ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

নুসরাতের সুরতহাল সম্পন্ন

নুসরাত প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না সে বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

মোক্তাদির হোসেন প্রান্তিক
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৩২ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৩২
প্রকাশিত: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৩২ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০১৯, ১৩:৩২


ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। ফাইল ছবি

(প্রিয়.কম) ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফির মরদেহের সুরতহাল সম্পন্ন হয়েছে।

১১ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টার কিছু পরে সুরতহাল সম্পন্ন হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন লেখেন শাহবাগ থানার এসএই শামছুর রহমান।

তিনি জানান, সুরতহাল করে দেওয়া হয়েছে। কিছু বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের পরামর্শের কথা উল্লেখ করা আছে সুরতহাল প্রতিবেদনে।

এসআই মোহাম্মদ শামছুর রহমান বলেন, ‘সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে গিয়ে স্ট্রেচারে শোয়ানো অবস্থায় নুসরাত জাহান রাফির মরদেহ দেখতে পাই। নুসরাতের চাচাতো ভাই মোহাম্মদ আলী (৩৫) তাকে শনাক্ত করেন। সাক্ষীদের উপস্থিতিতে আয়া চাঁন বিবির সহায়তায় মরদেহটি ওলট-পালট করে দেখা হয়।’

সুরতহাল প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- নুসরাতের বয়স ১৮ বছর। মাথার চুল কালো ও পোড়া, লম্বা অনুমান ১৮ ইঞ্চি। কপাল স্বাভাবিক। উভয় চোখ ও মুখ বন্ধ, নাক দিয়ে সাদা ময়লা বেরিয়ে এসেছে। মুখমণ্ডল গোলাকার, উভয় কান, থুতনি, গলা, ঘাড়সহ পোড়া ও ঝলসানো। উভয় হাতের আঙুল পর্যন্ত রাউন্ড গজ-ব্যান্ডেজ, যাতে পোড়া ঝলসানো। গলার নিচ থেকে বুক-পেট-পিঠ-যৌনাঙ্গ-মলদ্বারসহ উভয় পায়ের পাতা পর্যন্ত রাউন্ড গজ-ব্যান্ডেজ, যাতে পোড়া ঝলসানো। গায়ের রঙ ফর্সা, লম্বা অনুমান ৫ ফুট ২ ইঞ্চি। পরনে রাউন্ড-গজ ছাড়া কিছু নেই, সরকারি চাদর দিয়ে ঢাকা।

প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নুসরাতকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুর কারণ হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যু সনদে উল্লেখ থাকলেও নুসরাতের মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়। এ ছাড়াও সুরতহাল প্রতিবেদনে নুসরাত প্রকৃতপক্ষে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন কি না সে বিষয়ে ময়নাতদন্তকারী চিকিৎসকের মতামত জানতে চাওয়া হয়।

গত ৬ এপ্রিল সকাল অনুমান পৌনে ১০টায় ফেনী জেলার সোনাগাজী থানার সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদরাসার সাইক্লোন সেন্টার ভবনের ছাদে নুসরাত জাহানের গায়ে কেরোসিন অথবা পেট্রোল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দিলে অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারাত্মক আহত হন। আহত অবস্থায় লোকজন তাকে চিকিৎসার জন্য সোনাগাজী স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ফেনী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, সর্বশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য একই তারিখে অর্থাৎ ৬ এপ্রিল বিকেল ৩টায় ঢামেকের বার্ন ইউনিটের আইসিইউ ওয়ার্ডের রেড ইউনিটে এনে ভর্তি করা হয়।

সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরিকারী এসআই শামসুর রহমানের সঙ্গে হাসপাতালে এএসআই মিনারা খাতুন ও কনস্টেবল মো. রমজান আলীও উপস্থিত ছিলেন।

প্রিয় সংবাদ/রুহুল