বিএফইউজে ও ডিইউজের লোগো

সম্প্রচার ও গণমাধ্যম কর্মী আইনে বিএফইউজে-ডিইউজের উদ্বেগ, বুধবার সমাবেশ

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে এ দু’টি আইনসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী ধারা বাতিলের দাবি জানান।

আবু আজাদ
সহ-সম্পাদক
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩০ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩০
প্রকাশিত: ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩০ আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০১৮, ১৮:৩০


বিএফইউজে ও ডিইউজের লোগো

(প্রিয়.কম) সম্প্রচার ও গণমাধ্যম কর্মী আইনের অনেক ধারা গণতন্ত্র, গণমাধ্যম, মৌলিক অধিকার ও সংবিধানবিরোধী মন্তব্য করে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে)।

১৬ অক্টোবর, মঙ্গলবার এক যৌথ বিবৃতিতে বিএফইউজে সভাপতি রুহুল আমিন গাজী ও মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ডিইউজে সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম এ উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানান।  

বিবৃতিতে বলা হয়, ‘সকল মহলের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে সংসদে পাস করা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী ধারাগুলো বাতিলের জন্য যখন সাংবাদিক সমাজ ও দেশের সম্মানিত সম্পাদকরা আন্দোলন করছেন, তখন সোমবার মন্ত্রিসভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছে সম্প্রচার আইন ও গণমাধ্যম কর্মী আইন। এ আইন দু’টিতে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ এমনকি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার মতো বিধান যুক্ত করা হয়েছে, যা চরম স্বৈরতান্ত্রিক মানসিকতার পরিচায়ক। গণমাধ্যম কর্মী আইনে সাংবাদিকদের ‘শ্রমিকের’ পরিবর্তে ‘গণমাধ্যম কর্মী’ হিসেবে অভিহিত করাসহ বেশ কিছু ইতিবাচক দিক থাকলেও আইন লঙ্ঘনের জন্য গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান বন্ধের বিধান অগ্রহণযোগ্য ও গভীর উদ্বেগজন। এটা সরকার ভিন্নমতের গণমাধ্যমের টুটি চেপে ধরার জন্য যথেচ্ছভাবে ব্যবহারের প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।’ 

বিবৃতিতে সাংবাদিক নেতারা বলেন, “সম্প্রচার ও অনলাইন মাধ্যমে যেসব বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে, তা অনুসরণ করে বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে। কারণ ‘সত্য-অসত্য’, ‘জনস্বার্থ বিঘ্নিত’, ‘সাংস্কৃতিক ভাবধারা’, ‘আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গে উৎসাহ’ ইত্যাদি শব্দগুলো সরকার তার দৃষ্টিকোণ থেকে দেখবে। তা ছাড়া বাংলাদেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও সরকারের আচরণে এটা স্পষ্ট যে, প্রকৃত পক্ষে সরকারের সমালোচনা, দুর্নীতির তথ্য প্রচার বা বিপক্ষে যায়, এমন বক্তব্য বন্ধ করতেই এ আইন।”

সাংবাদিক নেতারা অভিযোগ করেন, ‘আইনটি যে বিরোধী ও ভিন্নমতের লোকদের ক্ষেত্রেই কেবল প্রয়োগ হবে, তা-ও স্পষ্ট। এ ধরনের স্বৈরতান্ত্রিক আইন কোনো গণতান্ত্রিক সমাজে থাকতে পারে না। বিদ্বেষমূলক তথ্য প্রচারের জন্যও ৫ কোটি টাকা জরিমানা করার কথা বলা হয়েছে। যে কোনো সংবাদেই সরকার বিদ্বেষের উপাদান খুঁজে পেতে পারে। এটা গণতন্ত্র, বাকস্বাধীনতা ও সংবিধানের পরিপন্থী। সকলের কণ্ঠ স্তব্ধ করে ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী করার কুমতলবেই সরকার এমনটা করছে বলে আমরা মনে করি।’

নেতৃবৃন্দ বিবৃতিতে এ দু’টি আইনসহ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের গণমাধ্যম ও মত প্রকাশের স্বাধীনতাবিরোধী ধারা বাতিলের দাবি জানান।

সাংবাদিক নেতাদের দেওয়া একই বিবৃতিতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, সম্প্রচার আইনকে গণমাধ্যম ও কর্মীদের জন্য কালো আইন আখ্যা দিয়ে ১৭ অক্টোবর, বুধবার সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেন।

প্রিয় সংবাদ/শান্ত