি: সংগৃহীত

কোটা আন্দোলন: শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও হামলাকারীদের শাস্তির দাবি

অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন যৌক্তিক এবং নৈতিকভাবে সঠিক। এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ।’

শেখ নোমান
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৭:৫৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:৪৮
প্রকাশিত: ১৯ জুলাই ২০১৮, ১৭:৫৯ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২২:৪৮


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার সামনে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক’ ব্যানারে সংহতি সমাবেশ করেন শিক্ষকরা। ছবি: সংগৃহীত

(ইউএনবি) কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলন করা শিক্ষার্থীদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি ও সারা দেশে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হয়রানির প্রতিবাদে সংহতি সমাবেশ করেছেন বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

১৯ জুলাই, বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) অপরাজেয় বাংলার সামনে ‘নিপীড়নবিরোধী শিক্ষক’ ব্যানারে শিক্ষকরা সংহতি সমাবেশ করেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক গীতি আরা নাসরিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় এবং বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ৬০ জনের বেশি শিক্ষক সংহতি প্রকাশ করেন। প্রায় ৩০০ শিক্ষার্থীও এতে অংশগ্রহণ করেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘কোটা সংস্কার আন্দোলন যৌক্তিক এবং নৈতিকভাবে সঠিক। এটি বৈষম্যের বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ। কিন্তু সরকার কোটা সংস্কারবাদীকে অবৈধভাবে হয়রানি করেছে। পুলিশ তাদেরকে কোনো ওয়ারেন্ট না দেখিয়ে গ্রেফতার করেছে এবং রিমান্ডে নিয়েছে।

কোটা সংস্কার আন্দোলনের কয়েকজন নেতাকে ঢাবি উপাচার্যের বাসভবনে হামলা করার কারণ দেখিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু আমরা বিশ্বাস করি, আমাদের শিক্ষার্থীরা উপাচার্যের বাসভবনে হামলা করতে পারে না। তাই আমরা আশা করছি, প্রশাসন আমাদের শিক্ষার্থীদের হয়রানি করবে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, ‘আমরা ঢাবিতে দুই ধরনের প্রশাসন দেখতে পাচ্ছি। একটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন আর অন্যটি সকল হলে সাধারণ ছাত্রদের ওপর অত্যাচার করা কিছু লোক দ্বারা পরিচালিত প্রশাসন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে বলছি, আপনারা যদি অন্য প্রশাসনটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে না পারেন, তাহলে আপনাদের ক্ষমতায় থাকার কোনো অধিকার নেই। আপনাদের অবশ্যই পদত্যাগ করতে হবে।’

সমাবেশে অন্যদের মধ্যে অংশ নেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক সিআর আবরার, সহযোগী অধ্যাপক তানজিমুদ্দীন খান, অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফরিদী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ফাহমিদুল হক, সহযোগী অধ্যাপক আবদুর রাজ্জাক খান।

সমাবেশ শেষে শিক্ষকরা অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে একটি মৌন মিছিল বের করেন। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে একই জায়গায় গিয়ে শেষ হয়।

প্রিয় সংবাদ/আজহার