জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম এবং একমাত্র ছাত্রী হলের নির্মাণকাজ। ছবি: সংগৃহীত

তিনবার সময় বৃদ্ধিতেও শেষ হয়নি ছাত্রী হলের নির্মাণকাজ

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের উদাসীনতাকে দায়ী করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

আয়েশা সিদ্দিকা শিরিন
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৫:২২ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২
প্রকাশিত: ১৩ আগস্ট ২০১৮, ১৫:২২ আপডেট: ২০ আগস্ট ২০১৮, ২৩:৩২


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম এবং একমাত্র ছাত্রী হলের নির্মাণকাজ। ছবি: সংগৃহীত

(ইউএনবি) তিনবার প্রকল্পের সময় বৃদ্ধির পরও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের বহুল প্রতীক্ষিত প্রথম এবং একমাত্র ছাত্রী হলের নির্মাণ কাজ শেষ হয়নি।

সর্বশেষ চলতি বছরের জুন মাসে ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ওয়াহিদ কনস্ট্রাকশন।

এ জন্য শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের উদাসীনতাকে দায়ী করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতর জানায়, স্থানীয় সমস্যার কারণে সময়মতো হলের নির্মাণকাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি।

বিভিন্ন সময়ের আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র আবাসিক হল ‘বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব’ ছাত্রী হলের প্রকল্পের প্রথম মেয়াদের কাজ শুরু হয় ২০১১ সালের জানুয়ারি। প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ২০১৩ সালের জুনে।

কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় দ্বিতীয় মেয়াদ ২০১৩ জুন থেকে ২০১৬ জুন এবং সর্বশেষ ২০১৬ জুন থেকে ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত তৃতীয়বারের মতো সময় বৃদ্ধি করা হয়।

অথচ তিনবার সময়বৃদ্ধির পরও ছাত্রী হলের ভবন নির্মাণের কাজ শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি।ঢিলেঢালাভাবে চলছে হলটির নির্মাণকাজ। ১৫ তলা পর্যন্ত ছাদ ঢালাই দিলেও এখনো অনেক কাজ বাকি।

নির্মাণাধীন ভবনটি ১৬ তলা হওয়ার কথা রয়েছে। এতে ১১১টি কক্ষ, একটি লাইব্রেরি, একটি ক্যান্টিন, একটি ডাইনিং, প্রতি তলায় সাতটি করে টয়লেট, আটটি গোসলখানা, ছাত্রীদের ওঠা-নামার জন্য চারটি লিফট থাকবে।

এগুলোর আংশিক কাজ হলেও বেশির ভাগ কাজই এখনো করা হয়নি। দরজা, জানালা, পানির পাইপ কিছুই লাগানো হয়নি। এ ছাড়া লিফট, গ্যাস লাইন ও পানির জন্য দরপত্রও আহ্বান করা হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘কাজ শেষ করে বিশ্ববিদ্যালয়কে পুরোপুরি হল বুঝিয়ে দিতে আরও এক বছর সময় লাগবে।’

প্রকল্পের কাজ দীর্ঘায়িত হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হল নির্মাণে দায়িত্বরত প্রকল্প ব্যবস্থাপক হেলাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘প্রকল্পটি ২০১১ সালে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২০১৪ সালে আমাদের হাতে বুঝিয়ে দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

চলতি বছর জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল কিন্তু ভবনের কাজ করার জন্য আশপাশে যে পরিমাণ জায়গার প্রয়োজন সেই পরিমাণ পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তাই একপাশ থেকেই কাজ চালাতে হয়েছে। একসাথে মালামাল রাখতে না পারার স্থানীয় সমস্যা এবং বিভিন্ন সময়ের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও কাজ বিলম্ব হয়েছে।’

২০১৮ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে হলটির নির্মাণকাজ পুরোপুরি শেষ করা যাবে বলে জানান ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের এই কর্মকর্তা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন কমিটির ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার প্রকৌশলী মো. ওহিদুজ্জামান বলেন, ‘হল নির্মাণকাজ বিষয়ে আমাদের কোনো এখতিয়ার নেই। এই বিষয়ে শিক্ষা অধিদফতরের প্রধান প্রকৌশলীই ভালো বলতে পারেন। আমরা বিভিন্ন সময় তাদের চাপ প্রয়োগ করেছি কাজ দ্রুত শেষ করার জন্য। তবে আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।’

প্রিয় সংবাদ/রুহুল