খণ্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

ব্যানার-প্ল্যাকার্ডে খালেদার মুক্তি দাবি

‘খালেদা ম্যাডামের মুক্তি চাই। তাকে সরকার বিনা কারণে জেলে আটকে রেখেছে। আমরা তার মুক্তি চাই, মুক্তি দিতে হবে। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, পুরো দেশবাসীর দাবি।’

মোস্তফা ইমরুল কায়েস
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৪ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৪
প্রকাশিত: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৪ আপডেট: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১৯:৩৪


খণ্ড খন্ড মিছিল নিয়ে সমাবেশস্থলে পৌঁছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। ছবি: ফোকাস বাংলা

(প্রিয়.কম) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বিএনপি আয়োজিত জনসভায় অংশ নিতে নেতাকর্মীরা দুপুর ১২টার পর থেকেই আসতে শুরু করেন। ঢাকাসহ পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে ছুটে এসেছেন তারা। কম-বেশি তাদের সবার হাতেই নানা রঙের ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড শোভা পায়। আর এসব ব্যানার ও প্ল্যাকার্ডে শুধু খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি সম্বলিত লেখাই প্রধান্য পেয়েছে।

বিএনপির আজ রবিবারের সমাবেশে যোগ দিতে যাত্রাবাড়ী, শনিরআখড়া, রুপগঞ্জ, কেরানীগঞ্জ, গাজীপুর, মুন্সিগঞ্জ, উত্তরা, টঙ্গী, পল্লবী, মিরপুর, দক্ষিণখান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ, উত্তর, গুলশান থানা, পল্টন থানা, খিলগাঁও থানা বিএনপি, যুবদল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতাকর্মীকে ব্যানার নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা গেছে। তাদের সবার স্লোগান ছিল- ‘খালেদার মুক্তি চাই- মুক্তি দিতে হবে’, ‘জেল মামলা হুলিয়া- নিতে হবে তুলিয়া’, ‘সোহেল ভাইয়ের মুক্তি চাই’ ইত্যাদি।

খালেদার মুক্তি দবি শরীরে লিখে সমাবেশে যোগ দেন এই যুবক। ছবি: প্রিয়.কম
খালেদার মুক্তি দবি শরীরে লিখে সমাবেশে যোগ দেন এই যুবক। ছবি: প্রিয়.কম

খালেদার মুক্তির আবেদনটি শুধু ব্যানার আর প্ল্যাকার্ডেই নয়, কর্মীর বুক ও শরীরজুড়েও ছিল সে দাবি। এমনই একজন কর্মী চোখে পড়ে দুপুর আড়াইটার দিকে। মৎস্য ভবনের পশ্চিম দিকে থেকে হেঁটে আসছিলেন ওই যুবক। বয়স ৩৫ বছরের মতো হবে। ওই যুবকের গলা থেকে বুকের নিচ পর্যন্ত লাল রঙে লেখা ‘খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ লেখা। আর তার পিঠজুড়ে লেখা ছিল- ‘নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন চাই’। আর মাথাজুড়ে খয়েরি রঙ করা। কোমরে তার শার্টটি বাঁধা ছিল। তাকে দেখামাত্রই কয়েকজন যুবক ঘিরে ধরলেন এবং শুরু করেন সেলফি তোলা। পরে চলে গেলেন মিছিলের ভিড়ে।

বিএনপির সমাবেশে মুন্সিগঞ্জ থেকে আগত নেতাকর্মী। ছবি: ফোকাস বাংলা
বিএনপির সমাবেশে মুন্সিগঞ্জ থেকে আগত নেতাকর্মী। ছবি: ফোকাস বাংলা

শুধু এই যুবকের মতো নয়, আরও একজনকে চোখে পড়ল মৎস্য ভবনের পুলিশ বক্সের ডিভাইডারে দাঁড়ানো অবস্থায়। তিনি সাদা রঙে বুকজুড়ে খালেদার মুক্তি এবং পিঠে ছিল নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিও।

অবশ্য যুবদল, বিএনপি, ছাত্রদল এবং মহিলা দলের কর্মীরা মিছিল করতে করতে সমাবেশের দিকে এগিয়ে গেলে পুলিশকে তাদের কোনো রকম বাধা দিতে দেখা যায়নি। মৎস্য ভবনের ট্রাফিক পুলিশকে যানজট সামলাতেই দেখা গেছে। আর মৎস্য ভবনের গেটের সামনে ছিল পুলিশের জটলা। 

মিছিল নিয়ে সমাবেশ যোগ দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ছবি: প্রিয়.কম
মিছিল নিয়ে সমাবেশে যোগ দেয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদল। ছবি: প্রিয়.কম

দুপুর ১টা। শিল্পকলা একাডেমীর গেটের পশ্চিম দেয়ালের ফুটপাতে কিছু যুবকের জটলা, কী যেন একটিকে ঘিরে ধরে তাদের মনোযোগ। কাছে গিয়ে দেখা গেল, দুই যুবক সেখানেই বসেই ব্যানার ও প্ল্যাকার্ড বানাচ্ছেন। দুই ব্যক্তির নামে বানানো হচ্ছে সেই প্ল্যাকার্ড। একটিতে খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবি, অন্যটিতে বিএনপির আরেক নেতা হাবিব-উন নবী খান সোহেলের কারামুক্তি চেয়েছেন। সেই সঙ্গে প্ল্যাকার্ডে নেতাকর্মীরা খালেদা ও সোহেলের নিঃশর্ত মুক্তিও চেয়েছেন।

কেরানীগঞ্জ থেকে আসা আসাদুল জানান, তারা সমাবেশে যোগ দেবেন বলে সকালে বের হয়েছেন। তাদের সঙ্গে প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী এখানে এসেছেন। তাদের সবার হাতেই দেওয়া হয়েছে একটি করে প্ল্যাকার্ড। তাতেও খালেদার মুক্তির দাবি লেখা ছিল।

জনসভা আনুষ্ঠানিক শুরুর আগেই ‌বিএন‌পি ও তার অঙ্গ সহ‌যোগী সংগঠ‌নে‌র বি‌ভিন্ন স্ত‌রের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে পৌঁছান। ছবি: ফোকাস বাংলা
জনসভা আনুষ্ঠানিক শুরুর আগেই ‌বিএন‌পি ও তার অঙ্গ সহ‌যোগী সংগঠ‌নে‌র বি‌ভিন্ন স্ত‌রের নেতাকর্মীরা সমাবেশস্থলে পৌঁছান। ছবি: ফোকাস বাংলা

আসাদুল বলেন, ‘খালেদা ম্যাডামের মুক্তি চাই। তাকে সরকার বিনা কারণে জেলে আটকে রেখেছে। আমরা তার মুক্তি চাই, মুক্তি দিতে হবে। এটা শুধু আমাদের দাবি নয়, পুরো দেশবাসীর দাবি।’

আসাদুলের সঙ্গে আসা রবিনের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল সবার ব্যানারে শুধু খালেদার মুক্তির বিষয়টি কেন লেখা হয়েছে। যাত্রাবাড়ীর যুবদল নেতা রবিন বলেন, ‘আমাদের এখন আর কোনো দাবি নেই। একটাই দাবি, আমাদের নেত্রীর (খালেদা) মুক্তি। এ কারণে সবার হাতেই এক দাবি।’

সমাবেশে কী হবে, তা তো আগে থেকে ঘোষণা করা হয়নি। তারপরও কেন খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্বলিত ব্যানার নিয়ে এসেছেন, এ প্রশ্নের জবাবে জাহাঙ্গীনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সোহেল রানা প্রিয়.কমকে বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য বিএনপি ঘোষিত যে কোনো কর্মসূচি পালন করতে সদা প্রস্তুত। দেশের মানুষের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠা, গণতন্ত্র পুনঃউদ্ধার, দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সকল মত প্রকাশের মাধ্যমের স্বাধীনতা, দেশের সার্বভৌম সুরক্ষিত করাসহ দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই।’

মৎস্য ভবন থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউটের সামনে পর্যন্ত যতটি মিছিল গেছে, সবার মুখেই একটি স্লোগান ছিল খালেদার মুক্তি চাই। তবে নেতাকর্মীদের ভিড় শুধু রাস্তায় সীমাবদ্ধ ছিল না। তার রেশ ছড়িয়ে পড়েছিল রমনা পার্কের ভেতরেও। সেখানেও কয়েক হাজার নেতাকর্মী স্লোগান দিচ্ছিলেন।

প্রিয় সংবাদ/আজাদ/শান্ত